খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img
Homeস্পোটস ওয়ার্ল্ডফিফা বিশ্বকাপ স্পেশালমেসিকে ঘিরে ধরল ইংল্যান্ড! শুরু থেকেই আগুন ঝরানো ইংল্যান্ড বনাম আর্জেন্টিনা লড়াই

মেসিকে ঘিরে ধরল ইংল্যান্ড! শুরু থেকেই আগুন ঝরানো ইংল্যান্ড বনাম আর্জেন্টিনা লড়াই

মাঠে ইংল্যান্ড যতই চাপ তৈরি করুক, গ্যালারিতে আর্জেন্টিনার সমর্থকেরাই যেন ম্যাচ জিতে বসে আছে। ইংল্যান্ডের জাতীয় সঙ্গীত চলাকালীন তাদের চিৎকারে পুরো স্টেডিয়াম কেঁপে ওঠে।

ফুটবল মাঠে কিছু ম্যাচ থাকে যেগুলো শুরু হওয়ার আগেই উত্তেজনার পারদ চড়ে যায়। ইংল্যান্ড বনাম আর্জেন্টিনা ঠিক তেমনই এক ম্যাচ। শুরু থেকেই এই লড়াই শুধু বলের দখল নিয়ে নয়, মানসিক শক্তি, সমর্থকদের উন্মাদনা আর কৌশলের দ্বন্দ্বে পরিণত হয়েছে। মাঠে যেমন তীব্র চাপ, গ্যালারিতেও তেমনই আগুন ঝরছে।

খেলা শুরু হতেই ইংল্যান্ড তাদের পরিকল্পনা পরিষ্কার করে দেয়। তারা একদম শুরু থেকে হাই প্রেসিং ফুটবল খেলতে থাকে। আর্জেন্টিনার ফুটবলারদের পায়ে বল গেলেই দ্রুত ঘিরে ধরে বল কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করে ইংল্যান্ড।

এই ধরনের প্রেসিং ফুটবল খুবই ঝুঁকিপূর্ণ, কিন্তু ঠিকঠাক করলে প্রতিপক্ষকে শ্বাস নেওয়ার সুযোগ দেয় না। ইংল্যান্ড সেটাই করছে। আর্জেন্টিনার ডিফেন্স থেকে বল বের করাই কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ইংল্যান্ডের এই চাপের মুখে আর্জেন্টিনা প্রথম দিকে নিজেদের ছন্দ খুঁজে পায়নি। মাঝমাঠে বল ধরে রাখা কঠিন হয়ে যায়। ফলে দলের সবচেয়ে ভরসার নাম লিওনেল মেসিকেও নিচে নেমে এসে বল সংগ্রহ করতে দেখা যায়।

এটা আসলে একটা বড় ইঙ্গিত—যখন একজন ফরোয়ার্ড বা প্লেমেকার এতটা নিচে নেমে আসে, তখন বোঝা যায় দল চাপের মধ্যে আছে। আর্জেন্টিনা চেষ্টা করছে খেলা নিয়ন্ত্রণে আনতে, কিন্তু ইংল্যান্ড তাদের সেই সুযোগ সহজে দিচ্ছে না।

এমন হাই-ইনটেনসিটি ম্যাচে উত্তেজনা বাড়াটা স্বাভাবিক। এখানেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। শুরু থেকেই দুই দলের ফুটবলারদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি, তর্ক-বিতর্ক দেখা যায়।

ট্যাকলগুলো হচ্ছে শক্ত, কখনও কখনও সীমার কাছাকাছি। ফলে রেফারির ওপর চাপও বাড়ছে। খেলা নিয়ন্ত্রণে রাখতে তাকে বারবার হস্তক্ষেপ করতে হচ্ছে। এই ধরনের পরিস্থিতিতে একটুখানি ভুল সিদ্ধান্ত ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।

মাঠে ইংল্যান্ড যতই চাপ তৈরি করুক, গ্যালারিতে আর্জেন্টিনার সমর্থকেরাই যেন ম্যাচ জিতে বসে আছে। ইংল্যান্ডের জাতীয় সঙ্গীত চলাকালীন তাদের চিৎকারে পুরো স্টেডিয়াম কেঁপে ওঠে।

মেসি বা অন্য কোনো আর্জেন্টিনা খেলোয়াড় বল পেলেই সমর্থকদের আওয়াজ এতটাই বেড়ে যায় যে মাঠে যোগাযোগ করাও কঠিন হয়ে পড়ে। এই ধরনের সমর্থন খেলোয়াড়দের বাড়তি শক্তি দেয়—এটা যেন এক ধরনের “১২তম খেলোয়াড়”।

স্টেডিয়ামে উপস্থিত ছিলেন ইংল্যান্ডের কিংবদন্তি ডেভিড বেকহ্যাম। জায়ান্ট স্ক্রিনে তার মুখ দেখানো হতেই আর্জেন্টিনা সমর্থকদের বিদ্রুপ শুরু হয়।

