খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img

আগস্টে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হচ্ছে ‘প্রবাসী কার্ড’ মিলবে ১০টি সুবিধা

বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের জন্য সুখবর নিয়ে আসছে সরকার। দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার পর আগামী আগস্ট মাসে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হতে যাচ্ছে বহুল আলোচিত ‘প্রবাসী কার্ড’। প্রাথমিকভাবে রাষ্ট্রায়ত্ত...
Homeবিশ্ব সংবাদবাংলাদেশশেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ অনুরোধ ‘খতিয়ে দেখা হচ্ছে’:রণধীর জয়সওয়াল

শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ অনুরোধ ‘খতিয়ে দেখা হচ্ছে’:রণধীর জয়সওয়াল

শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রশ্নটি বর্তমানে বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অন্যতম আলোচিত বিষয়। দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান আইনি সহযোগিতা, প্রত্যর্পণ চুক্তি এবং কূটনৈতিক যোগাযোগের ওপরই এই প্রক্রিয়ার ভবিষ্যৎ অনেকাংশে নির্ভর করছে।

ক্ষমতাচ্যুত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে ভারতের কাছে করা প্রত্যর্পণ অনুরোধ বর্তমানে পর্যালোচনার পর্যায়ে রয়েছে। এ তথ্য জানিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ সরকারের পাঠানো আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ অনুরোধ ভারতীয় কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট আইন ও প্রক্রিয়ার আলোকে খতিয়ে দেখছে।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) অনুষ্ঠিত ভারতের সাপ্তাহিক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ভারত ইতোমধ্যে বাংলাদেশের প্রত্যর্পণ অনুরোধ গ্রহণ করেছে। তিনি জানান, এর আগেও এ বিষয়ে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করা হয়েছিল এবং এখনো সেই অনুরোধ যথাযথভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রত্যর্পণের মতো সংবেদনশীল আন্তর্জাতিক আইনি বিষয়গুলো নির্ধারিত আইনি কাঠামো, বিদ্যমান চুক্তি এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার ভিত্তিতেই বিবেচিত হয়।

বাংলাদেশ সরকার শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে ভারতের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রেখেছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, এ বিষয়ে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ধারাবাহিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক তৎপরতাও চালানো হচ্ছে।

আরও পড়ুন :  ‘বিজেপির পতন দেখতেই আমি বেঁচে থাকবো’: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

তিনি বলেন, সরকার প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিতে ভারতকে নিয়মিতভাবে প্রয়োজনীয় তাগিদ দিচ্ছে।

আন্তর্জাতিক আইনে প্রত্যর্পণ একটি জটিল বিচারিক ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া। কোনো দেশের কাছ থেকে প্রত্যর্পণের আবেদন এলে সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্র সাধারণত কয়েকটি বিষয় বিবেচনায় নেয়। এর মধ্যে রয়েছে, দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান প্রত্যর্পণ চুক্তি,অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের প্রকৃতি, সংশ্লিষ্ট দেশের জাতীয় আইন, বিচারিক ও মানবাধিকার সংক্রান্ত বিধান,আদালতের প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও আইনি প্রক্রিয়া।

এ কারণে প্রত্যর্পণের আবেদন জমা দেওয়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় না; বরং বিস্তারিত আইনি পর্যালোচনার পর চূড়ান্ত অবস্থান জানানো হয়।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ত্যাগ করে ভারতে যান। এরপর থেকে তিনি সেখানেই অবস্থান করছেন।

আরও পড়ুন :  ট্রাম্প কি দেখা করবেন মোজতবা খামেনেইয়ের সঙ্গে? ইরান-আমেরিকা চুক্তির বড় ইঙ্গিত!

পরবর্তীতে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যর্পণের আবেদন করে। পরে বিএনপি নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত সরকারও একই বিষয়ে ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রাখে এবং প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ ধরে রাখে।

বাংলাদেশে দায়ের হওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় শেখ হাসিনা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে উল্লেখিত। এই রায়ের পর তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার বিষয়টি সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এ কারণে প্রত্যর্পণ ইস্যুটি শুধু একটি কূটনৈতিক বিষয় নয়; এটি বাংলাদেশের বিচারিক প্রক্রিয়া এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতারও গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।

একই সংবাদ ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকরা শহিদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামির প্রত্যর্পণ নিয়েও প্রশ্ন করেন। এ বিষয়ে রণধীর জয়সওয়াল জানান, নির্দিষ্ট ওই মামলার আবেদন সম্পর্কে তার কাছে তাৎক্ষণিক কোনো তথ্য নেই।

আরও পড়ুন :  এমবাপ্পেকে ক্ষমা চাইতে আলটিমেটাম প্যারাগুয়ের সিনেটরের

তবে তিনি স্পষ্ট করেন, যেকোনো প্রত্যর্পণ আবেদনই সংশ্লিষ্ট আইন, আন্তর্জাতিক চুক্তি এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার আলোকে মূল্যায়ন করা হবে।

চলতি বছরের মার্চ মাসে শহিদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদকে ভারতীয় পুলিশ গ্রেপ্তার করে। এরপর তাকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণের বিষয়টি আলোচনায় এলেও ভারত এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত প্রকাশ করেনি।

ফলে মামলাটির অগ্রগতি এবং সম্ভাব্য প্রত্যর্পণ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আইনি ও কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।

শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রশ্নটি বর্তমানে বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অন্যতম আলোচিত বিষয়। দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান আইনি সহযোগিতা, প্রত্যর্পণ চুক্তি এবং কূটনৈতিক যোগাযোগের ওপরই এই প্রক্রিয়ার ভবিষ্যৎ অনেকাংশে নির্ভর করছে।

ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে যে, তারা বাংলাদেশের আবেদন গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ সরকারও প্রত্যর্পণ নিশ্চিত করতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।