বাংলাদেশের নয়টি অঞ্চলে ঝড়ো হাওয়া ও বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। এসব এলাকায় বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টির সঙ্গে অস্থায়ীভাবে দমকা কিংবা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। বাতাসের গতি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়। আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্র এ পূর্বাভাস প্রকাশ করেছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, রংপুর, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলে ঝড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এসব এলাকার ওপর দিয়ে দক্ষিণ অথবা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে বাতাস বয়ে যেতে পারে। একই সময়ে বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টিও হতে পারে। কোথাও কোথাও অল্প সময়ের জন্য দমকা হাওয়ার তীব্রতা বাড়তে পারে।
ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে বৃষ্টির কারণে নদীপথে চলাচল করা নৌযানগুলোকে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হতে পারে। বিশেষ করে ছোট নৌযান ও খোলা নৌযানের ক্ষেত্রে আবহাওয়ার পরিবর্তন দ্রুত ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
নদীবন্দরের জন্য ১ নম্বর সতর্ক সংকেত জারি করা হলে সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীপথে আবহাওয়ার সাময়িক অবনতি হতে পারে—এমন পরিস্থিতির কথা বোঝানো হয়। ঝোড়ো হাওয়া, বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলে নৌযান চলাচলে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
এ কারণে রংপুর, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলের নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত প্রদর্শন করতে বলা হয়েছে।
নদীতে থাকা নৌযানগুলোকে আবহাওয়ার সর্বশেষ পরিস্থিতির দিকে নজর রাখতে বলা হয়েছে। হঠাৎ বাতাসের গতি বেড়ে গেলে নিরাপদ স্থানে অবস্থান করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, শুধু নির্দিষ্ট নয়টি অঞ্চল নয়, দেশের বিভিন্ন জায়গাতেই বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এর আগে সোমবার (২৪ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার জন্য দেওয়া আবহাওয়ার পূর্বাভাসেও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা জানানো হয়েছিল।
সেই পূর্বাভাসে বলা হয়েছিল, রংপুর, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় বৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু জায়গায়ও অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বাংলাদেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণও হতে পারে বলে জানিয়েছিল আবহাওয়া অধিদপ্তর।
মঙ্গলবারের নদীবন্দর পূর্বাভাসে বাতাসের দিক সম্পর্কেও তথ্য দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট নয়টি অঞ্চলে দক্ষিণ অথবা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঝোড়ো হাওয়া আসতে পারে।
বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটারের মধ্যে থাকতে পারে। বৃষ্টির সময় বাতাসের গতি হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার কারণে গাছপালা, বিদ্যুতের অবকাঠামো এবং দুর্বল স্থাপনার ওপর চাপ তৈরি হতে পারে।
শহর ও গ্রাম দুই জায়গাতেই এ ধরনের আবহাওয়ায় সতর্ক থাকা জরুরি। বজ্রপাতের আশঙ্কা থাকলে খোলা মাঠ, নদী বা জলাশয়ের কাছে অবস্থান না করাই নিরাপদ।
বাংলাদেশের আবহাওয়া পরিস্থিতি নিয়ে দেওয়া পূর্বাভাসে তাপমাত্রা সম্পর্কেও তথ্য জানানো হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর বলেছে, সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
তবে রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। ফলে দিনের তুলনায় রাতে আবহাওয়ায় কিছুটা স্বস্তি মিলতে পারে। বৃষ্টিপাতের কারণে কোনো কোনো এলাকায় সাময়িকভাবে গরমের অনুভূতিও কমে আসতে পারে।
তবে বৃষ্টির পর আকাশ পরিষ্কার হলে আবারও ভ্যাপসা গরম অনুভূত হতে পারে। তাই আবহাওয়ার পরিস্থিতি অঞ্চলভেদে ভিন্ন হতে পারে।
বজ্রবৃষ্টি শুরু হলে বাইরে থাকা এড়িয়ে চলা সবচেয়ে ভালো। বিশেষ করে নদী, পুকুর, খোলা মাঠ কিংবা উঁচু জায়গায় অবস্থান করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
বজ্রপাতের সময় গাছের নিচে আশ্রয় নেওয়াও নিরাপদ নয়। সম্ভব হলে পাকা ভবনের ভেতরে অবস্থান করা উচিত। বিদ্যুৎ চমকানো বা বজ্রপাতের সময় বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ব্যবহারে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
নদীপথে চলাচলকারীদের জন্য সতর্কতা আরও গুরুত্বপূর্ণ। আকাশে কালো মেঘ দেখা দিলে বা হঠাৎ বাতাসের গতি বেড়ে গেলে নৌযান নিরাপদ স্থানে নেওয়ার ব্যবস্থা করা উচিত।
বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোতে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখানোর সিদ্ধান্ত মূলত সম্ভাব্য ঝড়ো আবহাওয়ার বিষয়ে আগাম সতর্কতা হিসেবে কাজ করে। নদীতে চলাচলকারী নৌযানগুলোর চালক ও যাত্রীদের তাই আবহাওয়ার সর্বশেষ খবর জেনে যাত্রা করা প্রয়োজন।
বিশেষ করে ছোট নৌকা, ট্রলার ও অন্যান্য নৌযানের ক্ষেত্রে ঝোড়ো বাতাস বড় ধরনের সমস্যা তৈরি করতে পারে। বৃষ্টির সঙ্গে বাতাসের গতি বাড়লে নদীর পানি উত্তাল হয়ে উঠতে পারে এবং নৌযানের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
বাংলাদেশে বর্ষাকালে হঠাৎ বৃষ্টি, বজ্রপাত ও ঝোড়ো হাওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। কোনো এলাকায় কয়েক ঘণ্টা আগেও আবহাওয়া স্বাভাবিক থাকলেও পরে পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যেতে পারে। তাই আবহাওয়া অধিদপ্তরের সতর্কবার্তা নিয়মিত অনুসরণ করা জরুরি।
মঙ্গলবার সকাল থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত রংপুর, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলের নদীবন্দরগুলোতে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত বহাল থাকবে। এসব অঞ্চলে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঝোড়ো হাওয়া এবং বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
সব মিলিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। কোথাও হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হলেও কোনো কোনো এলাকায় ভারী বর্ষণ হতে পারে। তাই বাইরে বের হওয়ার আগে স্থানীয় আবহাওয়ার পরিস্থিতি জেনে নেওয়া এবং নদীপথে চলাচলের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করাই হবে নিরাপদ সিদ্ধান্ত।

