বাংলাদেশে ডেঙ্গুর পরিস্থিতি ফের উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ৮৩৯ জন। এ সময়ে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে রবিবার এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, দেশের আট বিভাগেই ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের আট বিভাগে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে ৮৩৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। অর্থাত চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৮ হাজার ৯২৯ জনে।
অর্থাৎ বছরের শুরু থেকে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে বিপুলসংখ্যক মানুষ চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে যেতে বাধ্য হয়েছেন। প্রতিদিন নতুন রোগী শনাক্ত ও হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতা এবং মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম আরও জোরদার করার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন পাঁচজন। মৃতদের মধ্যে চারজন ঢাকা বিভাগের এবং একজন ময়মনসিংহ বিভাগের বাসিন্দা।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মোট ৮২ জনের মৃত্যু হয়েছে। নতুন করে পাঁচজনের মৃত্যু যুক্ত হওয়ায় এ বছর ডেঙ্গুতে প্রাণহানির সংখ্যা ৮২-তে পৌঁছেছে।
ডেঙ্গুতে গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া পাঁচজনের মধ্যে চারজনই ঢাকা বিভাগের হওয়ায় রাজধানী ও আশপাশের এলাকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা, জমে থাকা পানি এবং মশার প্রজননস্থল ডেঙ্গু সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা সাধারণত ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাড়িঘর ও আশপাশ পরিষ্কার রাখা, কোথাও পানি জমতে না দেওয়া এবং মশার বংশবিস্তার ঠেকানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। বিশেষ করে বাসাবাড়ির ছাদ, বারান্দা, ফুলের টব, নির্মাণাধীন ভবন ও বিভিন্ন পাত্রে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করা জরুরি।
চলতি বছরের শুরু থেকে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ইতোমধ্যে ২৮ হাজার ৯২৯ জনে দাঁড়িয়েছে। এর সঙ্গে নতুন করে ৮৩৯ জন রোগী যোগ হয়েছে।
ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়লে হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপও বেড়ে যায়। ফলে গুরুতর রোগীদের চিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সংক্রমণ প্রতিরোধে আগে থেকেই কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
ডেঙ্গু একটি মশাবাহিত রোগ। তাই শুধু হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার ওপর নির্ভর না করে সংক্রমণের উৎস নিয়ন্ত্রণ করাও জরুরি। বাড়ি ও কর্মস্থলের আশপাশে পানি জমে আছে কি না, তা নিয়মিত পরীক্ষা করা উচিত।
জ্বর হলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে রোগীর শারীরিক অবস্থার পরিবর্তনের দিকে নজর রাখা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে জ্বরের সঙ্গে দুর্বলতা, পেটের সমস্যা বা অন্য কোনো অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া উচিত।
দেশে ডেঙ্গুর সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় প্রশাসন, সিটি করপোরেশন, স্বাস্থ্য বিভাগ এবং সাধারণ মানুষের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। শুধু মশা নিধন কার্যক্রম চালালেই ডেঙ্গু পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। একই সঙ্গে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং জনগণের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে হবে।
তথ্য সূত্র: বিবিসি বাংলা

