খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img

কনসার্টের মঞ্চেই বাগদানের ঘোষণা গায়িকা জেসমিন স্যান্ডলাস’র

ভারতের জনপ্রিয় পাঞ্জাবি গায়িকা জেসমিন স্যান্ডলাস আবারও আলোচনার কেন্দ্রে। সাম্প্রতিক সময়ে ‘ধুরন্ধর’ সিনেমার ‘শরারত’ ও ‘যাইয়ে সজনা’ গানের সাফল্যের পর তিনি নতুন করে দর্শক-শ্রোতাদের...
Homeবিনোদনকনসার্টের মঞ্চেই বাগদানের ঘোষণা গায়িকা জেসমিন স্যান্ডলাস'র

কনসার্টের মঞ্চেই বাগদানের ঘোষণা গায়িকা জেসমিন স্যান্ডলাস’র

দর্শকদের সঙ্গে তার আনুষ্ঠানিক পরিচয় করিয়ে দিয়ে গায়িকা জানান, এই মানুষটিই তার আঙুলে আংটি পরিয়েছেন এবং তিনিই তার জীবনের সবচেয়ে আপন মানুষ।

ভারতের জনপ্রিয় পাঞ্জাবি গায়িকা জেসমিন স্যান্ডলাস আবারও আলোচনার কেন্দ্রে। সাম্প্রতিক সময়ে ‘ধুরন্ধর’ সিনেমার ‘শরারত’ ও ‘যাইয়ে সজনা’ গানের সাফল্যের পর তিনি নতুন করে দর্শক-শ্রোতাদের হৃদয় জয় করেছেন। ঠিক এমন সময়েই নিজের সংগীত সফরের উদ্বোধনী কনসার্টে ভক্তদের জন্য নিয়ে এলেন এক চমকপ্রদ সুখবর। হাজারো দর্শকের সামনে প্রকাশ্যে জানিয়ে দিলেন, তিনি জীবনের নতুন অধ্যায়ে পা রাখতে চলেছেন। কনসার্টের মঞ্চেই বাগদানের ঘোষণা দিয়ে তিনি শুধু উপস্থিত দর্শকদের নয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন।

শনিবার নয়াদিল্লির যশোভূমি কনভেনশন সেন্টারে শুরু হয় জেসমিন স্যান্ডলাসের বহুল প্রতীক্ষিত ‘দ্য ড্রিম গার্ল ইন্ডিয়া ট্যুর’। কনসার্টের শুরু থেকেই দর্শকদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। একের পর এক জনপ্রিয় গান পরিবেশন করে তিনি যখন পুরো পরিবেশ মাতিয়ে তুলেছেন, ঠিক তখনই সবাইকে অবাক করে নিজের বাম হাতের আঙুলে থাকা আংটি দর্শকদের দেখান।

এরপর হাসিমুখে তিনি ঘোষণা দেন, তার বাগদান সম্পন্ন হয়েছে। মুহূর্তেই পুরো অডিটোরিয়াম করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে। ভক্তদের জন্য এটি ছিল সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত, তবে আনন্দঘন একটি মুহূর্ত।

বাগদানের খবর জানিয়েই জেসমিন মঞ্চে ডেকে আনেন তার হবু জীবনসঙ্গী শেখর চৌধুরীকে। উপস্থিত দর্শকদের সঙ্গে তার আনুষ্ঠানিক পরিচয় করিয়ে দিয়ে গায়িকা জানান, এই মানুষটিই তার আঙুলে আংটি পরিয়েছেন এবং তিনিই তার জীবনের সবচেয়ে আপন মানুষ।

আবেগঘন কণ্ঠে নিজের অনুভূতির কথা বলতে গিয়ে জেসমিন স্পষ্ট করে জানান, ব্যক্তিগত জীবনের এই সুখবর তিনি প্রথমেই নিজের ভক্তদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে চেয়েছেন। তার কথায় এবং অভিব্যক্তিতে ফুটে ওঠে ভালোবাসা, বিশ্বাস এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন স্বপ্নের প্রতিফলন।

ঘোষণার পর মুহূর্তেই পরিবেশ আরও আনন্দময় হয়ে ওঠে। জেসমিন ছুটে গিয়ে শেখরকে জড়িয়ে ধরেন। দর্শকদের করতালির মধ্যে দুজনে একসঙ্গে জেসমিনের জনপ্রিয় গান ‘লাভান’-এর তালে নাচ পরিবেশন করেন।

এই রোমান্টিক মুহূর্ত পুরো কনসার্টকে অন্য মাত্রা দেয়। দর্শকেরাও দাঁড়িয়ে করতালি দিয়ে তাদের অভিনন্দন জানান। অনুষ্ঠান শেষে শেখর ভালোবাসার প্রতীক হিসেবে জেসমিনকে কোলে তুলে নেন। পরে মঞ্চ ছাড়ার আগে দূর থেকে একটি ফ্লাইং কিস ছুড়ে দেন। এত ভালোবাসা আর আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন জেসমিন, যার কারণে তার চোখে জলও দেখা যায়।

কনসার্টে উপস্থিত অনেক দর্শক মোবাইল ফোনে পুরো ঘটনাটি ধারণ করেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই ভিডিওগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। অসংখ্য ভক্ত শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাতে শুরু করেন।

অনেকেই মন্তব্য করেন, এটি শুধু একটি কনসার্ট ছিল না; বরং একজন শিল্পীর জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা প্রত্যক্ষ করার বিরল সুযোগ ছিল। অনেক ভক্ত এই ঘোষণাকে বছরের অন্যতম স্মরণীয় সংগীতমুহূর্ত বলেও অভিহিত করেন।

