খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img
Homeবিশ্ব সংবাদওয়েস্ট বেঙ্গল‘বিজেপির পতন দেখতেই আমি বেঁচে থাকবো’: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

‘বিজেপির পতন দেখতেই আমি বেঁচে থাকবো’: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

‘করবো, লড়বো, বাঁচবো’ এই স্লোগান উচ্চারণ করে তিনি জানান, রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর কোনও পরিকল্পনা তার নেই। বরং তিনি আগামী দিনেও সক্রিয়ভাবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতে চান।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বয়স নিয়ে হওয়া রাজনৈতিক সমালোচনার কড়া জবাব দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, বয়স নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনও কারণ নেই এবং তিনি বিজেপির রাজনৈতিক পতন না দেখে বিদায় নেবেন না। তার এই মন্তব্য নতুন করে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার ফেসবুকে দেওয়া এক বক্তব্যে ৭১ বছর বয়সী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, মানুষের প্রকৃত বয়স নির্ধারণ করে তার মনোবল, শারীরিক সক্ষমতা এবং মানসিক শক্তি। কেবল সংখ্যার ভিত্তিতে একজন ব্যক্তির সক্ষমতা বিচার করা উচিত নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

বক্তব্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, তার বয়স নিয়ে অযথা আলোচনা করার প্রয়োজন নেই। তিনি প্রশ্ন তোলেন, তিনি কখনও ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বয়স নিয়ে মন্তব্য করেছেন কি না। একই সঙ্গে তিনি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে বয়স নিয়ে ব্যক্তিগত আক্রমণ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।

আরও পড়ুন :  হাওড়া স্টেশনে গড়ে উঠতে পারে আন্তর্জাতিক মানের বাস ও ট্যাক্সি টার্মিনাল, রেলমন্ত্রীর কাছে রাজ্যের প্রস্তাব

তিনি বলেন, কাউকে বয়সের কারণে অপমান করা উচিত নয়। তার দাবি, বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার দিন বিজেপির অনেকেই আশা করেছিলেন তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যাবেন। কিন্তু তিনি দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, তিনি বেঁচে থাকবেন এবং বিজেপির পতন নিজের চোখে দেখবেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ তার ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুললেও সেসব মন্তব্যকে গুরুত্ব দিতে নারাজ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানান, এখনও তার দলের পুনর্গঠন করার পূর্ণ সক্ষমতা রয়েছে এবং প্রয়োজন হলে নতুন উদ্যমে আবারও শুরু করতে পারবেন।

তার ভাষায়, যারা দল ছেড়ে যেতে চান তারা যেতে পারেন। তবে যারা দলের সঙ্গে থাকবেন, তারাই তৃণমূল কংগ্রেসের সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে উঠবেন। তিনি বলেন, অতীতেও একাধিকবার কঠিন পরিস্থিতি থেকে দলকে নতুনভাবে গড়ে তুলেছেন এবং ভবিষ্যতেও সেই সাহস ও আত্মবিশ্বাস তার রয়েছে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ১৯৯৭ সালে তৃণমূল কংগ্রেস গঠন এবং ২০০৪ সালের কঠিন সময়ের মতো ২০২৬ সালেও তিনি নতুন করে রাজনৈতিক লড়াই শুরু করতে প্রস্তুত। তার মতে, প্রতিকূল পরিস্থিতি তাকে কখনও দমিয়ে রাখতে পারেনি।

আরও পড়ুন :  রবিবার পর্যন্ত স্বস্তি নেই! দক্ষিণবঙ্গে ঝড়বৃষ্টি, উত্তরবঙ্গেও সপ্তাহান্তে বাড়বে বর্ষণের দাপট

তিনি আরও দাবি করেন, তিনি এক বা দুই নয়, তিন প্রজন্মের রাজনৈতিক নেতৃত্ব তৈরি করেছেন। যারা এখনও তার পাশে রয়েছেন, তাদের জন্য তিনি সবসময় অভিভাবকের মতো দায়িত্ব পালন করবেন।

সাম্প্রতিক সময়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা ধরনের আলোচনা তৈরি হলেও তিনি তা স্পষ্টভাবে নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, তার লড়াই এখনও শেষ হয়নি।

‘করবো, লড়বো, বাঁচবো’ এই স্লোগান উচ্চারণ করে তিনি জানান, রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর কোনও পরিকল্পনা তার নেই। বরং তিনি আগামী দিনেও সক্রিয়ভাবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতে চান।

এদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়েও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হচ্ছে, দলের ভেতরে বিদ্রোহের কারণে নেতৃত্বের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। এছাড়া কয়েকজন জনপ্রতিনিধির অবস্থান পরিবর্তনের খবরও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

আরও পড়ুন :  খাবার-আশ্রয়ের সংকটে স্পেন ছেড়ে মরক্কোয় ফিরছে হাজারো মানুষ

তবে এসব পরিস্থিতির মধ্যেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানিয়েছেন, দলকে ঐক্যবদ্ধ রেখে তিনি সামনে এগিয়ে যাবেন। তার বিশ্বাস, রাজনৈতিক সংকট সামাল দেওয়ার অভিজ্ঞতা এবং সাংগঠনিক দক্ষতার মাধ্যমে তৃণমূল কংগ্রেস আবারও শক্ত অবস্থানে ফিরে আসবে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক বক্তব্য শুধু বয়স বিতর্কের জবাব নয়, বরং এটি বিজেপির বিরুদ্ধে তার রাজনৈতিক অবস্থানেরও স্পষ্ট প্রকাশ। একই সঙ্গে তিনি দলের কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে ঐক্য, সংগ্রাম এবং আত্মবিশ্বাসের বার্তা দিয়েছেন।

আগামী বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে তার এই বক্তব্য তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনৈতিক কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিরোধীদের সমালোচনার জবাব দেওয়ার পাশাপাশি দলীয় কর্মীদের উজ্জীবিত করাই ছিল এই বক্তব্যের অন্যতম উদ্দেশ্য।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

আর্কাইভ