খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img
Homeস্পোটস ওয়ার্ল্ডফিফা বিশ্বকাপ স্পেশালইংল্যান্ড বনাম আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল! মেসি নাকি কেন : কার হবে ফাইনালের...

ইংল্যান্ড বনাম আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল! মেসি নাকি কেন : কার হবে ফাইনালের টিকিট?

এরপর ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে আবারও মুখোমুখি হয় দুই দল। সেই ম্যাচে কিশোর মাইকেল ওয়েনের দুর্দান্ত গোল আজও ফুটবলপ্রেমীদের স্মৃতিতে অম্লান। তবে ডেভিড বেকহামের লাল কার্ড এবং টাইব্রেকারে ইংল্যান্ডের বিদায় সমর্থকদের হৃদয় ভেঙেছিল।

ফিফা বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল মানেই উত্তেজনা, আবেগ এবং ইতিহাসের নতুন অধ্যায় লেখার অপেক্ষা। আর যদি মুখোমুখি হয় ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনা, তাহলে সেই উত্তেজনা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। ফুটবল বিশ্বের দুই পরাশক্তির লড়াইকে ঘিরে ইতোমধ্যেই উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে। ইংল্যান্ডের বিভিন্ন শহরের পাবগুলো সমর্থকদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে। সবাই অপেক্ষা করছেন থ্রি লায়ন্সদের আরেকটি ঐতিহাসিক জয়ের সাক্ষী হওয়ার জন্য।

বিশ্বকাপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মাঠে নামবে থমাস টুখেলের ইংল্যান্ড। অন্যদিকে, লিওনেল মেসির নেতৃত্বে আর্জেন্টিনাও নিজেদের শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে মরিয়া।

ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় লিওনেল মেসির ক্যারিয়ার দুই দশকেরও বেশি সময়ের। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, সিনিয়র ফুটবলে অভিষেকের ২০ বছর পর এই প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের মঞ্চে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলতে নামছেন তিনি।

মেসিকে থামানোর কাজটি যে সহজ হবে না, তা ভালো করেই জানেন ইংল্যান্ড কোচ থমাস টুখেল। বিশ্বকাপের ফাইনালে পৌঁছাতে হলে মেসির জাদুকরী পারফরম্যান্সকে আটকে রাখার কোনো বিকল্প নেই। তাই ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগের ওপর থাকবে বাড়তি দায়িত্ব।

গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে দলে বেশ কয়েকটি পরিবর্তন এনেছেন ইংল্যান্ড কোচ থমাস টুখেল। মরগান রজার্সকে ডান প্রান্তে খেলানো হচ্ছে। পাশাপাশি রিস জেমস ও জেড স্পেন্সও সুযোগ পেয়েছেন শুরুর একাদশে।

ইংল্যান্ডের আক্রমণভাগে নেতৃত্ব দেবেন অধিনায়ক হ্যারি কেন। মাঝমাঠে থাকবেন জুড বেলিংহ্যাম, যিনি গত ম্যাচে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে দলের জয় নিশ্চিত করেছিলেন। টুখেলের পরিকল্পনা স্পষ্ট—শক্তিশালী আর্জেন্টিনাকে চাপে রাখতে আক্রমণ ও মাঝমাঠের ভারসাম্যের ওপর জোর দেওয়া।

ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনার ফুটবল প্রতিদ্বন্দ্বিতা বহু পুরোনো। বিশ্বকাপের মঞ্চে দুই দলের লড়াই সবসময়ই নাটকীয়তার জন্ম দিয়েছে।

১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে দিয়েগো ম্যারাডোনার বিতর্কিত ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল এখনও ইংলিশ সমর্থকদের মনে তাজা। সেই ম্যাচে ইংল্যান্ডকে বিদায় নিতে হয়েছিল কোয়ার্টার ফাইনাল থেকেই।

এরপর ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে আবারও মুখোমুখি হয় দুই দল। সেই ম্যাচে কিশোর মাইকেল ওয়েনের দুর্দান্ত গোল আজও ফুটবলপ্রেমীদের স্মৃতিতে অম্লান। তবে ডেভিড বেকহামের লাল কার্ড এবং টাইব্রেকারে ইংল্যান্ডের বিদায় সমর্থকদের হৃদয় ভেঙেছিল।

২০০২ বিশ্বকাপে অবশ্য প্রতিশোধ নিয়েছিল থ্রি লায়ন্সরা। বেকহামের পেনাল্টি গোলে ১-০ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়েছিল ইংল্যান্ড।

