খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img

শাহজালাল বিমানবন্দরে ফলের ক্যারেটে ১৬ কেজি স্বর্ণ উদ্ধার

রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আবারও স্বর্ণ চোরাচালানের একটি বড় চালান জব্দ করেছে ঢাকা কাস্টমস হাউজ কর্তপক্ষ। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত যৌথ অভিযানে ফলের...
Homeবিশ্ব সংবাদমার্কিন হামলা নিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি মোজতবা খামেনির

মার্কিন হামলা নিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি মোজতবা খামেনির

মোজতবা খামেনি দাবি করেন, গত মাসে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক কার্যত অকার্যকর হয়ে গেছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ওয়াশিংটন চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করে প্রমাণ করেছে যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষরের কোনো বাস্তব মূল্য নেই।

মার্কিন সামরিক অভিযানের জেরে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কঠোর ভাষায় সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছেন, তেহরান এবং তাদের আঞ্চলিক মিত্ররা যুক্তরাষ্ট্রকে এমন জবাব দেবে, যা তাদের জন্য “অবিস্মরণীয় শিক্ষা” হয়ে থাকবে। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র বারবার দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) লঙ্ঘন করেছে এবং কূটনৈতিক প্রতিশ্রুতির প্রতি কোনো সম্মান দেখায়নি।
১৮ জুলাই এ তথ্য আল জাজিরার প্রতিবেদনে প্রকাশতি হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক লিখিত বিবৃতিতে মোজতবা খামেনি দাবি করেন, গত মাসে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক কার্যত অকার্যকর হয়ে গেছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ওয়াশিংটন চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করে প্রমাণ করেছে যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষরের কোনো বাস্তব মূল্য নেই।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক চুক্তিভঙ্গ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাদের বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। ইরানের মতে, রাজনৈতিক চাপ, আধিপত্য বিস্তার এবং সামরিক শক্তির ব্যবহার দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।

আরও পড়ুন :  আন্তর্জাতিক বাজারের চেয়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বেশি দামে গম আমদানি

মোজতবা খামেনির বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, যদি যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরও উসকে দেয় এবং সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখে, তাহলে ইরান ও তাদের মিত্ররা এমন পাল্টা ব্যবস্থা নেবে, যার প্রভাব দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

তিনি দাবি করেন, ইরান শুধু আত্মরক্ষার জন্য প্রস্তুত নয়, বরং প্রয়োজন হলে আঞ্চলিক প্রতিরোধ জোটের সহায়তায় আরও কঠোর প্রতিক্রিয়া জানাবে।

ইরানের অভিযোগ, চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র দেশটির বিভিন্ন বেসামরিক স্থাপনায় হামলা জোরদার করেছে। হামলার লক্ষ্যবস্তু হিসেবে সেতু, রেললাইন, পানি পরিশোধনকেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

তেহরানের দাবি, এসব হামলার জবাবে তারা কুয়েতের বেসামরিক অবকাঠামোতে সফলভাবে পাল্টা আঘাত হেনেছে। এর ফলে সংশ্লিষ্ট এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের আহ্বান জানিয়েছে।

সামরিক অভিযান বন্ধের জন্য পাকিস্থান চুক্তির পরও ইরানের উপর একাধিক বার অভিযান চালিয়েছে মার্কিন বাহিন। কয়েক মাস আগে মার্কিন সামরিক হামলায় ইরানের মিনাব অঞ্চলের একটি স্কুল ক্ষকিগ্রস্থ হয়েছে, যেখানে শতাধিক শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন :  হ্যারি কেনও মুগ্ধ ‘কিং’ কোহলিতে! RCB চ্যাম্পিয়ন হতেই ভাইরাল ইংল্যান্ড অধিনায়কের বার্তা

এ ছাড়া ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থাপনাকেও হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে তেহরানের দাবি।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক পোস্টে জানিয়েছে, তারা ইরানে টানা সাত রাত ধরে সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে। সংস্থাটির ভাষ্য অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশনায় ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করাই এই অভিযানের মূল উদ্দেশ্য।

তবে সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এই অভিযান অষ্টম দিনেও অব্যাহত রয়েছে, যা দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে অবিলম্বে বিমান অভিযান বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে। দেশটির কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, হামলা অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে রূপ নিতে পারে।

দেশটির কর্মকর্তাদের মতে, এ যুদ্ধ শুধু দু দেশের মধে সিমাবদ্ধ থাকবে না। মধ্যপ্রাচ্যের অবস্থাও খারাপ হতে পারে।
শুক্রবার রাতের হামলার পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতার সামরিক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল মোহসেন রেজায়ি এক তাৎক্ষণিক বার্তায় যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর হুঁশিয়ারি দেন।

আরও পড়ুন :  বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনা নাকি স্পেন? বিশেষজ্ঞদের ভবিষ্যদ্বাণী, মেসি বনাম ইয়ামাল!

তিনি বলেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র একই ধরনের হামলা চালিয়ে যায়, তাহলে ইরান কেবল সীমিত পাল্টা হামলায় থেমে থাকবে না। প্রয়োজন হলে দেশটি পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে অংশ নেবে। তাঁর দাবি, এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের কোনো রাজনৈতিক সীমান্তই নিরাপদ থাকবে না এবং পুরো অঞ্চল অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান এই উত্তেজনা শুধু দুই দেশের সম্পর্ককেই প্রভাবিত করছে না; বরং গোটা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা, জ্বালানি সরবরাহ এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপরও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। সামরিক অভিযান ও পাল্টা হুমকির ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক মহলের প্রধান প্রত্যাশা হলো, কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে উত্তেজনা কমিয়ে সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধান খুঁজে বের করা। তবে উভয় পক্ষের কঠোর অবস্থান সংকট নিরসনের পথকে আরও জটিল করেছে।