বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে অরো শক্তিশালী করতে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন নবনিযুক্ত তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ। তিনি বলেছেন, মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কোনোভাবেই যেন গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করার মানসিকতা তৈরি না হয়। বরং গণমাধ্যমকে ও সাংবাদিকদের স্বাধীন ও দায়িত্বশীলভাবে কাজ করার উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে রবিবার (২৩ আগস্ট) তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
নবনিযুক্ত তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ বলেন, গণতন্ত্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হলো গণমাধ্যম। গত ১৭ বছরে নানা ধরনের নিয়ন্ত্রণমূলক পরিস্থিতির মধ্যেও গণমাধ্যমের মাধ্যমে সরকারের বিভিন্ন অনিয়ম, অত্যাচার, নির্যাতন এবং গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধের ঘটনা সাধারণ মানুষ জানতে পেরেছে।
তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনের সময় সংবাদমাধ্যম ও সাংবাদিকদের ভূমিকা কোনোভাবেই খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। ওই সময়ে অনেক সাংবাদিক স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের সুযোগ পাননি। এমনকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট দেওয়ার ক্ষেত্রেও অনেককে বারবার ভাবতে হয়েছে কী লেখা যাবে এবং কী লেখা যাবে না।
মন্ত্রী আরও বলেন, টেলিভিশনের লাইসেন্স, অনুষ্ঠানে কারা কথা বলবেন এবং কী ধরনের বক্তব্য দেওয়া যাবে এসব বিষয়েও অতীতে নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ ছিল।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, অতীতের সেই পরিস্থিতিতে আর ফিরে যাওয়া যাবে না। মন্ত্রণালয়ের কাজ গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করা নয়; বরং সংবাদমাধ্যম যাতে স্বাধীন, দায়িত্বশীল ও পেশাদারভাবে কাজ করতে পারে, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করা।
তিনি বলেন, গত ১৭ বছরে বিচার বিভাগ, রাজনীতি, সংসদ এবং বিভিন্ন সাংবিধানিক ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানে যে ক্ষতি হয়েছে, তা মেরামত করতে সময় লাগবে। তবে অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে একই পথে যেন আবার না হাঁটতে হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
আন্দালিভ রহমান পার্থ বলেন, রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে যে ক্ষত তৈরি হয়েছে, তা মেরামতের পাশাপাশি নতুন একটি কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎকে নতুন দিকের দিকে এগিয়ে নিতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, জনগণ তাদের ভোট দিয়ে প্রতিনিধি নির্বাচিত করেছেন। তাই সরকারের সিদ্ধান্ত, কর্মকাণ্ড এবং জনগণের স্বার্থে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ সম্পর্কে জনগণকে জানানো জরুরি।
তথ্যমন্ত্রীর ভাষায়, জনগণের জানার অধিকার রয়েছে সরকার কী করছে। সরকারের দায়িত্ব হলো জনগণের স্বার্থ রক্ষা করা, তাদের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করা এবং প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত ও তথ্য জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া।
নবনিযুক্ত মন্ত্রী সাংবাদিক এবং মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, পুরো বিষয়টি একটি টিমওয়ার্ক। সাংবাদিকদের পেশাগত অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, রাজনীতিতে তাঁর অভিজ্ঞতা থাকলেও গণমাধ্যম ও তথ্য মন্ত্রণালয়ের কাজ পরিচালনার ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের অভিজ্ঞতা অনেক বেশি।
তিনি সাংবাদিকদের কাছ থেকে সহযোগিতা ও পরামর্শ প্রত্যাশা করেন এবং জনগণের স্বার্থকে সামনে রেখে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।
আন্দালিভ রহমান পার্থ বলেন, সরকারের যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় জনগণের ক্ষতি কীভাবে কমানো যায় এবং তাদের স্বার্থকে কীভাবে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া যায়, সেটিই বিবেচনায় রাখতে হবে।
তিনি বলেন, সরকারের প্রতিটি কর্মকাণ্ডে যেন কোনো ধরনের অন্যায় না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। ভালো উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করলে সৃষ্টিকর্তার রহমতও থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

