রবিবারেই শেষ হচ্ছে বিশ্বকাপ ফুটবলের মহাযজ্ঞ। ফাইনালে মুখোমুখি স্পেন ও আর্জেন্টিনা। পুরো বিশ্ব তাকিয়ে আছে এই ম্যাচের দিকে—কে জিতবে ট্রফি, কে হবে রানার্স-আপ। কিন্তু খেলার উত্তেজনার পাশাপাশি আরেকটা বড় বিষয় আছে, সেটা হলো বিশাল অঙ্কের পুরস্কার অর্থ।
ভাবতে পারো? শুধু একটা ম্যাচ জিতেই নয়, পুরো টুর্নামেন্টে অংশ নিলেই কোটি কোটি টাকা! এমনকি একটা ম্যাচও না জিতলেও খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে না কোনো দলকে। চল, পুরো ব্যাপারটা সহজভাবে বুঝে নিই।
বিশ্বকাপ মানেই শুধু গৌরব না, বিশাল অর্থনৈতিক দিকও আছে। ফিফা এই টুর্নামেন্টকে এমনভাবে সাজিয়েছে, যাতে সব দেশই কিছু না কিছু পায়। এতে ছোট দলগুলোও উৎসাহ পায়, আর ফুটবলের উন্নতিও হয়।
এইবারের বিশ্বকাপে মোট পুরস্কার অর্থ রাখা হয়েছে প্রায় ৬২৫৮ কোটি টাকা। আগের আসরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। তাই বুঝতেই পারছো, এবার ব্যাপারটা কত বড় স্কেলে হয়েছে।
এখন আসল প্রশ্ন ফাইনালে জিতলে কত?
যে দল ট্রফি জিতবে, তারা পাবে প্রায় ৪৮১ কোটি টাকা। আর যারা রানার্স-আপ হবে, তাদের জন্যও কম কিছু না—প্রায় ৩১৭ কোটি টাকা।
একটু ভাবো, একটা দেশের ফুটবল উন্নয়নের জন্য এই টাকা কত বড় ভূমিকা রাখতে পারে!
ফাইনালের বাইরে থাকা দলগুলোর জন্যও রয়েছে বড় অঙ্কের পুরস্কার।
তৃতীয় স্থানে থাকা দল পাবে প্রায় ২৭৯ কোটি টাকা। আর চতুর্থ স্থানে থাকা দল পাবে প্রায় ২৬০ কোটি টাকা।
মানে, সেমিফাইনাল পর্যন্ত গেলেই দলগুলো অনেক বড় অঙ্কের টাকা নিশ্চিত করে ফেলছে।
যে দলগুলো কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত গিয়ে বাদ পড়েছে, তারাও কিন্তু কম পাচ্ছে না।
প্রতিটি দল পাবে প্রায় ১৮৩ কোটি টাকা করে।
এখানে ধরো, কোনো মাঝারি মানের দল যদি কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত যায়, তাহলে সেটা তাদের জন্য বিশাল অর্জন—খেলাতেও, আর্থিকভাবেও।
প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে হেরে যাওয়া আটটি দল পাবে প্রায় ১৪৪ কোটি টাকা করে।
আর রাউন্ড অফ ৩২ থেকে বিদায় নেওয়া ১৬টি দল পাবে প্রায় ১০৬ কোটি টাকা করে।
মানে, টুর্নামেন্টে একটু এগোলেই টাকা বাড়ছে ধাপে ধাপে।
সবচেয়ে মজার ব্যাপারটা এখানেই।
যে দলগুলো একটা ম্যাচও জিততে পারেনি, তারাও পাচ্ছে টাকা। প্রতিটি অংশগ্রহণকারী দলকে দেওয়া হচ্ছে প্রায় ১০১ কোটি টাকা।
এর মধ্যে যারা গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছে, তারা পাবে প্রায় ৮৭ কোটি টাকা। বাকি অংশটা দেওয়া হয় প্রস্তুতি খরচ হিসেবে।
এটা এমন যেন তুমি কোনো প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছো, আর শেষ করতে না পারলেও একটা ভালো অঙ্কের পুরস্কার পেয়েছো!
এই পুরস্কারের টাকা সরাসরি দেওয়া হয় প্রতিটি দেশের ফুটবল সংস্থাকে।
তারপর তারা ঠিক করে খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ এবং অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে কীভাবে ভাগ করা হবে।
অনেক সময় দেখা যায়, খেলোয়াড়রা নিজেরাই সিদ্ধান্ত নেয় কিছু টাকা দান করবে বা অন্য কাজে ব্যবহার করবে।
কিছু দেশ এই পুরস্কার টাকা নিয়ে আলাদা সিদ্ধান্তও নিয়েছে।
যেমন, একটি দেশ জানিয়েছে তারা মোট অর্থের ৮০ শতাংশ পুরুষ ও মহিলা দলের মধ্যে সমানভাবে ভাগ করবে। তবে শর্ত আছে—মহিলা দলকে আগে বিশ্বকাপে যোগ্যতা অর্জন করতে হবে।
আবার অন্য একটি দলের খেলোয়াড়রা ঘোষণা দিয়েছে, তারা নিজেদের অংশ থেকে একটা নির্দিষ্ট অঙ্ক দান করবে।
এই ধরনের উদ্যোগ দেখলে বোঝা যায়, ফুটবল শুধু খেলা নয় এটা একটা দায়িত্বও।
ফিফা আগেই বলেছিল, এই বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে বড় হতে যাচ্ছে। আর সত্যি বলতে সেটা হয়েছে।
এইবার অংশ নিয়েছে ৪৮টি দেশ। বেশি ম্যাচ হয়েছে, বেশি গোল হয়েছে, আর বেশি শহরে খেলা হয়েছে।
তার উপর বিশ্বসেরা খেলোয়াড়রা যেমন লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপে, আর্লিং হালান্ড সবাই নিজেদের সেরাটা দিয়েছে।
ফলে দর্শকদের জন্য এটা ছিল একেবারে সম্পূর্ণ প্যাকেজ উত্তেজনা, নাটক, আর দারুণ ফুটবল।
এই বিশাল আয়োজন থেকে ফিফা নিজেও প্রচুর আয় করছে।
তাদের আশা, এই বিশ্বকাপ থেকে প্রায় ৯৬,২৮৫ কোটি টাকা লাভ হবে।
শুনতে অবাক লাগলেও, টিভি সম্প্রচার, স্পনসরশিপ, টিকিট সব মিলিয়ে এই অঙ্কটা খুব একটা অসম্ভব না।
সব মিলিয়ে বিশ্বকাপ এখন শুধু একটা খেলা নয়, এটা একটা বিশাল অর্থনৈতিক প্ল্যাটফর্ম।
যে দল জিতবে, তারা শুধু ট্রফি না অগাধ অর্থও পাবে। আর যারা জিততে পারেনি, তারাও খালি হাতে ফিরছে না।
ভাবো তো, একটা টুর্নামেন্ট যেখানে হারলেও লাভ এটাই তো বিশ্বকাপের আসল ম্যাজিক।
তুমি কোন দলের সমর্থক? তারা যদি জিতে যায়, শুধু আনন্দ না তাদের জন্য অপেক্ষা করছে কোটি টাকার হাসিও!

