খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img
Homeবিজ্ঞান ও প্রযুক্তিওপেন এআইএআই কি চাকরির সবচেয়ে বড় শত্রু? ১ লক্ষ ৩০ হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের...

এআই কি চাকরির সবচেয়ে বড় শত্রু? ১ লক্ষ ৩০ হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের নেপথ্যে চাঞ্চল্যকর সত্য!

সাম্প্রতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে গত এক বছরে চীনের প্রযুক্তি খাতে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার কর্মী চাকরি হারিয়েছেন। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের কার্যক্রমে ব্যাপকভাবে এআই সংযুক্ত করার ফলে বহু পদ অপ্রয়োজনীয় হয়ে পড়েছে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (Artificial Intelligence) এখন প্রযুক্তি বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলোর একটি। গত কয়েক বছরে এআই এমনভাবে উন্নত হয়েছে যে এটি মানুষের বহু জটিল ও সময়সাপেক্ষ কাজ কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই সম্পন্ন করতে পারছে। ফলে উৎপাদনশীলতা যেমন বেড়েছে, তেমনি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালন ব্যয়ও কমেছে। তবে এই অগ্রগতির পাশাপাশি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নও সামনে এসেছে—এআই কি সত্যিই মানবজাতির জন্য আশীর্বাদ, নাকি এটি লাখো মানুষের কর্মসংস্থানের জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে উঠছে?

বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো এখন দ্রুত এআই-নির্ভর কার্যক্রমে ঝুঁকছে। এর ফলে একদিকে নতুন প্রযুক্তির বিকাশ ঘটছে, অন্যদিকে বহু দক্ষ কর্মী চাকরি হারানোর আশঙ্কায় পড়ছেন। সাম্প্রতিক সময়ে এই উদ্বেগ আরও বেড়েছে, বিশেষ করে চীনের প্রযুক্তি খাতে ব্যাপক কর্মী ছাঁটাইয়ের খবর প্রকাশ পাওয়ার পর।

বর্তমানে সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট, কাস্টমার সার্ভিস, ডেটা বিশ্লেষণ, কনটেন্ট তৈরি, অনুবাদ, কোডিং, ডিজাইন এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজেও এআই ব্যবহৃত হচ্ছে। আগে যেসব কাজ সম্পন্ন করতে একটি বড় টিমের প্রয়োজন হতো, এখন সেসব কাজ অনেক ক্ষেত্রেই অল্প কয়েকজন কর্মী এবং এআই টুলের সাহায্যে করা সম্ভব হচ্ছে।

প্রতিষ্ঠানগুলোর দৃষ্টিকোণ থেকে এটি লাভজনক। কারণ এতে সময় বাঁচে, উৎপাদনশীলতা বাড়ে এবং পরিচালন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। কিন্তু একই সঙ্গে কমে যাচ্ছে মানবসম্পদের চাহিদা।

একসময় কোনো কোম্পানি আর্থিক সংকট বা ব্যবসায়িক ক্ষতির কারণে কর্মী ছাঁটাই করত। এখন পরিস্থিতি অনেকটাই বদলে গেছে। অনেক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান তাদের কার্যক্রম আরও দক্ষ এবং লাভজনক করার লক্ষ্যে এআই ব্যবহার করছে। ফলে একই কাজ কম সংখ্যক কর্মী দিয়েই সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে।

এই বাস্তবতায় অনেক প্রতিষ্ঠান উচ্চ বেতনের কর্মীদের পরিবর্তে এআই-ভিত্তিক সমাধানের দিকে ঝুঁকছে। ফলে হাজার হাজার প্রযুক্তিকর্মী চাকরি হারাচ্ছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী কয়েক বছরে এই প্রবণতা আরও বাড়তে পারে।

সাম্প্রতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে গত এক বছরে চীনের প্রযুক্তি খাতে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার কর্মী চাকরি হারিয়েছেন। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের কার্যক্রমে ব্যাপকভাবে এআই সংযুক্ত করার ফলে বহু পদ অপ্রয়োজনীয় হয়ে পড়েছে।

অনেক সংস্থা সরাসরি জানিয়েছে, আগে যেসব দায়িত্ব পালনের জন্য বড় টিমের প্রয়োজন হতো, এখন সেই কাজ এআই-নির্ভর ব্যবস্থায় অনেক দ্রুত এবং কম খরচে সম্পন্ন করা যাচ্ছে। তাই কর্মী সংখ্যা কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এই ঘটনা শুধু চীনের জন্য নয়, বরং বৈশ্বিক প্রযুক্তি শিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে।

