আর্জেন্টিনা ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে সুইজারল্যান্ডকে চাপে ফেলে দেয়। ম্যাচের মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যেই লিওনেল মেসির নিখুঁত কর্নার থেকে অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের দুর্দান্ত হেডে এগিয়ে যায় বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। শুরুতেই গোল পেয়ে আত্মবিশ্বাস আরও বেড়ে যায় লিওনেল স্কালোনির দলের।
তবে গোল হজম করার পরও সুইজারল্যান্ড ভেঙে পড়েনি। বরং দ্রুত নিজেদের গুছিয়ে নিয়ে পাল্টা আক্রমণে যায় তারা। দুই দলের লড়াইয়ে শুরু থেকেই দেখা যায় গতি, আগ্রাসন এবং একের পর এক আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ।
ম্যাচের প্রথম থেকেই বলের দখল নিজেদের কাছে রাখার চেষ্টা করে আর্জেন্টিনা। দ্রুত পাসিং এবং উইং ব্যবহার করে একের পর এক সুযোগ তৈরি করতে থাকে তারা। এরই ধারাবাহিকতায় টানা দুটি কর্নার আদায় করে আলবিসেলেস্তেরা।
প্রথম কর্নারটি সুইজারল্যান্ডের রক্ষণভাগ সফলভাবে ক্লিয়ার করতে সক্ষম হয়। কিন্তু দ্বিতীয় সুযোগে আর ভুল করেননি লিওনেল মেসি। তার দারুণভাবে নেওয়া কর্নার বক্সের ভেতরে নিখুঁতভাবে পৌঁছে যায় অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের কাছে। মাঝমাঠের এই তারকা শক্তিশালী হেডে বল জালে পাঠিয়ে আর্জেন্টিনাকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন।
গোলের পর পুরো স্টেডিয়ামে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে। সতীর্থদের সঙ্গে গোল উদযাপনে মেতে ওঠেন ম্যাক অ্যালিস্টার, আর মেসিও তার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অ্যাসিস্ট যোগ করেন নিজের নামের পাশে।
পিছিয়ে পড়লেও আত্মসমর্পণ করেনি সুইজারল্যান্ড। বরং আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে তারা। দ্রুত বল কেড়ে নিয়ে কাউন্টার অ্যাটাকের মাধ্যমে আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগে চাপ তৈরি করার চেষ্টা করে সুইস ফুটবলাররা।
মাঝমাঠে বলের দখল নিয়ে দুই দলের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা যায়। সুইজারল্যান্ডের ফরোয়ার্ডরা বারবার সুযোগ তৈরি করতে চাইলেও আর্জেন্টিনার অভিজ্ঞ ডিফেন্ডাররা পরিস্থিতি দক্ষতার সঙ্গে সামাল দেন।
লিওনেল স্কালোনির দল ম্যাচের প্রথম বাঁশি থেকেই আক্রমণের পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নামে। ডি পল, এনজো ফার্নান্দেজ এবং পারেদেস মাঝমাঠে দারুণ সমন্বয় গড়ে তোলেন। তাদের দ্রুত পাসিংয়ের মাধ্যমে মেসি ও হুলিয়ান আলভারেজ নিয়মিত সুইস ডিফেন্সে চাপ সৃষ্টি করেন।
বিশেষ করে ডান ও বাম প্রান্ত ব্যবহার করে আক্রমণ গড়ে তোলায় আর্জেন্টিনার গতি ছিল চোখে পড়ার মতো। এই ধারাবাহিক চাপের ফল হিসেবেই আসে ম্যাচের প্রথম গোল।
এই ম্যাচে আর্জেন্টিনার ফুটবলাররা কালো বাহুবন্ধনী পরে মাঠে নামেন। এর মাধ্যমে তারা শ্রদ্ধা জানান দেশের সাবেক কিংবদন্তি ফুটবলার আন্তোনিও রাতিনকে।
৮৯ বছর বয়সে প্রয়াত হওয়া রাতিন আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নাম। তিনি ১৯৬২ ও ১৯৬৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপে দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন। তার অবদানের প্রতি সম্মান জানাতেই পুরো দল কালো বাহুবন্ধনী ধারণ করে ম্যাচ খেলেছে।
স্টেডিয়ামে উপস্থিত দর্শকরাও কিংবদন্তি এই ফুটবলারের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানান করতালির মাধ্যমে।
এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে কোচ লিওনেল স্কালোনি আগের ম্যাচের সফল একাদশেই আস্থা রাখেন। দলে কোনো পরিবর্তন না এনে একই খেলোয়াড়দের মাঠে নামান তিনি।
কোচের এই সিদ্ধান্ত থেকেই স্পষ্ট ছিল, সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে তিনি সন্তুষ্ট এবং একই ছন্দ ধরে রাখতে চান। শুরুতেই গোল পাওয়া তার সেই সিদ্ধান্তকে আরও সঠিক প্রমাণ করে।
গোলরক্ষক হিসেবে ছিলেন এমিলিয়ানো মার্টিনেজ।
রক্ষণভাগে খেলেছেন নাহুয়েল মোলিনা, ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো, লিসান্দ্রো মার্টিনেজ এবং নিকোলাস ট্যাগলিয়াফিকো।
মাঝমাঠে দায়িত্ব পালন করেছেন রদ্রিগো ডি পল, এনজো ফার্নান্দেজ, লিয়ান্দ্রো পারেদেস এবং অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার।
আক্রমণভাগে ছিলেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি ও হুলিয়ান আলভারেজ।
ম্যাচের শুরুতেই মেসি ও ম্যাক অ্যালিস্টারের সমন্বয় আর্জেন্টিনার আক্রমণকে আরও কার্যকর করে তোলে। কর্নার থেকে গোলের মুহূর্তটি শুধু নিখুঁত পরিকল্পনারই নয়, বরং দুই ফুটবলারের অসাধারণ বোঝাপড়ারও প্রমাণ।
মেসির সঠিক ডেলিভারি এবং ম্যাক অ্যালিস্টারের নিখুঁত টাইমিং সুইজারল্যান্ডের রক্ষণকে অসহায় করে দেয়। এই গোলের পর আর্জেন্টিনা আরও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ম্যাচ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালিয়ে যায়।
শুরুতেই গোল হলেও ম্যাচের গতি একটুও কমেনি। আর্জেন্টিনা নিজেদের লিড বাড়ানোর চেষ্টা করেছে, অন্যদিকে সুইজারল্যান্ড সমতায় ফেরার জন্য ধারাবাহিকভাবে আক্রমণ চালিয়ে গেছে।
দুই দলের আক্রমণাত্মক মানসিকতা, দ্রুতগতির ফুটবল এবং মাঝমাঠের লড়াই ম্যাচটিকে শুরু থেকেই দর্শকদের জন্য দারুণ উপভোগ্য করে তোলে। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এগিয়ে থাকলেও সুইজারল্যান্ডের প্রতিরোধ স্পষ্ট করে দেয়, ম্যাচের বাকি সময়ে উত্তেজনা আরও বাড়তে চলেছে।