শিস, চিৎকার—সব মিলিয়ে একটা অদ্ভুত পরিবেশ তৈরি হয়। তবে বেকহ্যাম এসবকে গুরুত্ব না দিয়ে শান্তভাবেই ম্যাচ উপভোগ করেন। এই ধরনের মুহূর্ত ফুটবলের আবেগকেই আরও স্পষ্ট করে।

ম্যাচের আগে আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি এক বড় সিদ্ধান্ত নেন। দলের গুরুত্বপূর্ণ মিডফিল্ডার রদ্রিগো ডি পলকে প্রথম একাদশে রাখা হয়নি।

ডি পল শুধু একজন খেলোয়াড় নন, মেসির সঙ্গে তার বোঝাপড়াও দারুণ। মাঠের বাইরেও তারা ভালো বন্ধু। তাই তাকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত অনেককেই অবাক করেছে।

তার জায়গায় সুযোগ পেয়েছেন জিউলিয়ানো সিমিয়োনে। তিনি কোচ দিয়েগো সিমিয়োনের ছেলে এবং আগেও এক ম্যাচে ভালো পারফর্ম করেছিলেন। আর্জেন্টিনা ৪-৪-২ ফরমেশনে খেলছে, যা কিছুটা রক্ষণাত্মক ভারসাম্য রাখার চেষ্টা।

এই ম্যাচে আর্জেন্টিনা বুঝে শুনে খেলছে। তারা সরাসরি আক্রমণে না গিয়ে ধীরে ধীরে বল দখল বাড়াতে চাইছে। মাঝমাঠে পাসিং গেম বাড়িয়ে ইংল্যান্ডের প্রেসিং ভাঙার চেষ্টা করছে।

তাদের মূল লক্ষ্য হলো খেলার গতি কমানো। কারণ দ্রুত গতির খেলায় ইংল্যান্ড এগিয়ে। তাই আর্জেন্টিনা চাইছে ম্যাচকে নিজেদের ছন্দে আনতে।

ইংল্যান্ডের কোচ টমাস টুখেলও কিছু চমক দিয়েছেন। তিনি প্রথম একাদশে জেড স্পেন্স ও মর্গ্যান রজার্সকে জায়গা দিয়েছেন।

ইংল্যান্ড ৪-২-৩-১ ফরমেশনে খেলছে, যা আক্রমণ এবং রক্ষণ—দুটোর মধ্যে ভারসাম্য রাখে। মাঝমাঠে ডেকলান রাইস ও অ্যান্ডারসনের জুটি রক্ষণ সামলাচ্ছে, আর সামনে জুড বেলিংহ্যাম ও হ্যারি কেন আক্রমণ তৈরি করছে।

ইংল্যান্ড খুব দ্রুত উইং ব্যবহার করছে। দুই প্রান্ত দিয়ে আক্রমণ গড়ে তুলে তারা আর্জেন্টিনার ডিফেন্স ছড়িয়ে দিতে চাইছে।

হ্যারি কেনকে কেন্দ্র করে আক্রমণ তৈরি হচ্ছে। তার পজিশনিং এবং ফিনিশিং ক্ষমতা সবসময়ই বিপজ্জনক। অন্যদিকে বেলিংহ্যাম মাঝমাঠ থেকে আক্রমণে গতি যোগ করছে।

এই ম্যাচটা শুধু খেলোয়াড়দের নয়, কোচদেরও লড়াই। একদিকে টুখেলের আক্রমণাত্মক প্রেসিং, অন্যদিকে স্কালোনির ধৈর্য ধরে খেলার পরিকল্পনা।

একটা ছোট উদাহরণ দিলে বুঝতে সহজ হবে—ইংল্যান্ড যেন ঝড়ের মতো আক্রমণ করছে, আর আর্জেন্টিনা সেই ঝড় থামিয়ে ধীরে ধীরে নিজের ছন্দে ফিরতে চাইছে।

এই ম্যাচে যে কোনো মুহূর্তে গোল হতে পারে। কারণ দুই দলই সুযোগ তৈরি করছে। শুধু শেষ মুহূর্তের সিদ্ধান্তই পার্থক্য গড়ে দেবে।

যদি আর্জেন্টিনা প্রেসিং কাটিয়ে উঠতে পারে, তাহলে তারা বিপজ্জনক হয়ে উঠবে। আর যদি ইংল্যান্ড একইভাবে চাপ ধরে রাখতে পারে, তাহলে গোল আসাটা সময়ের ব্যাপার।

সব মিলিয়ে এটা একটা ক্লাসিক ফুটবল লড়াই—গতি বনাম নিয়ন্ত্রণ, চাপ বনাম ধৈর্য, আর আবেগ বনাম কৌশল। মাঠে উত্তাপ যেমন বাড়ছে, দর্শকরাও ঠিক ততটাই মগ্ন হয়ে আছে এই ম্যাচে।

এমন ম্যাচই আসলে ফুটবলকে এত সুন্দর করে তোলে—যেখানে শুধু গোল নয়, প্রতিটা মুহূর্তেই থাকে নাটক, উত্তেজনা আর গল্প।