এবারের সেমিফাইনালও সেই দীর্ঘ ইতিহাসে নতুন এক অধ্যায় যোগ করতে চলেছে।

কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়ের বিপক্ষে কঠিন পরীক্ষায় পড়েছিল ইংল্যান্ড। ম্যাচের ৩৬ মিনিটে আন্দ্রেয়াস শেলডেরুপের গোল হজম করে পিছিয়ে পড়ে দলটি। গোলটি ঠেকাতে ব্যর্থ হন গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড।

তবে প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে সমতা ফেরান জুড বেলিংহ্যাম। পরে অতিরিক্ত সময়ের শুরুতেই নিজের দ্বিতীয় গোল করে দলের জয় নিশ্চিত করেন এই রিয়াল মাদ্রিদ তারকা।

ম্যাচে উভয় দলের একটি করে গোল বাতিল হয়। শেষ পর্যন্ত বেলিংহ্যামের অসাধারণ পারফরম্যান্সই ইংল্যান্ডকে সেমিফাইনালে নিয়ে আসে।

নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে থমাস টুখেল খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। তাঁর মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বেলিংহ্যাম সংক্ষিপ্তভাবে বলেছিলেন, “মাঠে খেলাটা মোটেও সহজ ছিল না।”

এই মন্তব্য ঘিরে গণমাধ্যমে নানা আলোচনা শুরু হলেও পরে টুখেল বিষয়টিকে ভুল বোঝাবুঝি বলে ব্যাখ্যা করেন। তিনি জানান, ম্যাচ শেষে শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্লান্ত ছিলেন বেলিংহ্যাম। তাঁর মন্তব্যকে প্রেক্ষাপট ছাড়া উপস্থাপন করা হয়েছিল।

সেমিফাইনালের আগে দলের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করেছেন টুখেল। ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেনও জানিয়েছেন, কোচ ও খেলোয়াড়দের মধ্যে কোনো ধরনের সমস্যা নেই। বরং সবাই একটি লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামতে প্রস্তুত—বিশ্বকাপের ফাইনাল নিশ্চিত করা।

অন্যদিকে, কোয়ার্টার ফাইনালে মিশরের বিপক্ষে রোমাঞ্চকর জয় পেয়েছে আর্জেন্টিনা। দুই গোলে পিছিয়ে পড়ার পর অবিশ্বাস্যভাবে ম্যাচে ফিরে আসে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

লিওনেল মেসির অনবদ্য নৈপুণ্যে শেষ পর্যন্ত ৩-২ গোলের জয় তুলে নেয় আর্জেন্টিনা। তাঁর নেতৃত্ব ও অভিজ্ঞতাই দলটিকে কঠিন মুহূর্তে সাহস জুগিয়েছে।

এই ম্যাচের পর থেকেই ফুটবল বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, ইংল্যান্ড-আর্জেন্টিনা লড়াইয়ে কে জিতবে তা আগাম বলা প্রায় অসম্ভব। ম্যাচটি অনেকটা ‘কয়েন টস’-এর মতোই হতে পারে, যেখানে সামান্য ভুল বা একটি মুহূর্তের জাদু বদলে দিতে পারে পুরো ফলাফল।

সেমিফাইনালের বিজয়ী দলকে ফাইনালে মুখোমুখি হতে হবে স্পেনের। অপর সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারিয়ে ইতোমধ্যেই ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে স্প্যানিশরা।

তাই ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনার জন্য এই ম্যাচের গুরুত্ব আরও বেড়ে গেছে। কারণ সামনে অপেক্ষা করছে বিশ্বকাপ জয়ের সবচেয়ে বড় মঞ্চ।

বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল কেবল একটি ফুটবল ম্যাচ নয়, এটি কোটি মানুষের আবেগের নাম। ইংল্যান্ডের সমর্থকরা দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বিশ্বকাপ ট্রফি নিজেদের দেশে ফিরিয়ে নিতে চান। অন্যদিকে, আর্জেন্টিনা চায় নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব আরও একবার প্রমাণ করতে।

একদিকে হ্যারি কেন, জুড বেলিংহ্যাম ও টমাস টুখেলের পরিকল্পনা; অন্যদিকে লিওনেল মেসির অভিজ্ঞতা ও আর্জেন্টিনার অদম্য লড়াই। সবকিছু মিলিয়ে ফুটবল বিশ্ব অপেক্ষা করছে আরেকটি ঐতিহাসিক রাতের জন্য।

শেষ পর্যন্ত হাসবে কারা? মেসির আর্জেন্টিনা নাকি কেন-বেলিংহ্যামের ইংল্যান্ড? উত্তর মিলবে ৯০ মিনিটের লড়াই শেষে। তবে একটি বিষয় নিশ্চিত—ফুটবলপ্রেমীরা উপহার পেতে চলেছেন বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম সেরা একটি সেমিফাইনাল।