খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img
Homeস্পোটস ওয়ার্ল্ডফিফা বিশ্বকাপ স্পেশালমাঠেই মেসি-বেলিংহ্যাম তর্ক! আসলে কী বলেছিলেন লিও? ফাঁস করলেন জুড বেলিংহ্যাম

মাঠেই মেসি-বেলিংহ্যাম তর্ক! আসলে কী বলেছিলেন লিও? ফাঁস করলেন জুড বেলিংহ্যাম

ইংল্যান্ডের এই তারকা জানান, তারা কেবল একটি নির্দিষ্ট ফাউল নিয়ে আলোচনা করছিলেন। এর আগে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে একটি ফাউলের সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছিল। সেই প্রসঙ্গ টেনে মেসি প্রশ্ন করেছিলেন, “তাহলে আমার ক্ষেত্রে একই সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে না কেন?”

ফুটবল মাঠে আবেগ, প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং উত্তেজনা নতুন কিছু নয়। বড় ম্যাচে বিশ্বসেরা ফুটবলারদের মধ্যেও তর্ক-বিতর্ক দেখা যায়। তবে ম্যাচ শেষের পর সেই ঘটনাগুলোর ব্যাখ্যা অনেক সময় ভুল ধারণা দূর করে। আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের হাইভোল্টেজ লড়াইয়ে এমনই একটি মুহূর্ত তৈরি হয়েছিল লিয়োনেল মেসি এবং জুড বেলিংহ্যামকে ঘিরে। প্রথমার্ধে একটি ফাউলের সিদ্ধান্ত নিয়ে দু’জনের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হলেও পরে সেই ঘটনাকে স্বাভাবিক বলেই ব্যাখ্যা করেছেন ইংল্যান্ডের তরুণ মিডফিল্ডার।

ম্যাচের প্রথমার্ধে বলের দখল নেওয়ার লড়াইয়ে একই সময়ে চ্যালেঞ্জে যান লিয়োনেল মেসি এবং জুড বেলিংহ্যাম। সংঘর্ষের পর দু’জনই মাঠে পড়ে যান। ঘটনাটি দেখে মেসির দাবি ছিল, তাঁকে ফাউল করা হয়েছে এবং সেই কারণে রেফারির বাঁশি বাজানো উচিত ছিল।

মেসি সঙ্গে সঙ্গে রেফারির কাছে নিজের আপত্তির কথা জানান। ঠিক সেই সময় বেলিংহ্যামও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করতে এগিয়ে আসেন। দু’জনের মধ্যে কয়েক মুহূর্তের জন্য উত্তপ্ত আলোচনা শুরু হয়। পরিস্থিতি যাতে আরও জটিল না হয়, সে কারণে রেফারি দ্রুত এগিয়ে এসে দুই ফুটবলারকে আলাদা করে দেন।

মাঠের সেই কথোপকথনের বিষয়টি পরে প্রকাশ করেন জুড বেলিংহ্যাম। তাঁর দাবি, আলোচনার পুরো বিষয়টি ছিল শুধুই ফাউল নিয়ে। ব্যক্তিগত কোনও আক্রমণ বা অপমানজনক মন্তব্য সেখানে ছিল না।

আরও পড়ুন :  যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনা ভেঙে গেল: বৈঠক বর্জন করল ইরান

বেলিংহ্যামের বর্ণনা অনুযায়ী, মেসি প্রথমে বলেন, “সিদ্ধান্ত আমাদের পক্ষে যাওয়া উচিত ছিল।”

জবাবে বেলিংহ্যাম বলেন, “না, কোনও ফাউল হয়নি।”

এরপর মেসি অভিযোগ করেন, “ও আমাকে মাথায় মেরেছে।”

কিন্তু ইংল্যান্ডের মিডফিল্ডার নিজের অবস্থানেই অনড় ছিলেন। তিনি আবারও বলেন, “কোনও ফাউল হয়নি।”

শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি শান্ত করে মেসি বলেন, “আচ্ছা, ঠিক আছে।”

এই সংক্ষিপ্ত কথোপকথনের পর দু’জনই আবার নিজেদের খেলায় মন দেন এবং ম্যাচ স্বাভাবিকভাবেই এগিয়ে চলে।

ম্যাচ শেষে সংবাদমাধ্যমের সামনে পুরো ঘটনাটি নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন বেলিংহ্যাম। তিনি বলেন, মাঠের উত্তেজনাকে বাড়িয়ে দেখার কোনও কারণ নেই।

ইংল্যান্ডের এই তারকা জানান, তারা কেবল একটি নির্দিষ্ট ফাউল নিয়ে আলোচনা করছিলেন। এর আগে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে একটি ফাউলের সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছিল। সেই প্রসঙ্গ টেনে মেসি প্রশ্ন করেছিলেন, “তাহলে আমার ক্ষেত্রে একই সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে না কেন?”

