২০২৫-২৬ অর্থবছরের খরিপ ২০২৬-২৭ মৌসুমকে সামনে রেখে সরকারের কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলায় ১ হাজার ৪০০ কৃষক ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাঝে বিনামূল্যে গাছের চারা, জৈব সার এবং বাঁশের খুঁটি বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। পরিবেশ সংরক্ষণ, ফলদ বৃক্ষ রোপণে উৎসাহ প্রদান এবং টেকসই কৃষি ব্যবস্থার উন্নয়নকে লক্ষ্য করে এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
সোমবার (২০ জুলাই) সকালে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে এবং উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে আনুষ্ঠানিকভাবে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে স্থানীয় কৃষক, জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় মোট ১ হাজার ৪০০ জন কৃষক ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ফলদ গাছের চারা এবং প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়। এ উদ্যোগের মাধ্যমে কৃষকদের ফলদ বৃক্ষ রোপণে আগ্রহী করে তোলা এবং পরিবেশবান্ধব কৃষি চর্চাকে আরও সম্প্রসারণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিতরণ করা উপকরণের মধ্যে রয়েছে, আম গাছের চারা: ৭৮০টি, জলপাই গাছের চারা: ১৩০টি, জাম গাছের চারা: ৪৯টি, জৈব সার, বাঁশের খুঁটি
প্রতিটি চারার সুষ্ঠু পরিচর্যা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় জৈব সার এবং গাছের সুরক্ষার জন্য বাঁশের খুঁটিও সরবরাহ করা হয়েছে।
কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, ফলদ গাছের চারা বিতরণ শুধু কৃষকের আর্থিক লাভই বাড়াবে না, বরং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং গ্রামীণ এলাকায় সবুজায়ন বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সরকারের কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষকদের আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব কৃষি ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার পাশাপাশি পতিত জমিতে ফলদ বৃক্ষ রোপণে উৎসাহিত করা হচ্ছে। এতে ভবিষ্যতে কৃষকের অতিরিক্ত আয় সৃষ্টির সুযোগও তৈরি হবে।
গাছের চারা বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল-২ (ভূঞাপুর-গোপালপুর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টু।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুব রহমান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোখলেছুর রহমান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মাসুদ, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সেলিমুজ্জামান তালুকদার সেলুসহ উপজেলা প্রশাসন, কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, কৃষকদের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, ফলদ বৃক্ষের আবাদ সম্প্রসারণ এবং পরিবেশবান্ধব কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে এ ধরনের প্রণোদনা কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সরকারের এই সহায়তার ফলে কৃষকরা বিনা খরচে উন্নতমানের গাছের চারা ও প্রয়োজনীয় উপকরণ পেয়ে উপকৃত হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
এ ধরনের উদ্যোগ স্থানীয় পর্যায়ে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। পাশাপাশি ফলদ বৃক্ষ রোপণের মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণ ও সবুজায়নের লক্ষ্যে সরকারের চলমান কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।

