খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img

মেসির জাদুতে ইংল্যান্ডের স্বপ্ন ভেঙে চুরমার! বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনা, ম্যাচ শেষে ফকল্যান্ডস বিতর্ক

বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম ঐতিহাসিক দ্বৈরথে আবারও জয়ী হলো আর্জেন্টিনা। উত্তেজনাপূর্ণ সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে শেষ মুহূর্তের দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে হারিয়ে ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করেছে...
Homeস্পোটস ওয়ার্ল্ডফিফা বিশ্বকাপ স্পেশালমেসির জাদুতে ইংল্যান্ডের স্বপ্ন ভেঙে চুরমার! বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনা, ম্যাচ শেষে ফকল্যান্ডস...

মেসির জাদুতে ইংল্যান্ডের স্বপ্ন ভেঙে চুরমার! বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনা, ম্যাচ শেষে ফকল্যান্ডস বিতর্ক

থমাস টুখেলের কৌশল প্রথমদিকে সফল হলেও শেষদিকে অতিরিক্ত রক্ষণাত্মক হয়ে পড়ার মূল্য দিতে হয়েছে দলটিকে। আক্রমণভাগে বল ধরে রাখার মতো কার্যকর পরিকল্পনার অভাবে আর্জেন্টিনা একের পর এক আক্রমণ চালানোর সুযোগ পায়।

বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম ঐতিহাসিক দ্বৈরথে আবারও জয়ী হলো আর্জেন্টিনা। উত্তেজনাপূর্ণ সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে শেষ মুহূর্তের দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে হারিয়ে ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করেছে লিওনেল মেসির দল। তবে ম্যাচ শেষে শুধুই ফুটবল নয়, উদযাপনের সময় ফকল্যান্ডস দ্বীপপুঞ্জ-সংক্রান্ত একটি ব্যানার প্রদর্শনের ঘটনায় শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সেমিফাইনালের শুরু থেকেই দুই দলই আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেয়। প্রথমার্ধে গোলশূন্য থাকলেও দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ম্যাচে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। থমাস টুখেলের শিষ্যরা সংগঠিত ফুটবল খেলতে থাকে এবং দীর্ঘ সময় পর্যন্ত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখে।

৫১তম মিনিটে মরগান রজার্সের নিখুঁত ক্রস থেকে দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে গোল করেন অ্যান্থনি গর্ডন। সেই গোলের পর ইংল্যান্ড সমর্থকদের মধ্যে ফাইনালের স্বপ্ন আরও উজ্জ্বল হয়ে ওঠে।

অন্যদিকে, আর্জেন্টিনা বারবার আক্রমণ চালালেও গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সেভ করে দলকে এগিয়ে রাখেন। এক পর্যায়ে আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে, যা আর্জেন্টিনার হতাশা আরও বাড়িয়ে দেয়।

ম্যাচের শেষ দিকে ইংল্যান্ড রক্ষণাত্মক কৌশল গ্রহণ করলে ধীরে ধীরে পুরো খেলায় আধিপত্য বিস্তার করতে শুরু করে আর্জেন্টিনা। সেই সুযোগ কাজে লাগান অধিনায়ক লিওনেল মেসি।

ডান প্রান্ত থেকে একের পর এক নিখুঁত আক্রমণ সাজিয়ে ইংল্যান্ডের রক্ষণ ভেঙে দেন তিনি। তার তৈরি করা সুযোগ থেকেই সমতায় ফেরে আর্জেন্টিনা।

পেনাল্টি বক্সে মেসির বিপজ্জনক বল থেকে এনজো ফার্নান্দেজ গোল করে ম্যাচে সমতা আনেন। এরপর যোগ করা সময়ে আবারও মেসির নিখুঁত ক্রস থেকে হেডে জয়সূচক গোল করেন লাউতারো মার্টিনেজ।

মাত্র কয়েক মিনিটের ব্যবধানে ম্যাচের পুরো চিত্র পাল্টে যায়। নিশ্চিত জয়ের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকা ইংল্যান্ডকে হতাশ করে বিশ্বকাপের ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা।

বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে আবারও নিজের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিলেন লিওনেল মেসি। পুরো ম্যাচে তিনি ধৈর্য ধরে খেলে সঠিক সময়েই নিজের অভিজ্ঞতা ও সৃজনশীলতার ছাপ রাখেন।

গোল না করলেও দুটি গুরুত্বপূর্ণ আক্রমণ তৈরি করে ম্যাচের ভাগ্য বদলে দেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। তার নেতৃত্ব, দূরদর্শিতা এবং চাপের মুহূর্তে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাই আর্জেন্টিনাকে আরেকটি বিশ্বকাপ ফাইনালে পৌঁছে দিয়েছে।

ইংল্যান্ডের জন্য এই হার নিঃসন্দেহে অত্যন্ত কষ্টের। দীর্ঘ সময় ম্যাচে এগিয়ে থেকেও শেষ কয়েক মিনিটে সবকিছু হারিয়ে ফেলতে হয়েছে তাদের।

থমাস টুখেলের কৌশল প্রথমদিকে সফল হলেও শেষদিকে অতিরিক্ত রক্ষণাত্মক হয়ে পড়ার মূল্য দিতে হয়েছে দলটিকে। আক্রমণভাগে বল ধরে রাখার মতো কার্যকর পরিকল্পনার অভাবে আর্জেন্টিনা একের পর এক আক্রমণ চালানোর সুযোগ পায়।

ফলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি বদলে যায় এবং শেষ পর্যন্ত নাটকীয়ভাবে পরাজয় বরণ করতে হয় ইংল্যান্ডকে।

ম্যাচ শেষে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের উদযাপন মুহূর্তে নতুন বিতর্কের জন্ম হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে দেখা যায়, কয়েকজন আর্জেন্টাইন ফুটবলার ফকল্যান্ডস দ্বীপপুঞ্জ সম্পর্কিত বার্তা লেখা একটি ব্যানার হাতে নিয়ে সমর্থকদের সঙ্গে উদযাপন করছেন।

গিওভান্নি লো সেলসো, লিসান্দ্রো মার্টিনেজসহ কয়েকজন ফুটবলারকে ওই ব্যানারের সামনে দেখা যায়। স্টেডিয়ামের গ্যালারিতেও একই ধরনের বার্তা বহনকারী ব্যানার প্রদর্শন করেন কিছু সমর্থক।

ছবিগুলো প্রকাশের পরপরই বিশ্বজুড়ে শুরু হয় আলোচনা ও সমালোচনা। অনেকেই মনে করেন, একটি আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার উদযাপনে রাজনৈতিক বার্তা যুক্ত করা উচিত হয়নি।

অন্যদিকে, কেউ কেউ বিষয়টিকে জাতীয় পরিচয় ও ইতিহাসের অংশ হিসেবে দেখার পক্ষেও মত দিয়েছেন।

ফকল্যান্ডস দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে যুক্তরাজ্য ও আর্জেন্টিনার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সার্বভৌমত্বের বিরোধ চলছে।

১৯৮২ সালে এই দ্বীপপুঞ্জকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে স্বল্প সময়ের হলেও রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ হয়েছিল। পরবর্তীতে ব্রিটিশ বাহিনী দ্বীপগুলোর নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করে।

বর্তমানে ফকল্যান্ডস একটি ব্রিটিশ ওভারসিজ টেরিটরি হিসেবে পরিচালিত হয়। দ্বীপটির অধিকাংশ বাসিন্দা যুক্তরাজ্যের অধীনেই থাকতে চান বলে বিভিন্ন সময়ে মত প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে, আর্জেন্টিনা এখনও দ্বীপগুলোর ওপর নিজেদের সার্বভৌম দাবি অব্যাহত রেখেছে।

এই ঐতিহাসিক বিরোধের কারণেই ফকল্যান্ডস সম্পর্কিত যেকোনো বার্তা দুই দেশেই তীব্র আবেগ ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে।

সেমিফাইনালের আগেই দুই দেশের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে আলোচনা ছিল। আর্জেন্টিনার শীর্ষ রাজনৈতিক নেতারা ফকল্যান্ডসের ওপর নিজেদের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন। অন্যদিকে, ব্রিটিশ কর্মকর্তারা দ্বীপের বাসিন্দাদের মতামতকেই ভবিষ্যৎ নির্ধারণের মূল ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেন।

ম্যাচ-পরবর্তী উদযাপনে ফকল্যান্ডস-সংক্রান্ত ব্যানার প্রদর্শনের ফলে সেই রাজনৈতিক বিতর্ক আবারও নতুন করে সামনে চলে আসে।

সব বিতর্কের মধ্যেও আর্জেন্টিনার মূল লক্ষ্য এখন বিশ্বকাপের ফাইনাল। পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে দলটি অসাধারণ মানসিক দৃঢ়তা, অভিজ্ঞতা এবং চাপ সামলানোর সক্ষমতা দেখিয়েছে।

লিওনেল মেসির পাশাপাশি এনজো ফার্নান্দেজ, লাউতারো মার্টিনেজ, আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার ও লিসান্দ্রো মার্টিনেজের মতো ফুটবলাররা ধারাবাহিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

এই জয়ের মাধ্যমে আরেকটি বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের স্বপ্ন আরও জোরালো হলো আর্জেন্টিনার।

ইংল্যান্ডের জন্য এই পরাজয় হতাশাজনক হলেও পুরো টুর্নামেন্টে তাদের পারফরম্যান্স ইতিবাচক দিকও তুলে ধরেছে। শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে দীর্ঘ সময় নিয়ন্ত্রিত ফুটবল খেলেছে তারা এবং ম্যাচ জয়ের খুব কাছাকাছিও পৌঁছে গিয়েছিল।

এখন তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচকে সামনে রেখে দলকে মানসিকভাবে প্রস্তুত করাই হবে কোচ থমাস টুখেলের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।

আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের এই সেমিফাইনাল বিশ্বকাপের অন্যতম স্মরণীয় ম্যাচ হিসেবে ইতিহাসে জায়গা করে নেবে। লিওনেল মেসির নেতৃত্বে শেষ মুহূর্তের অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন আবারও প্রমাণ করেছে কেন তিনি ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়।

তবে ম্যাচ-পরবর্তী উদযাপনে ফকল্যান্ডস-সংক্রান্ত ব্যানার প্রদর্শনের ঘটনা ফুটবলের আনন্দকে আংশিকভাবে আড়াল করে দিয়েছে। বহু দশক পুরোনো রাজনৈতিক বিরোধ আবারও আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।

এখন সবার নজর বিশ্বকাপের ফাইনালের দিকে। আর্জেন্টিনা ইতিহাসে আরেকটি শিরোপা যোগ করার স্বপ্ন দেখছে, আর ইংল্যান্ড ভাবছে—কীভাবে শেষ কয়েক মিনিটে হাতছাড়া হলো বহু প্রতীক্ষিত একটি ফাইনালের সুযোগ।