শুধু চীন নয়, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো ধীরে ধীরে এআইকে তাদের ব্যবসার কেন্দ্রে নিয়ে আসছে। সফটওয়্যার উন্নয়ন, গ্রাহকসেবা, হিসাবরক্ষণ এবং বিভিন্ন অফিস পরিচালনার কাজে এআই ব্যবহারের পরিমাণ দ্রুত বাড়ছে।

এর ফলে অনেক প্রতিষ্ঠানে নতুন নিয়োগের হার কমেছে। আবার কিছু ক্ষেত্রে বিদ্যমান কর্মীদের সংখ্যাও কমানো হচ্ছে। যদিও একই সঙ্গে এআই বিশেষজ্ঞ, ডেটা সায়েন্টিস্ট, মেশিন লার্নিং ইঞ্জিনিয়ার এবং সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের চাহিদা বেড়েছে।

এই প্রশ্নের উত্তর এককভাবে দেওয়া কঠিন। এআই অনেক প্রচলিত কাজের ধরন বদলে দিচ্ছে, তবে একই সঙ্গে নতুন ধরনের কর্মসংস্থানও তৈরি করছে।

যেসব কাজ বারবার একই নিয়মে করতে হয়, সেসব ক্ষেত্রে এআই মানুষের বিকল্প হয়ে উঠছে। কিন্তু যেসব কাজে সৃজনশীলতা, নেতৃত্ব, মানবিক সিদ্ধান্ত, সমস্যা সমাধান এবং বাস্তব অভিজ্ঞতার প্রয়োজন, সেখানে এখনও মানুষের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তাই অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন, ভবিষ্যতে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে কর্মীদের নতুন প্রযুক্তি শেখা এবং দক্ষতা বাড়ানোর বিকল্প নেই।

বিশ্ব অর্থনীতি দ্রুত ডিজিটাল রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আগামী দিনের চাকরির বাজারে শুধু ডিগ্রি নয়, প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং নিয়মিত নতুন কিছু শেখার মানসিকতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

এআই ব্যবহার করতে জানেন এমন কর্মীদের চাহিদা বাড়বে। পাশাপাশি ডেটা বিশ্লেষণ, ক্লাউড কম্পিউটিং, সাইবার সিকিউরিটি, রোবোটিক্স এবং এআই ব্যবস্থাপনার মতো ক্ষেত্রেও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে পারে।

অন্যদিকে যারা পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিতে পারবেন না, তাদের জন্য চাকরির বাজার আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

এআইকে সম্পূর্ণ আশীর্বাদ কিংবা সম্পূর্ণ অভিশাপ—কোনোটিই বলা যায় না। এটি এমন একটি প্রযুক্তি, যা ব্যবহারের ওপর নির্ভর করে সমাজ ও অর্থনীতিতে ইতিবাচক কিংবা নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

একদিকে এআই স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, গবেষণা এবং শিল্প উৎপাদনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিচ্ছে। অন্যদিকে এটি প্রচলিত অনেক চাকরির ধরন বদলে দিচ্ছে এবং কর্মসংস্থান নিয়ে উদ্বেগও বাড়াচ্ছে।

সঠিক নীতি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি থাকলে এআই মানবসভ্যতার জন্য বড় সুযোগ হয়ে উঠতে পারে। কিন্তু এই পরিবর্তনের জন্য সরকার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, প্রযুক্তি সংস্থা এবং কর্মীদের সমন্বিত প্রস্তুতি জরুরি।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অগ্রযাত্রা থেমে থাকার নয়। প্রযুক্তির এই পরিবর্তন বিশ্বজুড়ে কর্মসংস্থানের ধরন বদলে দিচ্ছে। চীনে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার প্রযুক্তিকর্মীর চাকরি হারানোর ঘটনা সেই পরিবর্তনের একটি বড় উদাহরণ। ভবিষ্যতে আরও অনেক প্রতিষ্ঠান এআই-নির্ভর কার্যক্রম বাড়াতে পারে।

তাই সময়ের দাবি হলো নতুন প্রযুক্তি সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন, দক্ষতা উন্নয়ন এবং পরিবর্তিত চাকরির বাজারের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেওয়া। এআইকে প্রতিপক্ষ হিসেবে নয়, বরং একটি শক্তিশালী প্রযুক্তিগত বাস্তবতা হিসেবে গ্রহণ করেই ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত হওয়াই হবে সবচেয়ে কার্যকর পথ।