খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img
Homeস্পোটস ওয়ার্ল্ডফিফা বিশ্বকাপ স্পেশালইংল্যান্ড বনাম নরওয়ে লাইভ: অতিরিক্ত সময়ের দ্বারপ্রান্তে রুদ্ধশ্বাস বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনাল

ইংল্যান্ড বনাম নরওয়ে লাইভ: অতিরিক্ত সময়ের দ্বারপ্রান্তে রুদ্ধশ্বাস বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনাল

ম্যাচের শেষভাগে নরওয়ের একটি ঢিলেঢালা থ্রো-ইন থেকে বল কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন বেলিংহাম। তবে হেগেম শেষ মুহূর্তে বিপদ সামলে দেন। পরে বল ক্লিয়ার হওয়ার সময় হেগেমের সঙ্গে সংঘর্ষে পড়েন ইংলিশ এই তারকা। ম্যাচের প্রতিটি মুহূর্তেই তিনি প্রতিপক্ষের জন্য বড় হুমকি হয়ে ছিলেন।

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ড ও নরওয়ের মধ্যকার লড়াই পরিণত হয়েছে এক অসাধারণ নাটকীয়তায়। নির্ধারিত সময়ের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত দুই দলই সমতায় থাকায় ম্যাচ গড়ানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে অতিরিক্ত সময়ে। একের পর এক আক্রমণ, বিতর্কিত গোল, ভিএআরের হস্তক্ষেপ এবং শেষ বাঁশি বাজার আগ পর্যন্ত টানটান উত্তেজনা—সব মিলিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের জন্য এটি হয়ে উঠেছে স্মরণীয় এক ম্যাচ।

ম্যাচের শুরু থেকেই নরওয়ে আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলতে থাকে। তাদের আক্রমণ ইংল্যান্ডের রক্ষণকে একাধিকবার চাপে ফেলে। সেই চাপের ফলও আসে। শেজদেরুপের করা গোল নরওয়েকে এগিয়ে দেয় এবং পুরো স্টেডিয়ামে উত্তেজনার পারদ আরও বাড়িয়ে তোলে।

যদিও গোলটি নিয়ে কিছুটা বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, তবুও রেফারি সেটিকে বৈধ ঘোষণা করেন। ফলে ইংল্যান্ডকে দ্রুত ম্যাচে ফেরার পথ খুঁজতে হয়।

চাপের মুহূর্তে আবারও দলের ভরসা হয়ে ওঠেন জুড বেলিংহাম। মাঝমাঠ থেকে আক্রমণে উঠে এসে তিনি দুর্দান্ত এক গোল করে ইংল্যান্ডকে সমতায় ফেরান। গোলের পর ইংলিশ সমর্থকদের উচ্ছ্বাসে যেন নতুন প্রাণ ফিরে আসে।

ম্যাচের শেষভাগে নরওয়ের একটি ঢিলেঢালা থ্রো-ইন থেকে বল কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন বেলিংহাম। তবে হেগেম শেষ মুহূর্তে বিপদ সামলে দেন। পরে বল ক্লিয়ার হওয়ার সময় হেগেমের সঙ্গে সংঘর্ষে পড়েন ইংলিশ এই তারকা। ম্যাচের প্রতিটি মুহূর্তেই তিনি প্রতিপক্ষের জন্য বড় হুমকি হয়ে ছিলেন।

নরওয়ে দ্বিতীয়বার বল জালে জড়িয়ে উদযাপন শুরু করেছিল। মনে হচ্ছিল ম্যাচে আবারও এগিয়ে গেছে তারা। কিন্তু ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (VAR) পুরো পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে।

রিপ্লেতে দেখা যায়, গোল হওয়ার আগে এরলিং হালান্ড ইংল্যান্ডের ডিফেন্ডার অ্যান্ডারসনকে ধাক্কা দিয়েছিলেন। সেই ফাউলের কারণে গোলটি বাতিল করে দেন রেফারি। এই সিদ্ধান্তে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে ইংল্যান্ড, আর নরওয়ের খেলোয়াড়রা হতাশ হয়ে পড়েন।

ম্যাচের শেষ দিকে মরগান রজার্স নিজের অসাধারণ লড়াকু মানসিকতার পরিচয় দেন। কর্নার ফ্ল্যাগের কাছে প্রতিপক্ষের সঙ্গে শক্ত লড়াই করে তিনি ইংল্যান্ডের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি থ্রো-ইন আদায় করেন।

এই মুহূর্তে গ্যালারিতে থাকা ইংল্যান্ডের সমর্থকেরা জোরালোভাবে দলকে উৎসাহ দিতে শুরু করেন। রজার্সও দুই হাত তুলে সমর্থকদের আরও উজ্জীবিত করেন, যা দলের মনোবল বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

যদিও জর্ডান হেন্ডারসন এই ম্যাচে মাঠে নামেননি, তবুও দলের প্রতি তার অবদান স্পষ্ট ছিল। টেকনিক্যাল এরিয়ার সামনে দাঁড়িয়ে তিনি মরগান রজার্সকে উৎসাহ দেন এবং সতীর্থদের নির্দেশনা দিতে থাকেন।

বিশ্বকাপজুড়ে তরুণ ফুটবলার জুড বেলিংহাম ও মরগান রজার্সের পাশে একজন অভিভাবকের মতো রয়েছেন হেন্ডারসন। দলের ভেতরে সবাই মজা করে তাকে ‘আঙ্কেল’ বলে ডাকেন। মাঠে না থেকেও তার নেতৃত্ব ও অভিজ্ঞতা ইংল্যান্ডকে বাড়তি আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে।

শেষ দিকে ইংল্যান্ড জয়ের সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিল। জন স্টোনস ও রিস জেমসের দারুণ ওয়ান-টু পাসের পর বক্সে দ্রুত ক্রস ভেসে আসে।

সেই বলের সঙ্গে দারুণভাবে সংযোগ করেন জুড বেলিংহাম। তার হেড গোলরক্ষককে পরাস্ত করলেও বল অল্পের জন্য দূরের পোস্ট ঘেঁষে বাইরে চলে যায়। ইংল্যান্ডের সমর্থকেরা হতাশায় মাথায় হাত দেন।

ম্যাচের শেষ মুহূর্তে নরওয়ের ডিফেন্ডার হেগেম পেশিতে টান অনুভব করে মাঠে বসে পড়েন। খেলা কিছুক্ষণ বন্ধ থাকায় দুই দলই নিজেদের কৌশল নতুন করে সাজানোর সুযোগ পায়।

রেফারি দ্বিতীয়ার্ধে সাত মিনিট অতিরিক্ত সময় যোগ করেন। ফলে শেষ কয়েক মিনিটে দুই দলই মরিয়া হয়ে জয়ের গোলের খোঁজে আক্রমণ চালায়।

নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত দুই দলই সমতায় থাকায় ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়। বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে এমন নকআউট ম্যাচে প্রতিটি মুহূর্তের গুরুত্ব অনেক বেশি।

যদি অতিরিক্ত সময়েও কোনো দল এগিয়ে যেতে না পারে, তাহলে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ হবে টাইব্রেকারে।

ম্যাচ চলাকালীন স্টেডিয়ামে ছিল দারুণ উৎসবের পরিবেশ। ইংল্যান্ডের সমর্থকেরা একটানা গান গেয়ে দলকে অনুপ্রাণিত করছিলেন। তাদের কণ্ঠে ভেসে আসে জনপ্রিয় স্লোগান, “Please Don’t Take Me Home”, যা ম্যাচের উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তোলে।

মজার বিষয় হলো, গ্যালারিতে শুধু ইংল্যান্ড বা নরওয়ের পতাকাই ছিল না। স্কটল্যান্ড, ব্রাজিল, সান মারিনো এবং হাঙ্গেরির পতাকাও চোখে পড়ে। এছাড়া উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মেক্সিকান সমর্থক ইংল্যান্ডের জার্সিধারীদের সমর্থন জানাতে উপস্থিত ছিলেন। অতীতের স্মরণীয় এক ম্যাচের পর ইংল্যান্ড ও মেক্সিকোর সমর্থকদের মধ্যে যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল, তারই প্রতিফলন দেখা যায় এই ম্যাচেও।

ইংল্যান্ড ও নরওয়ের এই কোয়ার্টার ফাইনাল বিশ্বকাপের অন্যতম রোমাঞ্চকর লড়াই হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। নরওয়ের সাহসী আক্রমণ, ইংল্যান্ডের দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন, জুড বেলিংহামের নেতৃত্ব, মরগান রজার্সের লড়াকু মানসিকতা এবং ভিএআরের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত—সব মিলিয়ে ম্যাচটি ছিল নাটকীয়তায় ভরপুর।

এখন ফুটবলপ্রেমীদের নজর অতিরিক্ত সময়ের দিকে। সেখানে কোন দল শেষ হাসি হাসবে, নাকি ম্যাচ গড়াবে টাইব্রেকারের ভাগ্যনির্ধারণী লড়াইয়ে—সেটাই দেখার অপেক্ষা।