গত কয়েক বছরে জেসমিন স্যান্ডলাস আবারও নিজের অবস্থান শক্ত করেছেন। বিশেষ করে ‘ধুরন্ধর’ সিনেমার ‘শরারত’ এবং ‘যাইয়ে সজনা’ গান তাকে নতুন প্রজন্মের শ্রোতাদের কাছেও জনপ্রিয় করে তুলেছে।

এর আগে তিনি একাধিক হিট গান উপহার দিয়েছেন। তার গায়কীর স্বতন্ত্র ধরণ এবং পাঞ্জাবি সংগীতের আধুনিক উপস্থাপনা তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে। বর্তমানে ভারতের বিভিন্ন শহরে বড় বড় কনসার্টে অংশ নিয়ে তিনি ব্যস্ত সময় পার করছেন।

জেসমিন স্যান্ডলাসের জন্ম ভারতের পাঞ্জাবে হলেও শৈশব ও কৈশোরের বড় একটি সময় কেটেছে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার স্টকটনে। দুই সংস্কৃতির অভিজ্ঞতা তার সংগীতচর্চাকে আরও বৈচিত্র্যময় করে তুলেছে।

২০০৭ সালে ‘মুসকান’ গান দিয়ে পেশাদার সংগীতজীবন শুরু করেন তিনি। এরপর ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ করেন ‘গুলাবি’ এবং ‘হোয়াটস ইন এ নেম’-এর মতো জনপ্রিয় অ্যালবাম। এসব কাজের মাধ্যমে তিনি সমালোচকদের প্রশংসা অর্জনের পাশাপাশি নিজের একটি আলাদা শ্রোতাগোষ্ঠী তৈরি করতে সক্ষম হন।

জেসমিনের ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় মোড় আসে সালমান খান অভিনীত ‘কিক’ সিনেমায় ‘ইয়ার না মিলে’ গান গাওয়ার মাধ্যমে। গানটি মুক্তির পর ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায় এবং তাকে বলিউডে শক্ত অবস্থান এনে দেয়।

তবে এই সাফল্যের মাঝেও তাকে জীবনের কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয়। গানটি যখন সর্বত্র প্রশংসা পাচ্ছিল, ঠিক সেই সময় তিনি নিজের বাবাকে হারান। ব্যক্তিগত শোক আর পেশাগত সাফল্যের এই বিপরীত অভিজ্ঞতা তার জীবনে গভীর প্রভাব ফেলেছিল।

একসময় আলোচনার কেন্দ্র থেকে কিছুটা দূরে সরে গেলেও জেসমিন কখনও সংগীত ছাড়েননি। নিজের কাজ চালিয়ে গেছেন নীরবে। অবশেষে প্রায় এক দশক পর তিনি নতুন উদ্যমে ফিরে আসেন।

রণবীর কাপুর অভিনীত ‘ধুরন্ধর’ সিনেমায় ‘শরারত’ গানে কণ্ঠ দেওয়ার পর আবারও তিনি লাইমলাইটে উঠে আসেন। গানটি প্রকাশের পর শ্রোতাদের ব্যাপক সাড়া তাকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেয়। এরপর থেকেই তার কনসার্ট, লাইভ পারফরম্যান্স এবং নতুন প্রকল্প নিয়ে আগ্রহ বেড়েছে।

দিল্লির সফল উদ্বোধনী কনসার্টের পর জেসমিন স্যান্ডলাস ভারতের আরও কয়েকটি বড় শহরে পারফর্ম করবেন। আগামী ১৮ জুলাই মুম্বাই, ২৫ জুলাই বেঙ্গালুরু এবং ২৯ আগস্ট চণ্ডীগড়ে অনুষ্ঠিত হবে তার পরবর্তী কনসার্ট।

প্রতিটি শহরের ভক্তদের মধ্যে ইতোমধ্যেই এই সফর ঘিরে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। আয়োজকরাও আশা করছেন, প্রতিটি অনুষ্ঠান দর্শকে পরিপূর্ণ থাকবে।

সংগীতজীবনের নানা চড়াই-উতরাই অতিক্রম করে আজ জেসমিন স্যান্ডলাস এক নতুন অধ্যায়ের সামনে দাঁড়িয়ে। পেশাগত সাফল্যের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনেও তিনি সুখবর জানিয়েছেন তার ভক্তদের।

কনসার্টের মঞ্চে বাগদানের ঘোষণা, হবু জীবনসঙ্গীর সঙ্গে আবেগঘন মুহূর্ত ভাগ করে নেওয়া এবং দর্শকদের ভালোবাসায় সিক্ত হওয়া—সব মিলিয়ে এই রাতটি তার জীবনের অন্যতম স্মরণীয় ঘটনা হয়ে থাকবে। ভক্তদের কাছে এটি শুধু একজন জনপ্রিয় গায়িকার বাগদানের খবর নয়; বরং একজন শিল্পীর ব্যক্তিগত সুখ, ভালোবাসা এবং নতুন স্বপ্নের উদযাপন। জেসমিন স্যান্ডলাসের এই নতুন যাত্রার জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন অসংখ্য অনুরাগী, আর তারাও এখন অপেক্ষা করছেন সংগীতজীবনের মতোই তার ব্যক্তিগত জীবনও সুখ ও সাফল্যে ভরে উঠুক।