মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে। মার্কিন বাহিনীর রাতভর পরিচালিত হামলার জবাবে উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। এর ফলে চলমান সংঘাত আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে এবং সম্ভাব্য কূটনৈতিক সমাধান নিয়ে তৈরি হওয়া আশার আলোও অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে।
ইরানের সামরিক সূত্রের দাবি, জর্ডান, কুয়েত ও বাহরাইনসহ মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক স্থানে যুক্তরাষ্ট্র-সংশ্লিষ্ট সামরিক স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। যদিও এসব হামলায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বা কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিকভাবে এসব দাবির পূর্ণাঙ্গ নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে সংঘাত প্রশমনের সম্ভাবনা আরও ক্ষীণ হয়ে পড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা কমানোর জন্য যে প্রাথমিক আলোচনা ও কূটনৈতিক তৎপরতার ইঙ্গিত মিলেছিল, সর্বশেষ ঘটনাপ্রবাহে তা কার্যত ভেস্তে গেছে। ফলে টানা ষষ্ঠ দিনের মতো দুই দেশের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে প্রায় ছয় ঘণ্টাব্যাপী ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করেছে। ওয়াশিংটনের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে ওঠা ইরানি সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করাই ছিল এই অভিযানের মূল উদ্দেশ্য।
মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক অভিযানে এমন কয়েকটি স্থাপনা ও সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে, যেগুলো থেকে সমুদ্রপথে হামলার পরিকল্পনা ও সমন্বয় করা হচ্ছিল বলে তাদের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ধারণা করা হয়।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, তেহরানের উচিত সংযত আচরণ করা এবং পরিস্থিতিকে আরও জটিল না করা। তিনি জানান, ইরান যদি আলোচনার পথে না ফিরে সামরিক উত্তেজনা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র আরও কঠোর ও ব্যাপক সামরিক পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান এই সংঘাত আন্তর্জাতিক মহলেও গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, হামলা ও পাল্টা হামলার এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান নয়, গোটা অঞ্চলই আরও বড় নিরাপত্তা সংকট ও অস্থিতিশীলতার মুখে পড়তে পারে। তথ্য সূত্র: বিবিসি বাংলা

