খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img
Homeস্পোটস ওয়ার্ল্ডফিফা বিশ্বকাপ স্পেশালবিশ্বকাপ ফাইনালের মাঠের ঘাস বিক্রি করবে ফিফা! এক টুকরোর দাম শুনলে অবাক...

বিশ্বকাপ ফাইনালের মাঠের ঘাস বিক্রি করবে ফিফা! এক টুকরোর দাম শুনলে অবাক হবেন

ফিফার ভাষ্য অনুযায়ী, এটি ফুটবল ইতিহাসের একটি বাস্তব অংশ, যা বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া আসরের স্মৃতি বহন করবে। যারা সংগ্রহযোগ্য ক্রীড়া সামগ্রী ভালোবাসেন, তাদের জন্য এটি হতে পারে বিশেষ আকর্ষণের একটি পণ্য।

বিশ্বকাপ শুধু একটি ফুটবল টুর্নামেন্ট নয়, এটি কোটি কোটি মানুষের আবেগ, স্মৃতি ও ইতিহাসের নাম। প্রতি আসরেই এমন কিছু মুহূর্ত তৈরি হয়, যা বছরের পর বছর ধরে ফুটবলপ্রেমীদের মনে গেঁথে থাকে। সেই আবেগকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিতে এবার অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে ফিফা। ২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালে ব্যবহৃত মাঠের আসল ঘাস ছোট ছোট অংশে সংরক্ষণ করে বিক্রি করার ঘোষণা দিয়েছে সংস্থাটি।

এই উদ্যোগের মাধ্যমে ফুটবলপ্রেমীরা নিজেদের সংগ্রহে রাখতে পারবেন বিশ্বকাপ ফাইনালের মাঠের একটি বাস্তব অংশ। তবে এর দাম এবং বিক্রির নিয়ম সামনে আসতেই শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা।

আগামী ১৯ জুলাই নিউ জার্সির বিখ্যাত মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে বিশ্বকাপের বহুল প্রতীক্ষিত ফাইনাল। যে দল এই ম্যাচে জয় পাবে, তারাই বিশ্ব ফুটবলের নতুন চ্যাম্পিয়ন হিসেবে ইতিহাসে নাম লেখাবে।

এই ঐতিহাসিক ম্যাচের স্মৃতিকে আরও বিশেষ করে তুলতেই ফিফা সিদ্ধান্ত নিয়েছে মাঠের ব্যবহৃত প্রাকৃতিক ঘাস সংরক্ষণ করে সংগ্রহযোগ্য স্মারক হিসেবে বিক্রি করবে। ফলে শুধুমাত্র ম্যাচ দেখেই নয়, সেই মাঠের একটি বাস্তব অংশও নিজের কাছে রাখার সুযোগ পাবেন নির্বাচিত ক্রেতারা।

ফিফার ঘোষণায় জানানো হয়েছে, মাঠের প্রতিটি সংরক্ষিত ঘাসের টুকরোর মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৫০ মার্কিন ডলার। ভারতীয় মুদ্রায় যার মূল্য প্রায় ৪৩ হাজার টাকা। বাংলাদেশি মুদ্রায় হিসাব করলে এর পরিমাণ আরও বেশি।

দাম ঘোষণার পর অনেক ফুটবলপ্রেমী বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। কারণ এটি শুধুমাত্র একটি ঘাসের টুকরো নয়, বরং বিশ্বকাপ ফাইনালের একটি স্মারক হিসেবে বিক্রি করা হচ্ছে।

ফিফা জানিয়েছে, প্রতিটি সংরক্ষিত ঘাসের অংশের মাপ হবে ১৭.৫ × ১৭.৫ × ১৭.৭। তবে এই পরিমাপটি ইঞ্চি, সেন্টিমিটার নাকি মিলিমিটারে দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে এখনও কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেয়নি সংস্থাটি।

এই অস্পষ্টতার কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এবং বিভিন্ন ফুটবল ফোরামে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন। ক্রেতারা জানতে চাইলেও এখন পর্যন্ত ফিফা এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ব্যাখ্যা প্রকাশ করেনি।

ফিফার ওয়েবসাইটে জানানো হয়েছে, প্রতিটি ঘাসের টুকরো উচ্চমানের স্বচ্ছ অ্যাক্রিলিকের মধ্যে স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা হবে। ফলে এটি শুধু একটি ঘাসের অংশ নয়, বরং একটি প্রিমিয়াম সংগ্রহযোগ্য স্মারক হিসেবে দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে।

