অবৈধ অনুপ্রবেশ, পুশ-ইন, মানবপাচার, মাদক ও অস্ত্র চোরাচালানসহ সব ধরনের আন্তঃসীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর সদস্যদের সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি সদস্যকে আরও দায়িত্বশীল, পেশাদার এবং কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।তথ্য সূত্র: বাসস
সোমবার ঢাকার পিলখানায় বিজিবি সদর দপ্তর পরিদর্শনকালে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এসব নির্দেশনা দেন। সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় বিজিবির ভূমিকারও প্রশংসা করেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্টভাবে বলেন, সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশ, জোরপূর্বক পুশ-ইন, মানবপাচার, মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান এবং অন্যান্য অপরাধ রোধে বিজিবিকে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। তিনি সদস্যদের সতর্ক থেকে প্রতিটি সীমান্ত এলাকায় নজরদারি আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান।
তার মতে, সীমান্ত নিরাপত্তা শুধু আইন-শৃঙ্খলার বিষয় নয়; এটি দেশের সার্বভৌমত্ব, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা এবং জাতীয় স্থিতিশীলতার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। তাই দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের শৈথিল্যের সুযোগ নেই।
সোমবার সকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিজিবি সদর দপ্তরে পৌঁছালে বাহিনীর একটি সুসজ্জিত ও চৌকস দল তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। পরে তিনি বিজিবির অপারেশনাল সক্ষমতা, প্রশিক্ষণ কার্যক্রম, প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা এবং চলমান উন্নয়ন প্রকল্প সম্পর্কে বিস্তারিত ব্রিফিং গ্রহণ করেন।
এ সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং বিভিন্ন উন্নয়ন উদ্যোগ সম্পর্কে মন্ত্রীকে অবহিত করেন।
পিলখানার শহীদ শাকিল আহমেদ হলে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিজিবি সদস্যদের দেশপ্রেম, সততা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, একটি সুশৃঙ্খল বাহিনীর সবচেয়ে বড় শক্তি হলো শৃঙ্খলা, চেইন অব কমান্ডের প্রতি শ্রদ্ধা এবং পারস্পরিক সম্মানবোধ। এসব মূল্যবোধ অটুট রাখলেই বাহিনীর কার্যকারিতা আরও বৃদ্ধি পাবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সদস্যদের গুজব ও অপপ্রচার থেকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কেবল যাচাইকৃত ও নির্ভরযোগ্য তথ্যের ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, আধুনিক প্রযুক্তি এবং গোয়েন্দা তথ্যের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারলে সীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধ আরও কার্যকর হবে। একই সঙ্গে সীমান্তবর্তী জনগণের আস্থা অর্জনের ওপরও তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
সীমান্ত রক্ষার পাশাপাশি দুর্যোগ, প্রাকৃতিক বিপর্যয় কিংবা জাতীয় সংকটের সময় বিজিবিকে মানবিক দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের মানুষ সবসময় বিজিবির ওপর আস্থা রাখে। সেই আস্থার প্রতিফলন ঘটাতে সদস্যদের জনগণের পাশে থাকতে হবে।
এ ছাড়া নিরপেক্ষতা, জবাবদিহিতা এবং আইনের শাসনের প্রতি অবিচল থেকে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ এই মূলমন্ত্র ধারণ করে বিজিবির সদস্যরা অতীতের মতো ভবিষ্যতেও সীমান্ত নিরাপত্তা, জাতীয় সার্বভৌমত্ব এবং দেশের স্বার্থ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, আত্মত্যাগ, শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্বের মাধ্যমে বিজিবি দেশের মানুষের আস্থা আরও সুদৃঢ় করবে এবং সীমান্ত নিরাপত্তাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।
মতবিনিময় সভায় বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকীসহ সদর দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া জেসিও, বিভিন্ন পদমর্যাদার সদস্য এবং অসামরিক কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
শুধু সদর দপ্তরেই নয়, ভিডিও টেলিকনফারেন্সের (ভিটিসি) মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন রিজিয়ন, সেক্টর, ব্যাটালিয়ন ও সীমান্ত ফাঁড়িতে (বিওপি) কর্মরত সদস্যরাও এই মতবিনিময় সভায় যুক্ত ছিলেন।
মতবিনিময় সভা শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিজিবি সদর দপ্তরের পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন। এরপর তিনি পিলখানার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ঘুরে দেখেন।
পরিদর্শনের তালিকায় ছিল সীমান্ত গৌরব, ২০০৯ শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ এবং দীপ্ত সীমান্ত বিশেষায়িত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। পাশাপাশি সীমান্ত কুঞ্জ এলাকায় একটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতেও অংশ নেন তিনি।
পরিদর্শন শেষে শহীদ ক্যাপ্টেন আশরাফ হলে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এ সময় তিনি সমসাময়িক বিভিন্ন জাতীয় ইস্যুতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেন এবং সীমান্ত নিরাপত্তা, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সরকারের চলমান উদ্যোগ সম্পর্কে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন।

