টানা দুই মৌসুম ব্যর্থতার পরও কলকাতা নাইট রাইডার্সের অধিনায়কত্ব ছাড়তে রাজি নন অজিঙ্ক রাহানে। ২০২৫ ও ২০২৬ আইপিএল মৌসুমে তাঁর নেতৃত্বে খেলেও প্লে-অফে উঠতে পারেনি কেকেআর। তবু কঠিন সময়ে দল ছেড়ে সরে দাঁড়ানোর মানুষ তিনি নন বলেই স্পষ্ট জানিয়েছেন অভিজ্ঞ এই ভারতীয় ব্যাটার।
আইপিএল থেকে কলকাতা নাইট রাইডার্স বিদায় নেওয়ার পর সাংবাদিকদের সামনে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন রাহানে। তিনি জানান, চাপ কিংবা সমালোচনার মুখে দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার মানসিকতা তাঁর নেই।
অজিঙ্ক রাহানে বলেন, “আমি সারা জীবন এই মানসিকতা নিয়েই ক্রিকেট খেলেছি। কঠিন পরিস্থিতিতে কখনও পিছিয়ে যাইনি। যখন একটা দল সমস্যার মধ্যে থাকে, তখন অধিনায়কের দায়িত্ব আরও বেড়ে যায়। সেই সময় নেতা যদি সরে দাঁড়ায়, তাহলে দল আরও ভেঙে পড়ে।”
তিনি আরও বলেন, “আমি দলকে ছেড়ে চলে যাওয়ার মানুষ নই। আমি দায়িত্ব থেকে পালাব না।”
রাহানের এই মন্তব্যের পর স্পষ্ট হয়েছে, আগামী মৌসুমেও কেকেআরের নেতৃত্বে থাকার ইচ্ছা রয়েছে তাঁর।
চলতি আইপিএল মৌসুমে শুরুটা খুব খারাপ হয়েছিল কলকাতার। প্রথম ছয় ম্যাচে একটিও জয় পায়নি দল। তখনই সমালোচনার ঝড় ওঠে রাহানে ও কেকেআর ম্যানেজমেন্টকে ঘিরে।
তবে এরপর দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়ায় নাইটরা। পরের আট ম্যাচের মধ্যে ছয়টিতে জয় তুলে নেয় তারা। একসময় মনে হচ্ছিল, অসাধারণ প্রত্যাবর্তন করে প্লে-অফে জায়গা করে নেবে কেকেআর। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি।
১৩ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলের সাত নম্বরে শেষ করে কলকাতা নাইট রাইডার্স।
শুধু অধিনায়কত্ব নয়, ব্যাট হাতেও খুব একটা সফল ছিলেন না রাহানে। পুরো মৌসুমে ১৪ ম্যাচে ২৫.৭৬ গড়ে ৩৩৫ রান করেছেন তিনি। করেছেন মাত্র দুটি অর্ধশতরান।
ওপেনার হিসেবে খেললেও বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে বড় ইনিংস খেলতে পারেননি তিনি। অনেক ক্রিকেট বিশ্লেষকের মতে, রাহানে যদি আরও ধারাবাহিক পারফরম্যান্স করতে পারতেন, তাহলে কেকেআরের ভাগ্য হয়তো অন্যরকম হতে পারত।
এই কারণেই তাঁর ব্যাটিং এবং নেতৃত্ব—দুই নিয়েই সমালোচনা চলছে। অনেক সমর্থক তো সরাসরি দাবি তুলেছেন, আগামী মৌসুমে রাহানেকে দল থেকেই বাদ দেওয়া উচিত।
সমালোচনার মাঝেও নিজের অবস্থানে অনড় রাহানে। তিনি মনে করেন, বড় প্রতিযোগিতায় চাপ থাকবেই এবং সেই চাপ সামলানোর ক্ষমতাই একজন নেতাকে আলাদা করে।
রাহানে বলেন, “এই ধরনের টুর্নামেন্টে চাপ থাকাটা স্বাভাবিক। সবাই সেই চাপ নিতে পারে না। কিন্তু ভয় পেলে হবে না। বুক চিতিয়ে দাঁড়াতে হবে। কয়েকটা ম্যাচ হারলেই চাপ তৈরি হয়, কিন্তু সেখান থেকে বেরিয়ে আসাটাই গুরুত্বপূর্ণ।”
তিনি আরও বলেন, এখন অতীত নিয়ে পড়ে থাকলে চলবে না। দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার দিকেই মনোযোগ দিতে হবে।
বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় আগামী মৌসুমে কেকেআর দলে বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা খুব কম। কারণ বড় নিলাম হবে তার পরের বছর। ফলে এখনই নতুন করে পুরো দল সাজানোর সুযোগ নেই ফ্র্যাঞ্চাইজিটির সামনে।
ক্রিকেট মহলের অনেকের ধারণা, এই কারণেই আগামী আইপিএলেও রাহানেকেই অধিনায়ক হিসেবে রাখতে পারে কলকাতা নাইট রাইডার্স। যদিও ভবিষ্যতের বড় নিলামে নতুন নেতৃত্বের দিকে ঝুঁকতে পারে দলটি।
তবে আপাতত রাহানে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার কোনো ইঙ্গিত দিচ্ছেন না। বরং তিনি স্পষ্ট করে বুঝিয়ে দিয়েছেন, সমালোচনা বা ব্যর্থতা তাঁকে দায়িত্ব থেকে দূরে সরাতে পারবে না।
টানা দুই মৌসুম প্লে-অফে উঠতে না পারায় কেকেআরের ওপর চাপ আরও বেড়েছে। সমর্থকদের প্রত্যাশাও এখন অনেক বেশি। তাই আগামী মৌসুমে শুধু নেতৃত্ব নয়, পুরো দলের পারফরম্যান্স নিয়েই বাড়তি নজর থাকবে।
রাহানের অভিজ্ঞতা অবশ্য এখনও দলের জন্য বড় শক্তি হিসেবে দেখছেন অনেকেই। তবে মাঠের পারফরম্যান্সে সেই অভিজ্ঞতার প্রতিফলন না এলে আগামী দিনে তাঁর জায়গা ধরে রাখা কঠিন হয়ে যেতে পারে বলেও মনে করছেন ক্রিকেট বিশ্লেষকরা।

