খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img

বিদ্যুত চুক্তি বাতিল হচ্ছেনা,দাম কমাতে চলছে আলোচনা: জ্বালানিমন্ত্রী

বিগত সরকারের সময় বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি এখনই বাতিল করার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছে সরকার। কারণ এসব চুক্তির সঙ্গে যুক্ত রয়েছে...
Homeবাংলা নিউজ স্পেশালরাজধানীরামপুরা হত্যা মামলায় সাবেক ডিএমপি কমিশনারসহ ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড

রামপুরা হত্যা মামলায় সাবেক ডিএমপি কমিশনারসহ ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ স্বাক্ষর করার পর মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর রামপুরায় সংঘটিত গুলি ও হত্যাকাণ্ডের বহুল আলোচিত মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ১৪৭ পৃষ্ঠার এই রায়ে ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ, ব্যবহৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদের তথ্য, তদন্তে পাওয়া প্রমাণ এবং আদালতের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে সাবেক ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ তিনজনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে।

রায় প্রকাশের মধ্য দিয়ে মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ সম্পন্ন হলো। এখন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের জন্য আইন অনুযায়ী উচ্চ আদালতে আপিল করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

বুধবার (১৫ জুলাই) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ স্বাক্ষর করার পর মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়।

১৪৭ পৃষ্ঠার এই রায়ে আদালত ঘটনার বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণ করেছে। বিচারিক পর্যবেক্ষণে সাক্ষ্য, নথিপত্র, তদন্ত প্রতিবেদন এবং অন্যান্য উপস্থাপিত প্রমাণের ভিত্তিতে সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর বিষয়টি বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

রায় প্রকাশের ফলে বর্তমানে গ্রেপ্তার এবং পলাতক উভয় ধরনের দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরাই এক মাসের মধ্যে আপিল করার আইনি সুযোগ পাবেন।

আরও পড়ুন :  রামিসার ঘটনার পাশেই নতুন আতঙ্ক! চার দিনেও মিলল না শিশু ইব্রাহিমের খোঁজ

এর আগে গত ২৮ জুন একই মামলার রায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড দেন। তারা হলেন: সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, খিলগাঁও জোনের সাবেক অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) মো. রাশেদুল ইসলাম, রামপুরা থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মশিউর রহমান

এছাড়া একই মামলায় রামপুরা থানার সাবেক এসআই তরিকুল ইসলাম ভূঁইয়াকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

অন্যদিকে রামপুরা পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকারকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

পাঁচ আসামির মধ্যে বর্তমানে শুধুমাত্র চঞ্চল চন্দ্র সরকার গ্রেপ্তার রয়েছেন বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

পূর্ণাঙ্গ রায়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশে ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই রামপুরা এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যবহৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

মামলার অভিযোগপত্র এবং রামপুরা থানার তৎকালীন ওসি মো. মশিউর রহমানের সাধারণ ডায়েরির (জিডি) তথ্য অনুযায়ী, ওইদিন বিভিন্ন ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল।

রায়ের তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে: চায়না রাইফেল থেকে ছোড়া হয় ৫৫৩ রাউন্ড গুলি,পিস্তল থেকে ছোড়া হয় ২৮ রাউন্ড গুলি,শর্টগান থেকে ৩২৩ রাউন্ড রাবার বুলেট, নিক্ষেপ করা হয়। এছাড়া শর্টগান থেকেই ৭৭১ রাউন্ড সিসার (লেড) বুলেট ছোড়া হয়।

আরও পড়ুন :  ওসমান হাদির মামলায় নতুন বিতর্ক! বোন মাসুমা হাদির বিস্ফোরক প্রশ্ন

আদালত তার পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেছে, ঘটনাস্থলে প্রাণঘাতী এবং কম প্রাণঘাতী—উভয় ধরনের অস্ত্র ও গোলাবারুদ ব্যবহার করা হয়েছিল।

মামলার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই জুমার নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে নির্মাণাধীন একটি ভবনে আশ্রয় নেন আমির হোসেন।

অভিযোগে বলা হয়, পুলিশ সদস্যরা তাকে ভবন থেকে নিচে লাফ দিতে বাধ্য করার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে তিনি ভবনের কার্নিশে ঝুলে থাকলে তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়।

গুলিতে তার দুই পায়ে আঘাত লাগে। পরে স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় তিনি উদ্ধার হন এবং হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করেন।

এই ঘটনাকে মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।

একই দিনে রাজধানীর রামপুরার বনশ্রী এলাকায় পুলিশের গুলিতে নাদিম হোসেন ও মায়া ইসলাম নিহত হন বলে মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

আরও পড়ুন :  ঢাকার আকাশে কালো মেঘ: আবারও কি জলাবদ্ধতায় ডুববে রাজধানী?

এছাড়া সাত বছর বয়সী শিশু বাসিত খান মুসাও মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়। আদালত এই ঘটনাগুলোকেও মামলার বিচারিক মূল্যায়নের অংশ হিসেবে বিবেচনায় নিয়েছে।

রামপুরা হত্যা মামলার তদন্ত দ্রুত সম্পন্ন করা হয়। মামলার তদন্ত প্রতিবেদন গত বছরের ৩১ জুলাই চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়।

এরপর ধারাবাহিকভাবে বিচারিক কার্যক্রম এগিয়ে যায়।

৭ আগস্ট আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়। ১৮ সেপ্টেম্বর আদালত অভিযোগ গঠন করেন। এরপর সাক্ষ্যগ্রহণ, প্রমাণ উপস্থাপন এবং যুক্তিতর্ক শেষে মামলার বিচার সম্পন্ন হয়।

মোট তিনটি অভিযোগের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মামলার রায় ঘোষণা করেন।

পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের মাধ্যমে আদালতের সিদ্ধান্তের বিস্তারিত আইনি ভিত্তি প্রকাশ্যে এসেছে। এতে বিচারকদের পর্যবেক্ষণ, সাক্ষ্যপ্রমাণের মূল্যায়ন এবং প্রতিটি অভিযোগের ব্যাখ্যা সংযোজিত হয়েছে।

একই সঙ্গে এই রায় ভবিষ্যৎ আপিল প্রক্রিয়ার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে বিবেচিত হবে। এখন দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা আইন অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উচ্চ আদালতে আপিল করতে পারবেন।

আর্কাইভ