জবাবে বেলিংহ্যাম মজার ছলেই বলেন, “এই ধরনের আঘাত সহ্য করার ক্ষমতা তোমার রয়েছে।”

আরও পড়ুন :  মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই পদত্যাগ করেছেন যেসব রাষ্ট্রপতি, বিশ্বরাজনীতির আলোচিত ৫ ঘটনা

তাঁর মতে, এটুকুই ছিল পুরো কথোপকথন। এর বাইরে কোনও বিতর্ক বা ব্যক্তিগত বিরোধের বিষয় ছিল না।

মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও ম্যাচ শেষে লিয়োনেল মেসির প্রশংসা করতে ভোলেননি জুড বেলিংহ্যাম। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলারের বিপক্ষে খেলার সুযোগ পাওয়াটাই তাঁর কাছে গর্বের বিষয়।

বেলিংহ্যাম বলেন, “মেসির বিরুদ্ধে খেলতে পারা আমার কাছে সম্মানের। ওর প্রতি আমার কোনও রাগ নেই। আমরা ম্যাচ হেরেছি, তাই স্বাভাবিকভাবেই কষ্ট হচ্ছে। কিন্তু মেসির মতো একজন কিংবদন্তির বিপক্ষে মাঠে নামতে পারাটা দারুণ অভিজ্ঞতা।”

এই মন্তব্যে স্পষ্ট, মাঠের উত্তেজনা ম্যাচ শেষের সঙ্গেই শেষ হয়ে যায়। ব্যক্তিগতভাবে মেসির প্রতি তাঁর শ্রদ্ধা এতটুকুও কমেনি।

বিশ্ব ফুটবলের বড় মঞ্চে প্রতিটি সিদ্ধান্তই ম্যাচের গতিপথ বদলে দিতে পারে। তাই ফাউল, অফসাইড কিংবা রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে খেলোয়াড়দের মধ্যে তর্ক হওয়া অস্বাভাবিক নয়। বিশেষ করে যখন ম্যাচে দুই শক্তিশালী দলের লড়াই হয়, তখন আবেগ আরও তীব্র হয়ে ওঠে।

মেসি ও বেলিংহ্যামের ঘটনাও ছিল ঠিক তেমনই একটি মুহূর্ত। মাঠের উত্তাপে দু’জনই নিজেদের দলের স্বার্থে যুক্তি তুলে ধরেছিলেন। কিন্তু ম্যাচ শেষে তাঁদের বক্তব্য পরিষ্কার করে দেয়, ঘটনাটি শুধুই খেলার অংশ ছিল। কোনও ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব বা শত্রুতার বিষয় নয়।

আরও পড়ুন :  ২০২৭ সালে পৃথিবী বদলে দিতে পারে এল নিনো! কী বলছেন বিজ্ঞানীরা?

আধুনিক ফুটবলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা যতই তীব্র হোক, খেলোয়াড়দের মধ্যে পারস্পরিক সম্মানই শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে বড় বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। লিয়োনেল মেসি এবং জুড বেলিংহ্যামের ঘটনাও তারই উদাহরণ।

মাঠে একে অপরের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ লড়াই করলেও ম্যাচ শেষে প্রতিপক্ষের প্রতিভাকে সম্মান জানাতে পিছপা হননি ইংল্যান্ডের এই তরুণ ফুটবলার। আর সেই কারণেই ফুটবল শুধু প্রতিযোগিতার খেলা নয়, বরং সম্মান, আবেগ এবং খেলোয়াড়সুলভ মানসিকতারও এক অনন্য উদাহরণ।

আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের ম্যাচে মেসি-বেলিংহ্যামের সংক্ষিপ্ত বাক্য বিনিময় মুহূর্তের জন্য আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এলেও পরে বেলিংহ্যামের ব্যাখ্যা সেই বিতর্কের ইতি টেনেছে। তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, এটি ছিল একটি ফাউলের সিদ্ধান্ত নিয়ে স্বাভাবিক আলোচনা। একই সঙ্গে ফুটবলের সর্বকালের অন্যতম সেরা তারকা লিয়োনেল মেসির প্রতি নিজের গভীর শ্রদ্ধার কথাও প্রকাশ করেছেন। ফলে মাঠের উত্তেজনা থাকলেও পারস্পরিক সম্মান অটুট রয়েছে—এটাই আবারও প্রমাণ করলেন দুই প্রজন্মের এই দুই ফুটবল তারকা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

আর্কাইভ