খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img
Homeমেডিকেল জার্নালকোলেস্টেরল কমাতে নতুন ওষুধ! কীভাবে কাজ করে, কারা খেতে পারবেন?

কোলেস্টেরল কমাতে নতুন ওষুধ! কীভাবে কাজ করে, কারা খেতে পারবেন?

কিন্তু শরীরে PCSK9 নামের একটি প্রোটিনের মাত্রা বেড়ে গেলে এটি সেই এলডিএল রিসেপ্টরগুলোকে নষ্ট করে দেয়। ফলে লিভার পর্যাপ্ত পরিমাণে কোলেস্টেরল অপসারণ করতে পারে না এবং রক্তে এলডিএল বেড়ে যায়।

রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে গেলে তা শুধু হৃদ্‌রোগের ঝুঁকিই বাড়ায় না, বরং লিভারসহ শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই দীর্ঘদিন ধরেই চিকিৎসকেরা স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম এবং প্রয়োজনে ওষুধ সেবনের মাধ্যমে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখার পরামর্শ দিয়ে আসছেন।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের একটি ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান নতুন ধরনের একটি কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণকারী ট্যাবলেট বাজারে আনার ঘোষণা দিয়েছে। গবেষকদের দাবি, এই ওষুধ উচ্চমাত্রার এলডিএল বা ‘খারাপ’ কোলেস্টেরল কমাতে কার্যকর হতে পারে এবং অনেক রোগীর ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ইনজেকশনভিত্তিক চিকিৎসার প্রয়োজনও কমিয়ে দিতে পারে। তবে এটি কোনো অলৌকিক ওষুধ নয় এবং চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ব্যবহার করা উচিত নয়।

কোলেস্টেরল শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় একটি চর্বিজাতীয় উপাদান হলেও এর মাত্রা অতিরিক্ত বেড়ে গেলে সমস্যা তৈরি হয়। বিশেষ করে এলডিএল (Low-Density Lipoprotein) বা খারাপ কোলেস্টেরল ধমনীর দেয়ালে জমে রক্ত চলাচলে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।

এর ফলে দেখা দিতে পারে—

  • হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি
  • হার্ট অ্যাটাক
  • স্ট্রোক
  • ধমনী শক্ত হয়ে যাওয়া
  • ফ্যাটি লিভার ও অন্যান্য লিভারের জটিলতা

এই কারণেই চিকিৎসকেরা নিয়মিত কোলেস্টেরল পরীক্ষা এবং জীবনযাত্রায় পরিবর্তনের ওপর জোর দেন।

বর্তমানে উচ্চ কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় স্ট্যাটিন গ্রুপের ওষুধ। অনেক রোগীর ক্ষেত্রে স্ট্যাটিনের পাশাপাশি PCSK9 ইনহিবিটর ইনজেকশনও দেওয়া হয়, বিশেষ করে যখন শুধু স্ট্যাটিনে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায় না।

আরও পড়ুন :  অটিজম কেন হয়? অটিজমের কারণ, ঝুঁকি ও আধুনিক বিজ্ঞান যা বলছে

তবে নিয়মিত ইনজেকশন নেওয়া অনেকের জন্য ব্যয়বহুল এবং ঝামেলাপূর্ণ হতে পারে। তাই সহজে সেবনযোগ্য কার্যকর ট্যাবলেট নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই গবেষণা চলছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান Merck নতুন একটি ওষুধ তৈরি করেছে, যার জেনেরিক নাম Lipfendra বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

গবেষকদের দাবি অনুযায়ী, এই ওষুধটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে এটি শরীরের এলডিএল কোলেস্টেরল কমানোর স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর করে তোলে। বিশেষ করে যাঁদের দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ কোলেস্টেরল রয়েছে বা হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি বেশি, তাঁদের জন্য এটি সম্ভাবনাময় চিকিৎসা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, গবেষণায় ভালো ফল পাওয়া গেলেও বাস্তবে কোনো ওষুধ শতভাগ কোলেস্টেরল “নির্মূল” করে দেয়—এমন দাবি চিকিৎসাবিজ্ঞানে প্রতিষ্ঠিত নয়। ওষুধের কার্যকারিতা ব্যক্তি ভেদে ভিন্ন হতে পারে।

এই ওষুধটি মূলত PCSK9 inhibitor শ্রেণির ওষুধ হিসেবে কাজ করে।

মানবদেহের লিভারে এলডিএল রিসেপ্টর নামে বিশেষ গ্রাহক থাকে, যা রক্ত থেকে খারাপ কোলেস্টেরল সংগ্রহ করে শরীর থেকে অপসারণে সাহায্য করে।

