নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা ২৬: ভুটানের রাজা জিগমে খেসার নামগে ওয়াংচুক বুধবার ভোরে ঢাকায় যাত্রাবিরতি করেছেন। তিনি সিঙ্গাপুর থেকে ভুটান যাওয়ার পথে তাঁর বিশেষ বিমান হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। বিমানবন্দরের ভিভিআইপি লাউঞ্জে এ সময় বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ভুটানের রাজা।
সাক্ষাতে দু’দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি বাংলাদেশ ও ভুটানের ঐতিহাসিক বন্ধুত্ব, দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা এবং ভবিষ্যৎ সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
ভুটানের রাজা জিগমে খেসার নামগে ওয়াংচুককে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্বাগত জানান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রাজাকে বহনকারী বিশেষ বিমানটি সিঙ্গাপুর থেকে ভুটান যাওয়ার পথে ঢাকায় যাত্রাবিরতি করে।
বিমানবন্দরে অবস্থানকালে রাষ্ট্রপতি ও ভুটানের রাজার মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকটি ছিল সৌজন্যপূর্ণ। দুই নেতা দুই দেশের সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে মতবিনিময় করেন।
সাক্ষাতের সময় রাষ্ট্রপতি ভুটানের রাজা এবং রাজপরিবারের সদস্যদের সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় সফরের আমন্ত্রণ জানান। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এই আমন্ত্রণকে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও গভীর করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
জবাবে ভুটানের রাজাও বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীকে তাঁদের সুবিধাজনক সময়ে ভুটান সফরের আমন্ত্রণ জানান। এর মধ্য দিয়ে দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের যোগাযোগ ও পারস্পরিক সফরের ধারাবাহিকতা আরও জোরদার হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
সাক্ষাৎকালে ভুটানের রাজা জিগমে খেসার নামগে ওয়াংচুক রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভকামনা জানান।
অন্যদিকে বাংলাদেশের জনগণ ও সরকারের পক্ষ থেকে ভুটানের রাজা এবং রাজপরিবারের সদস্যদের উষ্ণ শুভেচ্ছা জানান রাষ্ট্রপতি।
দুই দেশের রাষ্ট্রীয় সম্পর্কের পাশাপাশি পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বন্ধুত্বের বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পায়।
আলোচনায় বাংলাদেশ ও ভুটানের ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, ভুটান বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে বিশেষ স্থান দখল করে আছে।
রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন, ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়া বিশ্বের প্রথম দেশ ছিল ভুটান। মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের প্রতি ভুটানের এই সমর্থন দুই দেশের সম্পর্কের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়।
এ সময় বাংলাদেশের প্রতি ভুটানের বর্তমান রাজার পিতা রাজা জিগমে সিংগে ওয়াংচুকের বিশেষ মমত্ববোধ ও গভীর শ্রদ্ধার কথাও তুলে ধরেন রাষ্ট্রপতি।
বাংলাদেশ ও ভুটানের অভিন্ন উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির আকাঙ্ক্ষার কথা তুলে ধরে দুই দেশের সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করার ওপর গুরুত্ব দেন ভুটানের রাজা।
বিশেষ করে শিক্ষা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তার কথা তিনি উল্লেখ করেন।
দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে পারস্পরিক সুবিধাজনক সহযোগিতার ক্ষেত্র বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়। এর ফলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যে বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক যোগাযোগ আরও বাড়তে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
সাক্ষাতে ভুটানের অন্যতম আলোচিত উদ্যোগ ‘গেলেফু মাইন্ডফুলনেস সিটি’ প্রকল্প সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন রাজা জিগমে খেসার নামগে ওয়াংচুক।
তিনি প্রকল্পটিতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ ও সহযোগিতা কামনা করেন। ভুটানের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই উদ্যোগকে দেশটির একটি গুরুত্বপূর্ণ রূপান্তরমূলক প্রকল্প হিসেবে তুলে ধরা হয়।
প্রকল্পটির বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, পারস্পরিক কল্যাণ, সমৃদ্ধি ও টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে আঞ্চলিক রূপান্তরমূলক উদ্যোগগুলো এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ ভুটানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে প্রস্তুত।
ভুটানের রাজা জিগমে খেসার নামগে ওয়াংচুক এ সাথে বৈঠকের সময় রাষ্ট্রপতির সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, বাংলাদেশে নিযুক্ত ভুটানের রাষ্ট্রদূত এবং বাংলাদেশ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

