খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img

বিচারের আগে দীর্ঘ আটক বন্ধে বাংলাদেশকে দ্রুত পদক্ষেপের আহ্বান এইচআরডব্লিউর

বিচার শুরুর আগেই রাজনৈতিক বিরোধীসহ শত শত মানুষকে দীর্ঘ সময় কারাগারে আটকে রাখার অবসান চায় আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। সংস্থাটির মতে,...
Homeবিশ্ব সংবাদযুক্তরাষ্ট্রে বড় ভিসা বাতিলের পরিকল্পনা, টার্গেটে ২ লাখ আশ্রয়প্রার্থী

যুক্তরাষ্ট্রে বড় ভিসা বাতিলের পরিকল্পনা, টার্গেটে ২ লাখ আশ্রয়প্রার্থী

২০১৬ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে বি-১ এবং বি-২ ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করে পরে আশ্রয়ের আবেদন করেছেন এমন ব্যক্তিদের একটি বড় অংশ এই সিদ্ধান্তের আওতায় আসতে পারেন।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বাণিজ্য ও পর্যটন ভিসা নিয়ে সে’দেশে প্রবেশের পর আশ্রয়ের আবেদন করা বিপুলসংখ্যক বিদেশির মানুষের বিরুদ্ধে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। সে’দেশের প্রশাসনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রায় ২ লাখ মানুষের ভিসা বাতিল করার সম্ভবনা রয়েছে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এই কার্যক্রম শুরু হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র সংবাদমাধ্যম অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) কাছে আসা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি গোপন নথি এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্যের বরাতে এ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এ পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে সে’দেশের ইতিহাসে একত্রে সবচেয়ে বড় ভিসা বাতিলের ঘটনাগুলোর একটি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

প্রাপ্ত নথি অনুযায়ী, ২০১৬ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে বি-১ এবং বি-২ ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করে পরে আশ্রয়ের আবেদন করেছেন এমন ব্যক্তিদের একটি বড় অংশ এই সিদ্ধান্তের আওতায় আসতে পারেন।

বি-১ ভিসা সাধারণত ব্যবসায়িক সফরের জন্য এবং বি-২ ভিসা পর্যটন, অবকাশযাপন বা স্বল্পমেয়াদি ভ্রমণের জন্য ব্যবহৃত হয়। এসব ভিসা মূলত অ-অভিবাসী ভিসা হিসেবে দেওয়া হয়। অর্থাৎ, ভিসাধারীর যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের উদ্দেশ্য থাকার কথা নয়।

তবে মার্কিন প্রশাসনের অভিযোগ, কিছু বিদেশি স্বল্পমেয়াদি ভ্রমণের উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর সেখানে আশ্রয়ের আবেদন করেন এবং পরবর্তী সময়ে দেশটিতে দীর্ঘমেয়াদে থাকার চেষ্টা করেন। এই প্রবণতা ঠেকাতেই নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

এপি প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসনের পরিকল্পনায় প্রায় ২ লাখ মানুষের ভিসা বাতিলের কথা বলা হয়েছে। তবে এই সংখ্যা এখনো চূড়ান্ত নয়। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যাচাই-বাছাই এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়া চলমান থাকায় শেষ পর্যন্ত কতজনের ভিসা বাতিল হবে, তা এখনই সঠিক ভাবে বলা যাচ্ছে না।

মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র টমি পিগোট বিষয়টি এপির কাছে নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, অনেক বিদেশি অ-অভিবাসী ভিসায় স্বল্পমেয়াদি দর্শনার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর আশ্রয়ের আবেদন করেন। পরে তাদের কেউ কেউ দেশটিতে স্থায়ীভাবে বসবাসের চেষ্টা করেন।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, এমন আবেদনকারীদের শনাক্ত করার পর তাদের ভিসা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এই বড় পরিসরের ভিসা বাতিল কার্যক্রম শুধু একটি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পরিচালিত হবে না। প্রাপ্ত নথি অনুযায়ী, মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যৌথভাবে এই প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন করবে।

দুই মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ভিসাধারীদের তথ্য পর্যালোচনা এবং তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও ভিসা নীতিতে আরও কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

বিশেষ করে যারা পর্যটন বা ব্যবসায়িক ভিসার উদ্দেশ্য দেখিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর আশ্রয়ের আবেদন করেছেন, তাদের বিষয়ে প্রশাসন বাড়তি নজরদারি করছে বলে জানা গেছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন অভিবাসন নিয়ন্ত্রণকে তাদের নীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে সামনে রেখেছে। অবৈধ অভিবাসন কমানো, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ জোরদার করা এবং ভিসার অপব্যবহার ঠেকানোর বিষয়ে প্রশাসন কঠোর অবস্থান নেওয়ার কথা জানিয়ে আসছে।

তবে আশ্রয়ের আবেদন করা প্রত্যেক ব্যক্তিই যে বেআইনিভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন, এমনটা ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। আশ্রয় পাওয়ার জন্য নির্দিষ্ট আইনগত প্রক্রিয়া রয়েছে এবং প্রত্যেক আবেদনকারীর পরিস্থিতি আলাদাভাবে বিবেচনা করা হয়।

প্রায় ২ লাখ মানুষের ভিসা বাতিলের পরিকল্পনার কথা সামনে এলেও এটিকে এখনই চূড়ান্ত সংখ্যা হিসেবে দেখছে না মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মুখপাত্র টমি পিগোটও নির্দিষ্ট সংখ্যা জানাতে রাজি হননি।

তিনি জানিয়েছেন, প্রক্রিয়াটি এখনো চলমান। ফলে যাচাই-বাছাই শেষ হওয়ার আগে মোট কতজনের ভিসা বাতিল হবে, তা নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।

সূত্র : অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

আর্কাইভ