কিন্তু শরীরে PCSK9 নামের একটি প্রোটিনের মাত্রা বেড়ে গেলে এটি সেই এলডিএল রিসেপ্টরগুলোকে নষ্ট করে দেয়। ফলে লিভার পর্যাপ্ত পরিমাণে কোলেস্টেরল অপসারণ করতে পারে না এবং রক্তে এলডিএল বেড়ে যায়।

আরও পড়ুন :  বাঙালির হারিয়ে যাওয়া ঘরোয়া শরবত: গরমে শরীর ঠান্ডা রাখা প্রাচীন শীতল পানীয়ের সহজ রেসিপি

এই নতুন ওষুধের কাজ হলো—

  • PCSK9-এর কার্যকারিতা কমানো
  • এলডিএল রিসেপ্টরকে সুরক্ষা দেওয়া
  • লিভারের মাধ্যমে বেশি পরিমাণ কোলেস্টেরল অপসারণে সহায়তা করা
  • দীর্ঘমেয়াদে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হওয়া

কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে থাকলে লিভারের ওপরও চাপ কমে। নতুন ওষুধটি লিভারের স্বাভাবিক কার্যক্রমকে সহায়তা করতে পারে বলে গবেষকেরা মনে করছেন।

সম্ভাব্য উপকারিতার মধ্যে রয়েছে—

  • লিভারের কোষের কার্যকারিতা বজায় রাখতে সহায়তা
  • অতিরিক্ত চর্বি জমার ঝুঁকি কমানো
  • দীর্ঘমেয়াদে কিছু লিভারজনিত জটিলতার ঝুঁকি হ্রাসে সহায়ক ভূমিকা

তবে এটি লিভারের সব ধরনের রোগের চিকিৎসা নয় এবং এমন দাবি বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত নয়।

গবেষণা অনুযায়ী, যাঁদের ক্ষেত্রে এই ওষুধটি বিশেষভাবে বিবেচনা করা যেতে পারে—

  • দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ কোলেস্টেরলে ভুগছেন
  • পারিবারিক বা বংশগত উচ্চ কোলেস্টেরল (Familial Hypercholesterolemia) রয়েছে
  • হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি
  • প্রচলিত স্ট্যাটিন চিকিৎসায় কাঙ্ক্ষিত ফল মিলছে না
  • চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অতিরিক্ত কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন

তবে সবার জন্য একই চিকিৎসা প্রযোজ্য নয়। রোগীর বয়স, শারীরিক অবস্থা, অন্যান্য রোগ এবং ব্যবহৃত ওষুধ বিবেচনা করে চিকিৎসক সিদ্ধান্ত নেবেন।

একেবারেই নয়।

আরও পড়ুন :  বাবা-মা দু’জনেই থ্যালাসেমিয়ার বাহক? সন্তানের ঝুঁকি কতটা জানলে চমকে যাবেন!

কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখতে ওষুধের পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন—

  • কম তেল ও কম চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়া
  • শাকসবজি, ফল ও আঁশযুক্ত খাবার বেশি খাওয়া
  • নিয়মিত হাঁটা বা ব্যায়াম করা
  • ধূমপান ও অতিরিক্ত মদ্যপান এড়িয়ে চলা
  • ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা
  • নিয়মিত লিপিড প্রোফাইল পরীক্ষা করা
  • চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুযায়ী ওষুধ সেবন করা

নতুন কোনো ওষুধ বাজারে এলেই তা নিজে থেকে শুরু করা উচিত নয়।

মনে রাখুন—

  • চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ছাড়া ওষুধ গ্রহণ করবেন না।
  • নির্ধারিত ডোজের বাইরে ওষুধ সেবন করবেন না।
  • পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
  • জীবনযাত্রার পরিবর্তনের বিকল্প হিসেবে কোনো ওষুধকে বিবেচনা করা ঠিক নয়।

উচ্চ কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে নতুন প্রজন্মের PCSK9 ইনহিবিটর ট্যাবলেট ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। গবেষণায় ইতিবাচক ফলাফল পাওয়া গেলেও এটি কোনো জাদুকরি সমাধান নয়। নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, ব্যায়াম এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ওষুধ—এই চারটির সমন্বয়ই কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

যাঁদের দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ কোলেস্টেরল বা হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি রয়েছে, তাঁদের জন্য এই ধরনের নতুন চিকিৎসা আশাব্যঞ্জক হতে পারে। তবে ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য পরিস্থিতি অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শই হবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ভিত্তি।