ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর নকআউট পর্বে ইংল্যান্ড ও নরওয়ের মধ্যকার ম্যাচটি শুরু থেকেই ছিল উত্তেজনায় ভরপুর। দুই দলই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে এবং ম্যাচের প্রতিটি মুহূর্তে সমর্থকদের মধ্যে ছিল প্রবল উত্তেজনা। নরওয়ে একাধিকবার ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগে চাপ সৃষ্টি করলেও শেষ পর্যন্ত নাটকীয় সব ঘটনায় ম্যাচটি নতুন মোড় নেয়।
নরওয়ের অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ড আবারও নিজের অসাধারণ সৃজনশীলতার পরিচয় দেন। তার দারুণ স্কুপ পাসে আলেকজান্ডার সরলথ ইংল্যান্ডের রক্ষণ ভেঙে এগিয়ে যান। তিনি ডান প্রান্ত থেকে বিপজ্জনক ক্রসও ফিরিয়ে আনেন।
তবে আক্রমণটি শেষ পর্যন্ত সফল হয়নি। সহকারী রেফারি অফসাইডের পতাকা তুললে নরওয়ের সেই সম্ভাবনাময় সুযোগটি নষ্ট হয়ে যায়। ইংল্যান্ডের জন্য এটি ছিল বড় ধরনের স্বস্তির মুহূর্ত।
ইংল্যান্ড এই ম্যাচে অল্পের জন্য বিপদ এড়ালেও বিশ্বকাপ নকআউট পর্বে ইউরোপীয় দলের বিপক্ষে তাদের সাম্প্রতিক রেকর্ড মোটেও আশাব্যঞ্জক নয়।
পরিসংখ্যান বলছে, ইউরোপের প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে শেষ ছয়টি নকআউট ম্যাচের পাঁচটিতেই বিদায় নিতে হয়েছে ইংল্যান্ডকে। এর মধ্যে টানা শেষ তিনটি ম্যাচেই তারা পরাজিত হয়েছে। সর্বশেষ ২০২২ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্সের কাছে ২-১ ব্যবধানে হেরে টুর্নামেন্ট শেষ করতে হয়েছিল ইংলিশদের।
এই ইতিহাসের কারণে নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচটি ইংল্যান্ডের জন্য ছিল বাড়তি চাপের।
ম্যাচের একপর্যায়ে নরওয়ে এগিয়ে যায় শ্যেডেরুপের গোলে। দ্রুতগতির আক্রমণ থেকে তৈরি হওয়া সুযোগটি দারুণভাবে কাজে লাগিয়ে তিনি বল জালে পাঠান। গোলের পর নরওয়ের খেলোয়াড় ও সমর্থকদের উচ্ছ্বাস ছিল দেখার মতো।
তবে ইংল্যান্ড খুব বেশি সময় পিছিয়ে থাকেনি।
দলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে আবারও সামনে এসে দাঁড়ান জুড বেলিংহ্যাম। মাঝমাঠ থেকে আক্রমণে উঠে এসে দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে তিনি সমতা ফেরান।
বিশ্বকাপজুড়েই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে গোল করে ইংল্যান্ডকে উদ্ধার করার ধারাবাহিকতা বজায় রাখলেন এই মিডফিল্ড তারকা। তার গোলে ম্যাচে নতুন করে প্রাণ ফিরে পায় ইংল্যান্ড।
সমতা ফেরানোর পর আক্রমণের গতি আরও বাড়িয়ে দেয় ইংল্যান্ড। কিছুক্ষণ পর হ্যারি কেন বল জালে জড়িয়ে দলকে এগিয়ে দিয়েছেন বলে মনে হচ্ছিল।
কিন্তু উদযাপন বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। সহকারী রেফারি অফসাইডের সংকেত দিলে গোলটি বাতিল হয়ে যায়। ফলে ম্যাচে সমতা বজায় থাকে এবং নরওয়ে বড় ধাক্কা থেকে রক্ষা পায়।
ম্যাচের মাঝপথে নরওয়ের জন্য আরেকটি দুঃসংবাদ আসে। ডান প্রান্তের ডিফেন্ডার জুলিয়ান রাইয়ারসন চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন।
তার পরিবর্তে মাঠে নামেন ফ্রেডরিক আউরসন। ডান প্রান্তে নরওয়ের সমস্যাটি ধীরে ধীরে ইংল্যান্ডের একই ধরনের সমস্যার প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠতে শুরু করে।
ইংল্যান্ড গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড এদিন নিজের সেরা ছন্দে ছিলেন না। আগের ম্যাচে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করলেও নরওয়ের বিপক্ষে তাকে বেশ নার্ভাস দেখা যায়।
তার একাধিক ভুল সিদ্ধান্তের কারণে নরওয়ে পরপর কর্নারের সুযোগ পায়। একটি কর্নার থেকে বল প্রতিহত করলেও সেটি বিপজ্জনক এলাকায় ফিরে আসে। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে হেগেম বল জালে পাঠান।
মুহূর্তের জন্য মনে হচ্ছিল নরওয়ে আবারও এগিয়ে গেছে।
গোলটি পর্যালোচনার জন্য ভিএআরের সাহায্য নেন ম্যাচ কর্মকর্তারা। রিপ্লেতে দেখা যায়, কর্নারের সময় এরলিং হালান্ড প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডার অ্যান্ডারসনকে ধাক্কা দিয়ে ফাউল করেন। সেই ফাউলের ফলেই রক্ষণভাগে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছিল।
ভিএআরের সুপারিশে রেফারি গোলটি বাতিল করেন। ফলে ইংল্যান্ড বড় ধরনের বিপদ থেকে রক্ষা পায় এবং স্কোরলাইন অপরিবর্তিত থাকে।
ম্যাচ যত এগোচ্ছে, দুই দলই জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে উঠছে। ইংল্যান্ড বল দখলে এগিয়ে থাকলেও নরওয়ে দ্রুত পাল্টা আক্রমণে প্রতিনিয়ত হুমকি সৃষ্টি করছে।
বেলিংহ্যামের নেতৃত্বে ইংল্যান্ড জয়ের গোল খুঁজছে, অন্যদিকে ওডেগার্ড ও হালান্ডের সমন্বয়ে নরওয়েও প্রতিটি আক্রমণে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখছে।
বিশ্বকাপ ২০২৬-এর এই হাইভোল্টেজ লড়াইয়ে শেষ বাঁশি বাজার আগে যে কোনো মুহূর্তে ম্যাচের ভাগ্য বদলে যেতে পারে। দুই দলের সমর্থকরাই এখন অপেক্ষায় আছেন শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তার, যেখানে একটি গোলই নির্ধারণ করে দিতে পারে কে উঠবে পরবর্তী রাউন্ডে।

