খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img
Homeস্পোটস ওয়ার্ল্ডফিফা বিশ্বকাপ স্পেশালবেলিংহ্যামের দুর্দান্ত গোলে সমতায় ফিরল থ্রি লায়ন্স, বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনালে রোমাঞ্চ

বেলিংহ্যামের দুর্দান্ত গোলে সমতায় ফিরল থ্রি লায়ন্স, বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনালে রোমাঞ্চ

প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ের ঠিক আগে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন জুড বেলিংহ্যাম। বাঁ প্রান্ত দিয়ে দুর্দান্ত দৌড়ে উঠে আসেন অ্যান্থনি গর্ডন। তিনি সময়মতো নিচু ক্রসে বল বাড়িয়ে দেন বেলিংহ্যামের দিকে।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ড ও নরওয়ের মধ্যকার হাইভোল্টেজ ম্যাচে দর্শকরা উপভোগ করলেন নাটকীয় এক প্রথমার্ধ। শুরুতে বিতর্কিত এক গোলে পিছিয়ে পড়লেও শেষ মুহূর্তে জুড বেলিংহ্যামের অসাধারণ ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে সমতায় ফিরে আসে ইংল্যান্ড। যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামিতে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে বিরতিতে দুই দলের স্কোর দাঁড়ায় ১-১।

ম্যাচের প্রথমার্ধে ইংল্যান্ড বলের দখল বেশি রাখলেও গোলের দেখা পাচ্ছিল না। ঠিক সেই সময় নরওয়ের তরুণ আক্রমণভাগ সুযোগ কাজে লাগায়। অস্কার শেলদেরুপ বক্সের কিনারা থেকে একটি ক্রস করার চেষ্টা করেন। যদিও শটটি ঠিকমতো হয়নি, বলের অদ্ভুত গতিপথ ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ডকে পরাস্ত করে জালে জড়িয়ে যায়।

এই অপ্রত্যাশিত গোলে এগিয়ে যায় নরওয়ে এবং ইংল্যান্ডের ওপর বাড়তে থাকে চাপ।

গোল হজমের পরও ইংল্যান্ড প্রত্যাশিত আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে পারেনি। মাঝমাঠে ডেকলান রাইস ও জুড বেলিংহ্যাম বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখলেও শেষ তৃতীয়াংশে কার্যকর আক্রমণের অভাব ছিল স্পষ্ট।

হ্যারি কেইনও নরওয়ের শক্ত রক্ষণভাগের বিপক্ষে নিজেকে মেলে ধরতে পারছিলেন না। ফলে প্রথমার্ধের বেশিরভাগ সময় নরওয়েই আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে খেলতে থাকে।

প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ের ঠিক আগে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন জুড বেলিংহ্যাম। বাঁ প্রান্ত দিয়ে দুর্দান্ত দৌড়ে উঠে আসেন অ্যান্থনি গর্ডন। তিনি সময়মতো নিচু ক্রসে বল বাড়িয়ে দেন বেলিংহ্যামের দিকে।

পূর্ণ গতিতে ছুটে এসে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে বাঁ পায়ের নিখুঁত শটে নরওয়ের গোলরক্ষক অরিয়ান নিয়ল্যান্ডকে পরাস্ত করেন বেলিংহ্যাম। বল জড়িয়ে যায় দূরের কোণে।

এই গোলে ১-১ সমতায় ফেরে ইংল্যান্ড এবং স্টেডিয়ামে ফিরে আসে নতুন উদ্দীপনা।

বিশ্বকাপে বড় ম্যাচ মানেই যেন জুড বেলিংহ্যামের বিশেষ পারফরম্যান্স। মেক্সিকোর বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ গোল করার পর নরওয়ের বিপক্ষেও তিনি দলের ত্রাতা হয়ে ওঠেন।

ডান পা, বাঁ পা কিংবা হেড—সব ধরনের গোল করার সামর্থ্য দেখিয়ে তিনি প্রমাণ করছেন কেন বর্তমান বিশ্বের অন্যতম সেরা মিডফিল্ডার হিসেবে তাকে বিবেচনা করা হয়।

চাপের মুহূর্তে দায়িত্ব নেওয়ার অসাধারণ মানসিকতা আবারও তুলে ধরলেন রিয়াল মাদ্রিদের এই তারকা।

সমতায় ফেরার পর মুহূর্তেই দ্বিতীয় গোলের খুব কাছে চলে গিয়েছিল ইংল্যান্ড।

ডেকলান রাইস ও জুড বেলিংহ্যামের দারুণ সমন্বয়ে হ্যারি কেইন একা পেয়ে যান গোলরক্ষককে। ঠান্ডা মাথায় বল জালে পাঠালেও সহকারী রেফারির পতাকা ওঠে। রিপ্লেতে দেখা যায়, কেইন অল্প ব্যবধানে অফসাইডে ছিলেন।

ফলে গোলটি বাতিল হয় এবং ম্যাচ ১-১ অবস্থায়ই থাকে।

দ্বিতীয়ার্ধ শুরুর আগেই ইংল্যান্ড আক্রমণের গতি বাড়িয়ে দেয়। বেলিংহ্যাম মাঝমাঠ থেকে বল এগিয়ে দিয়ে কেইনকে সুযোগ তৈরি করে দেন।

প্রায় ৩০ গজ দূর থেকে নেওয়া কেইনের শক্তিশালী শট নিচের কোণে যাচ্ছিল। তবে নরওয়ের গোলরক্ষক অরিয়ান নিয়ল্যান্ড দারুণ দক্ষতায় বলটি ধরে ফেলেন।

এই সেভ নরওয়েকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বাঁ দিক দিয়ে অ্যান্থনি গর্ডনের দৌড় ও গতির সঙ্গে তাল মেলাতে হিমশিম খেতে হয় নরওয়ের রক্ষণভাগকে।

তার নিখুঁত পাস থেকেই আসে বেলিংহ্যামের সমতাসূচক গোল। পুরো প্রথমার্ধে ইংল্যান্ডের আক্রমণে সবচেয়ে প্রাণবন্ত ফুটবলার ছিলেন গর্ডন।

প্রথমার্ধের শেষে চার মিনিট অতিরিক্ত সময় যোগ করা হয়। ঠিক সেই সময়েই বেলিংহ্যামের গোল ইংল্যান্ডকে বড় ধাক্কা থেকে বাঁচিয়ে দেয়।

এই গোল না এলে বিরতিতে পিছিয়ে থেকেই ড্রেসিংরুমে ফিরতে হতো থ্রি লায়ন্সকে, যা তাদের আত্মবিশ্বাসে বড় প্রভাব ফেলতে পারত।

প্রথমার্ধের পারফরম্যান্সে নরওয়ে দেখিয়েছে তারা বড় দলকে চাপে ফেলতে সক্ষম। অন্যদিকে ইংল্যান্ড শেষ মুহূর্তে সমতায় ফিরে আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছে।

দ্বিতীয়ার্ধে জুড বেলিংহ্যাম, হ্যারি কেইন ও অ্যান্থনি গর্ডনের সমন্বিত আক্রমণ ইংল্যান্ডকে এগিয়ে নিতে পারে। তবে নরওয়েও পাল্টা আক্রমণে যে কোনো সময় বিপদ তৈরি করতে সক্ষম।

সব মিলিয়ে মিয়ামির এই কোয়ার্টার ফাইনাল এখন রূপ নিয়েছে শ্বাসরুদ্ধকর এক লড়াইয়ে, যেখানে একটি মুহূর্তই নির্ধারণ করে দিতে পারে কোন দল পৌঁছে যাবে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে।