খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img

৮৪ মিনিটে পিছিয়ে থেকেও ফাইনালে আর্জেন্টিনা! মেসির জাদুতে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে বিশ্বকাপের মহারণ

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আরেকটি রোমাঞ্চকর অধ্যায়ের জন্ম দিল আর্জেন্টিনা। ম্যাচের অধিকাংশ সময় পিছিয়ে থেকেও শেষ মুহূর্তে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন করে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট...
Homeস্পোটস ওয়ার্ল্ডফিফা বিশ্বকাপ স্পেশাল৭ মিনিটে ম্যাচ ঘুরিয়ে দিল আর্জেন্টিনা! মেসির জাদুকরি পাসে লাউতারোর গোল, হতবাক...

৭ মিনিটে ম্যাচ ঘুরিয়ে দিল আর্জেন্টিনা! মেসির জাদুকরি পাসে লাউতারোর গোল, হতবাক ইংল্যান্ড

ক্রিস্টিয়ান রোমেরো নিজের পেছনে থাকা গর্ডনকে লক্ষ্য করতে না পারায় সহজেই গোল আদায় করে নেয় ইংল্যান্ড। দীর্ঘ সময় রক্ষণে দৃঢ় থাকা আর্জেন্টিনা এক মুহূর্তের ভুলেই পিছিয়ে পড়ে।

আন্তর্জাতিক ফুটবলের অন্যতম হাইভোল্টেজ লড়াইয়ে নাটকীয় প্রত্যাবর্তনের নজির গড়েছে আর্জেন্টিনা। ম্যাচের এক পর্যায়ে পিছিয়ে পড়লেও মাত্র সাত মিনিটের ব্যবধানে দুটি গোল করে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এগিয়ে যায় লিওনেল স্কালোনির দল। প্রথমে এঞ্জো ফের্নান্দেজের দূরপাল্লার দুর্দান্ত শটে সমতা ফেরে, এরপর লিওনেল মেসির অসাধারণ পাস থেকে গোল করে আর্জেন্টিনাকে লিড এনে দেন লাউতারো মার্টিনেজ। শুরুতে ইংল্যান্ডের দাপট থাকলেও শেষ পর্যন্ত আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নেয় বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

খেলার প্রথম বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই আক্রমণাত্মক প্রেসিং শুরু করে ইংল্যান্ড। মাঝমাঠে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের বল ধরে রাখার সুযোগ না দিয়ে দ্রুত চাপ সৃষ্টি করতে থাকে তারা। প্রতিটি বলের জন্য লড়াইয়ে নামায় ম্যাচটি শুরু থেকেই রোমাঞ্চকর রূপ নেয়।

প্রেসিংয়ের কারণে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের বেশ কয়েকবার ভুল করতে দেখা যায়। এমনকি ম্যাচের শুরুতেই দুই দলের ফুটবলারদের মধ্যে উত্তেজনাও তৈরি হয়। রেফারিকে বারবার হস্তক্ষেপ করতে হয় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে।

মাঠে ইংল্যান্ড যতই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলুক না কেন, গ্যালারিতে ছিল আর্জেন্টিনা সমর্থকদের একচ্ছত্র আধিপত্য। ম্যাচজুড়ে তাদের অবিরাম স্লোগান, গান ও উচ্ছ্বাসে পুরো স্টেডিয়াম মুখরিত হয়ে ওঠে।

মেসির পায়ে বল এলেই গ্যালারির গর্জন আরও বেড়ে যায়। সেই সমর্থন খেলোয়াড়দের বাড়তি আত্মবিশ্বাস জোগায় এবং ইংল্যান্ডের ওপরও মানসিক চাপ সৃষ্টি করে।

প্রথমার্ধে দুই দলই মূলত মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করে। এক ইঞ্চি জায়গাও ছাড় দিতে রাজি ছিল না কেউ। শক্ত ট্যাকল, বল দখলের লড়াই এবং দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাকের কারণে ম্যাচটি হয়ে ওঠে অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ।

রেফারিকে একাধিকবার ফাউলের বাঁশি বাজাতে হয়। ফলে ম্যাচের গতি বারবার থেমে গেলেও উত্তেজনার কোনো কমতি ছিল না।

ইংল্যান্ডের তীব্র গতির ফুটবল সামাল দিতে ধীরে ধীরে বলের দখল বাড়ানোর কৌশল নেয় আর্জেন্টিনা। লিওনেল মেসি মাঝমাঠে নেমে এসে বল বিলি করতে শুরু করেন। তাঁর নেতৃত্বেই আক্রমণের ছন্দ ফিরে পেতে থাকে দল।

মাঝে একবার মেসি একক প্রচেষ্টায় ইংল্যান্ডের রক্ষণ ভাঙার চেষ্টা করলেও সফল হতে পারেননি। তবে তাঁর উপস্থিতি প্রতিপক্ষের ডিফেন্সকে সতর্ক রেখেছিল।

প্রথম ৪৫ মিনিটে আক্রমণের চেষ্টা থাকলেও গোলের দেখা পায়নি কোনো দল। উল্লেখযোগ্য বিষয় ছিল, দুই দলই কার্যকর শট নিতে ব্যর্থ হয়। ফলে গোলশূন্য অবস্থাতেই বিরতিতে যায় ম্যাচ।

যদিও স্কোরলাইন সমান ছিল, তবুও ম্যাচের গতি ও লড়াই দর্শকদের বিনোদনের কোনো ঘাটতি রাখেনি।

দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হতেই আক্রমণের ধার বাড়ায় আর্জেন্টিনা। ইউলিয়ান আলভারেজ বক্সের ভেতর থেকে প্রথম উল্লেখযোগ্য শট নিলেও ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক ও রক্ষণভাগ তা সামলে নেয়।

এই আক্রমণই ইঙ্গিত দিচ্ছিল যে বিরতির পর সম্পূর্ণ ভিন্ন মানসিকতা নিয়ে মাঠে নেমেছে স্কালোনির দল।

আক্রমণের মাঝেই হঠাৎ বিপদে পড়ে আর্জেন্টিনা। ডান প্রান্ত থেকে ভেসে আসা একটি ক্রসে সবার চোখ এড়িয়ে অ্যান্টনি গর্ডন বল জালে জড়িয়ে দেন।

ক্রিস্টিয়ান রোমেরো নিজের পেছনে থাকা গর্ডনকে লক্ষ্য করতে না পারায় সহজেই গোল আদায় করে নেয় ইংল্যান্ড। দীর্ঘ সময় রক্ষণে দৃঢ় থাকা আর্জেন্টিনা এক মুহূর্তের ভুলেই পিছিয়ে পড়ে।

গোল খাওয়ার পর রক্ষণাত্মক পরিকল্পনা ছেড়ে পুরোপুরি আক্রমণে ঝাঁপিয়ে পড়ে আর্জেন্টিনা। দ্রুত সমতা ফেরানোর লক্ষ্য নিয়ে একের পর এক আক্রমণ চালাতে থাকে মেসিরা।

দলের গতি, পাসিং এবং আক্রমণের তীব্রতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। ইংল্যান্ডের রক্ষণ তখন প্রবল চাপে পড়ে।

ম্যাচের মোড় ঘোরাতে সাহসী সিদ্ধান্ত নেন কোচ লিওনেল স্কালোনি। তিনি একসঙ্গে চারটি পরিবর্তন করেন।

লিসান্দ্রো মার্টিনেজ, লিয়ান্দ্রো পারেদেস, নাহুয়েল মোলিনা ও জিউলিয়ানো সিমিওনের জায়গায় মাঠে নামেন নিকোলাস ওতামেন্দি, রদ্রিগো ডি পল, গঞ্জালো মন্টিয়েল এবং নিকো গঞ্জালেস।

এই পরিবর্তনের পরই আর্জেন্টিনার আক্রমণের ধার আরও বেড়ে যায়।

সমতা ফেরানোর মরিয়া চেষ্টায় ইংল্যান্ডকে নিজেদের অর্ধেই আটকে ফেলে আর্জেন্টিনা। জর্ডান পিকফোর্ড দুর্দান্ত কয়েকটি সেভ করে দলকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন।

অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের শক্তিশালী হেড পোস্টে লেগে ফিরে আসে। তবুও আর্জেন্টিনার আক্রমণের চাপ কমেনি।

অবশেষে ধারাবাহিক আক্রমণের ফল পায় আর্জেন্টিনা। লিওনেল মেসির নিখুঁত পাস থেকে বল পেয়ে বক্সের বাইরে থেকে অসাধারণ দূরপাল্লার শটে গোল করেন এঞ্জো ফের্নান্দেজ।

এই গোল ম্যাচে নতুন প্রাণ ফিরিয়ে আনে এবং আর্জেন্টিনা সমর্থকদের উল্লাসে স্টেডিয়াম কেঁপে ওঠে।

সমতায় ফেরার পর থেমে থাকেনি আর্জেন্টিনা। আক্রমণের গতি আরও বাড়িয়ে দেয় তারা। মাত্র সাত মিনিটের ব্যবধানে আসে দ্বিতীয় গোল।

লিওনেল মেসি অসাধারণ দূরদর্শিতায় ডিফেন্স চিরে নিখুঁত পাস বাড়িয়ে দেন লাউতারো মার্টিনেজের উদ্দেশে। সুযোগটি একটুও নষ্ট না করে শান্ত মাথায় বল জালে পাঠিয়ে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দেন এই স্ট্রাইকার।

মেসির দৃষ্টিনন্দন অ্যাসিস্ট এবং লাউতারোর নিখুঁত ফিনিশিং পুরো ম্যাচের অন্যতম সেরা মুহূর্ত হয়ে ওঠে।

পিছিয়ে পড়ার পর যেভাবে আর্জেন্টিনা ঘুরে দাঁড়িয়েছে, তা তাদের মানসিক দৃঢ়তারই প্রমাণ। স্কালোনির কৌশলগত পরিবর্তন, মেসির নেতৃত্ব এবং আক্রমণভাগের কার্যকারিতা ম্যাচের ফল বদলে দিয়েছে।

ইংল্যান্ড শুরুতে চাপ সৃষ্টি করলেও শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনার দ্রুতগতির আক্রমণ এবং কার্যকর ফিনিশিংয়ের সামনে তারা অসহায় হয়ে পড়ে। সাত মিনিটে দুটি গোল করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নিয়ে জয়ের পথে বড় পদক্ষেপ রাখে আলবিসেলেস্তেরা।