খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img

ভারী বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত দেশ:এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিতের দাবি এনসিপি’র

বর্ষার টানা ভারী বৃষ্টি, জলাবদ্ধতা এবং তীব্র যানজটের কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জনজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ায় চলমান এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সাময়িকভাবে স্থগিত করার...
Homeঅর্থ-বানিজ্যরফতানিকারকদের জন্য বড় সুখবর দিল বাংলাদেশ ব্যাংক

রফতানিকারকদের জন্য বড় সুখবর দিল বাংলাদেশ ব্যাংক

রফতানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা (ইপিজেড), বেসরকারি ইপিজেড (পিইপিজেড), অর্থনৈতিক অঞ্চল (ইজেড) এবং হাইটেক পার্কে পরিচালিত রফতানিকারকেরা তাদের বৈদেশিক মুদ্রা হিসাবের অবমুক্ত স্থিতির বিপরীতে ব্যাংকের সঙ্গে এফসি-টাকা সোয়াপ চুক্তি করতে পারবেন।

বাংলাদেশের রফতানি খাতকে আরও গতিশীল করতে নতুন একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বিশেষায়িত শিল্পাঞ্চলে পরিচালিত রফতানিকারকদের জন্য বৈদেশিক মুদ্রা (এফসি)-টাকা সোয়াপ সুবিধার পরিধি সম্প্রসারণ করা হয়েছে। এর ফলে রফতানিকারকেরা বিদেশি মুদ্রা হিসাবের অবমুক্ত স্থিতির বিপরীতে সহজেই স্বল্পমেয়াদি টাকার তারল্য সংগ্রহ করতে পারবেন। নতুন এই সিদ্ধান্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকর মূলধনের জোগান নিশ্চিত করার পাশাপাশি রফতানি কার্যক্রমে গতি আনতে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সোমবার (১৩ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ পলিসি ডিপার্টমেন্ট এ-সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করেছে। সার্কুলারটি দেশের সব অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, এখন থেকে রফতানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা (ইপিজেড), বেসরকারি ইপিজেড (পিইপিজেড), অর্থনৈতিক অঞ্চল (ইজেড) এবং হাইটেক পার্কে পরিচালিত রফতানিকারকেরা তাদের বৈদেশিক মুদ্রা হিসাবের অবমুক্ত স্থিতির বিপরীতে ব্যাংকের সঙ্গে এফসি-টাকা সোয়াপ চুক্তি করতে পারবেন। এর মাধ্যমে তারা প্রয়োজনের সময় দ্রুত স্বল্পমেয়াদি টাকার সংস্থান করতে সক্ষম হবেন।

এফসি-টাকা সোয়াপ হলো এমন একটি আর্থিক ব্যবস্থা, যেখানে কোনো প্রতিষ্ঠান তার বৈদেশিক মুদ্রার বিপরীতে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য স্থানীয় মুদ্রা (টাকা) গ্রহণ করতে পারে। পরে নির্ধারিত সময় শেষে চুক্তি অনুযায়ী অর্থ ফেরত দিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা পুনরায় ব্যবহার করা যায়।

এই ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, বিদেশি মুদ্রা বিক্রি না করেই প্রতিষ্ঠানগুলো প্রয়োজনীয় টাকার তারল্য সংগ্রহ করতে পারে। ফলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ব্যবস্থাপনা ও ব্যবসায়িক পরিকল্পনা আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নিচের বিশেষায়িত অঞ্চলে পরিচালিত রফতানিকারকেরা এই সুবিধার আওতায় থাকবেন—

রফতানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা (ইপিজেড)
বেসরকারি ইপিজেড (পিইপিজেড)
অর্থনৈতিক অঞ্চল (ইজেড)
হাইটেক পার্ক

এসব অঞ্চলে কার্যক্রম পরিচালনাকারী শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো তাদের বৈদেশিক মুদ্রা হিসাবের অবমুক্ত অর্থের বিপরীতে সহজেই সোয়াপ সুবিধা গ্রহণ করতে পারবে।

এর আগে ২০২৫ সালের ৩ নভেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংক একটি সার্কুলারের মাধ্যমে রফতানিকারকদের ৩০ দিনের পুল অ্যাকাউন্ট এবং এক্সপোর্ট রিটেনশন কোটা (ইআরকিউ) হিসাবের স্থিতির বিপরীতে এফসি-টাকা সোয়াপ সুবিধা গ্রহণের অনুমতি দিয়েছিল।

সর্বশেষ সার্কুলারে সেই সুবিধার পরিধি আরও বিস্তৃত করা হয়েছে। এখন শুধুমাত্র নির্দিষ্ট হিসাব নয়, বরং বিশেষায়িত অঞ্চলে পরিচালিত শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর বিদেশি মুদ্রা হিসাবের অবমুক্ত অর্থও এই সুবিধার আওতায় এসেছে। ফলে আরও বেশি সংখ্যক রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় অর্থায়নের সুযোগ পাবে।

রফতানি ব্যবসায় প্রায়ই কার্যকর মূলধনের প্রয়োজন হয়। কাঁচামাল কেনা, উৎপাদন ব্যয়, শ্রমিকদের বেতন, পরিবহন ব্যয় এবং অন্যান্য পরিচালন ব্যয় মেটাতে অনেক সময় তাৎক্ষণিক টাকার প্রয়োজন দেখা দেয়।

নতুন সোয়াপ সুবিধা চালুর ফলে প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের বৈদেশিক মুদ্রা সম্পদ ব্যবহার করে অল্প সময়ের জন্য প্রয়োজনীয় টাকার জোগান নিশ্চিত করতে পারবে। এতে ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরশীলতা কিছুটা কমবে এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রমে গতি বজায় রাখা সহজ হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মতে, নতুন এই সিদ্ধান্ত বিশেষায়িত অঞ্চলে পরিচালিত রফতানিকারকদের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় আরও নমনীয়তা এনে দেবে। বিদেশি মুদ্রা তহবিলকে কার্যকরভাবে ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠানগুলো সহজেই প্রয়োজনীয় কার্যকর মূলধন সংগ্রহ করতে পারবে।

এর ফলে উৎপাদন ও রফতানি কার্যক্রমে অর্থসংকটের ঝুঁকি কমবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা ধরে রাখার ক্ষেত্রেও প্রতিষ্ঠানগুলো বাড়তি সুবিধা পাবে।

সার্কুলারে বাংলাদেশ ব্যাংক স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, আগের সার্কুলারগুলোর অন্যান্য নির্দেশনা অপরিবর্তিত থাকবে। নতুন সিদ্ধান্তের পাশাপাশি পূর্ববর্তী নীতিমালাও কার্যকর থাকবে।

এ ছাড়া দেশের সব অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংককে তাদের সংশ্লিষ্ট গ্রাহকদের কাছে নতুন সোয়াপ সুবিধার বিষয়টি দ্রুত জানাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে যোগ্য রফতানিকারকেরা এই সুবিধা গ্রহণ করতে পারেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, রফতানি খাতে তারল্য সংকট কমাতে এই উদ্যোগ ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে বৈদেশিক মুদ্রা আয়কারী প্রতিষ্ঠানগুলো জরুরি অর্থের প্রয়োজন হলে বিদেশি মুদ্রা বিক্রি না করেই টাকার জোগান নিশ্চিত করতে পারবে।

এতে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা কমবে, রফতানি আদেশ বাস্তবায়নে গতি আসবে এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর নগদ অর্থ ব্যবস্থাপনা আরও দক্ষ হবে। দীর্ঘমেয়াদে দেশের রফতানি সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক বাণিজ্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।