ফিফার ভাষ্য অনুযায়ী, এটি ফুটবল ইতিহাসের একটি বাস্তব অংশ, যা বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া আসরের স্মৃতি বহন করবে। যারা সংগ্রহযোগ্য ক্রীড়া সামগ্রী ভালোবাসেন, তাদের জন্য এটি হতে পারে বিশেষ আকর্ষণের একটি পণ্য।

ফিফা জানিয়েছে, বিশ্বকাপ ফাইনাল শেষ হওয়ার পর মাঠ থেকে ঘাস সংগ্রহ, সংরক্ষণ এবং প্যাকেজিংয়ের কাজ সম্পন্ন করা হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে ক্রেতাদের কাছে পাঠানো শুরু হবে।

অর্থাৎ ফাইনাল শেষ হওয়ার আগেই কেউ এই স্মারক হাতে পাবেন না। পুরো প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই সরবরাহ শুরু হবে।

তবে এই উদ্যোগে একটি বড় সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। আপাতত শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বাসিন্দারাই এই স্মারক কেনার সুযোগ পাবেন।

এশিয়া, আফ্রিকা, দক্ষিণ আমেরিকা কিংবা বিশ্বের অন্য অঞ্চলের ফুটবলপ্রেমীরা আপাতত এই বিশেষ সংগ্রহযোগ্য সামগ্রী কিনতে পারবেন না। ফিফার এমন সিদ্ধান্তে অনেক সমর্থক হতাশা প্রকাশ করেছেন। অনেকেই মনে করছেন, বিশ্বকাপ যেহেতু বৈশ্বিক আসর, তাই স্মারক বিক্রিতেও সব দেশের সমর্থকদের সমান সুযোগ দেওয়া উচিত ছিল।

বিশ্বকাপ ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে অবস্থিত মেটলাইফ স্টেডিয়ামে। এই স্টেডিয়াম মূলত এনএফএলের নিউ ইয়র্ক জায়ান্টস ও নিউ ইয়র্ক জেটস দলের হোম ভেন্যু।

স্টেডিয়ামটিতে সাধারণত কৃত্রিম টার্ফ ব্যবহার করা হয়। তবে বিশ্বকাপের নিয়ম অনুযায়ী ফুটবল ম্যাচের জন্য সেখানে অস্থায়ীভাবে প্রাকৃতিক ঘাস বসানো হয়েছে।

এই ঘাসের মান নিয়ে টুর্নামেন্টের শুরুতে বেশ বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। একাধিক খেলোয়াড় ও কোচ অভিযোগ করেছিলেন, মাঠের ঘাস প্রত্যাশিত মানের নয় এবং এতে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স ও নিরাপত্তা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

যদিও পরে মাঠের অবস্থা উন্নত করার জন্য আয়োজকদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

বিশ্বকাপকে ঘিরে ফিফার আয়ের বড় উৎস টিকিট, সম্প্রচার স্বত্ব, স্পনসরশিপ এবং লাইসেন্সপ্রাপ্ত পণ্য বিক্রি। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলো ফাইনালের মাঠের ঘাস।

বিশ্বজুড়ে স্মারক সংগ্রহকারীদের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। ঐতিহাসিক ম্যাচে ব্যবহৃত বল, জার্সি কিংবা বুটের মতোই মাঠের আসল ঘাসও অনেকের কাছে অমূল্য সংগ্রহে পরিণত হতে পারে। সেই আগ্রহকেই কাজে লাগিয়ে নতুন আয়ের সুযোগ তৈরি করেছে ফিফা।

ফিফার এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ভক্তদের মতামত দুই ভাগে বিভক্ত। একদল মনে করছেন, বিশ্বকাপের ইতিহাসের একটি অংশ নিজের সংগ্রহে রাখার সুযোগ নিঃসন্দেহে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ।

অন্যদিকে অনেকে মনে করছেন, একটি ছোট ঘাসের টুকরোর জন্য ৪৫০ ডলার মূল্য অত্যন্ত বেশি। পাশাপাশি বিশ্বের অধিকাংশ দেশের সমর্থকদের এই সুযোগ থেকে বঞ্চিত করায় সমালোচনাও বাড়ছে।

বিশ্বকাপ ফাইনালের মাঠের ঘাস বিক্রির সিদ্ধান্ত ফুটবল বিশ্বে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এটি যেমন ফুটবলপ্রেমীদের জন্য একটি বিরল সংগ্রহের সুযোগ, তেমনি ফিফার জন্যও নতুন বাণিজ্যিক উদ্যোগ। তবে উচ্চ মূল্য, সীমিত বিক্রি এবং বিতরণে বৈষম্যের কারণে বিষয়টি বিতর্কেরও জন্ম দিয়েছে। শেষ পর্যন্ত এই উদ্যোগ কতটা সফল হবে, তা নির্ভর করবে বিশ্বের ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহ এবং ফিফার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার ওপর।