খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img
Homeঅর্থ-বানিজ্যবেনাপোল বন্দরে ক্রেন-ফর্কলিফট সংকট:ব্যাহত আমদানি বাণিজ্য, সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব

বেনাপোল বন্দরে ক্রেন-ফর্কলিফট সংকট:ব্যাহত আমদানি বাণিজ্য, সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব

ভারত থেকে আমদানি হওয়া পণ্যের প্রায় ৩০ শতাংশই ভারী পণ্য। এসব পণ্য দ্রুত ও নিরাপদে খালাসের জন্য কমপক্ষে ১২টি ক্রেন এবং ২০টি ফর্কলিফট প্রয়োজন। কিন্তু বর্তমানে রয়েছে মাত্র ৭টি ক্রেন ও ৮টি ফর্কলিফট।

জেলা প্রতিবেদক,২৭ আগষ্ট: বেনাপোল বাংলাদেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর। চট্রগ্রাম বন্দরের পরেই রয়েছে বেনাপোল বন্দরের অবস্থান। বৃহত্তম স্থলবন্দর হওয়া সত্তেও ভারী পণ্য লোড আনলোড করার জন্য একানে পর্যাপ্ত নেই ক্রেন-ফর্কলিফটের ব্যবস্থা। চাহিদার তুলনায় বন্দরে ইকুপমেন্ট অর্ধ্যেক থাকায় বন্দরে ভারী পণ্য সময়মতো লোড আনলোড করা সম্ভব হচ্ছেনা। যার কারনে বেনাপোল স্থলবন্দরে খোলা আকাশের নিচে পড়ে থাকছে আমদানি করা ভারী পণ্য। আমদানীকরা পণ্য দিনের পর দিন খোলা আকাশের নিচে পড়ে থাকায় পণ্যের গুনগত মান নষ্ট হচ্ছে। আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে আমদানীকারকরা। এসব কারনে বেনাপোল বন্দর থেকে মুখ ফিরিয়ে অন্য বন্দর দিয়ে আমদানী করছেন আমদানী কারকরা।

বেনাপোল স্থলবন্দর থেকে কোলকাতার দুরত্ব কম হওয়ায় বাংলাদেশের আমদানীকারকরা ভারত থেকে মিল কলকারখানার ভারী যন্ত্রাংশ ও অন্যান্য মেশিনারীজ আমদানী করে থাকেন বেনাপোল বন্দর দিয়ে। কিন্তু বেনাপোল বন্দরে ভারী পণ্য লোড আনলোড করার জন্য চাহিদার তুলনায় প্রয়োজনীয় ক্রেন-ফর্কলিফট না থাকায় ব্যাহত হচ্ছে আমদানি বাণিজ্য। বড় বড় মিল কল কারখানার ভারী পন্য ভারত থেকে আমদানী হয়ে বেনাপোল বন্দরে আসার পর ওপেন ইয়ার্ডে (খোলা আকাশের নিচে) আনলোড করতে হয়। কিন্তু বন্দরে পর্যাপ্ত ক্রেন-ফর্কলিফট না থাকায় সেসব পন্য আনলোড করতে ৩/৪ দিন সময় লাগে। অন্যদিকে কাস্টমস থেকে ছাড় করনের পর বন্দর থেকে পণ্য খালাসের জন্য সেসব পন্য লোড করতেও আরো ৪/ থেকে ৫ দিন দিন সময় লাগে। এই দীর্ঘসূত্রতা ও বেনাপোল বন্দরে নানা ধরনের ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। সঠিক সময়ে পন্য না পাওয়ায় বিভিন্ন শিল্প-কলকারখানার উৎপাদন সহ উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড ব্যাহত হচ্ছে। এসব নানারুপ ভোগান্তির কারনে আমদানী কারকরা বেনাপোল বন্দর ছেড়ে অন্য বন্দর দিয়ে আমদানী করছেন। আর আমদানী কম হওয়ার কারনে বেনাপোল বন্দর থেকে সরকারের রাজস্ব আদায়ও কম হচ্ছে।

আরও পড়ুন :  হার্টেও হতে পারে ক্যানসার! লক্ষণ, কারণ, ঝুঁকি ও চিকিৎসা নিয়ে চিকিৎসকদের সতর্কবার্তা

বন্দর সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারত থেকে আমদানি হওয়া পণ্যের প্রায় ৩০ শতাংশই ভারী পণ্য। এসব পণ্য দ্রুত ও নিরাপদে খালাসের জন্য কমপক্ষে ১২টি ক্রেন এবং ২০টি ফর্কলিফট প্রয়োজন। কিন্তু বর্তমানে দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘গ্রেড বেঙ্গল এন্টারপ্রাইজ’-এর কাছে রয়েছে মাত্র ৭টি ক্রেন ও ৮টি ফর্কলিফট। এর মধ্যে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে প্রায় অর্ধেক সময় এসব ইকুপমেন্ট অচল থাকে। ফলে জরুরি পণ্য খালাসের জন্য ব্যবসায়ীদের দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

বেনাপোল বন্দর হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক শহীদ আলী জানান, অদক্ষ ঠিকাদার পরিবর্তনের জন্য এরইমধ্যে বন্দর কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেয়া হয়েছে। বেনাপোল বন্দরে চাহিদার তুলনায় অর্ধেক ইকুপমেন্টের ব্যবস্তা রয়েছে। আবার এগুলি অধিকাংশ সময় নষ্ট হয়ে পড়ে থাকে। প্রয়োজনীয় ইকুপমেন্ট না থাকায় আমরা সময় মত ভারী পন্য লোড আনলোড করতে পারছিনা। আমাদের শ্রমিকরা রাত দিন ২৪ ঘন্টা কাজ করলেও সময় মত পন্য লোড আনলোড করা সম্ভব হচ্ছেনা। এজন্য বেনাপোল বন্দরে পর্যাপ্ত ক্রেন-ফর্কলিফটের ব্যবস্থা করা অতি জরুরী।

আরও পড়ুন :  এমবাপ্পেকে ক্ষমা চাইতে আলটিমেটাম প্যারাগুয়ের সিনেটরের

বেনাপোল আমদানি-রফতানি সমিতির সাধারন সম্পাদক জিয়াউর রহমান জিয়া জানান, বেনাপোল বাংলদেশের বৃহত্তম একটি স্থল বন্দর। সবচেয়ে বড় স্থল বন্দর হওয়া সত্তেও এখানে পর্যাপ্ত ক্রেন-ফর্কলিফট থাকবে না, এটা মেনে নেয়া যায় না। আমরা বন্দরে পর্যাপ্ত ক্রেন-ফর্কলিফটের ব্যবস্থা করার জন্য কয়েকবার বন্দর পরিচালককে জানিয়েছি। কিন্তু বন্দর কর্তপক্ষ সে ব্যপারে কোন কর্নপাত করছেন না। বন্দরে ভারী পন্য লোড আনলোড সহ নানা ধরনের সমস্যার কারনে আমদানী কারকরা বেনাপোল থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। আগে যেখানে বেনাপোল বন্দরে প্রতিদিন ৫০০ থেকে সাড়ে ৫০০ আমদানী পন্যবাহী ট্রাক বেনাপোল বন্দরে প্রবেশ করতো। এখন সেখানে ৩০০ থেকে সাড়ে ৩০০ পন্যবাহী ট্রাক বেনাপোল বন্দরে আসছে। পর্বের তুলনায় বেনাপোল বন্দর দিয়ে আমদানী অনেক কমে গেছে। আর আমদানী কম হওয়ার কারনে সরকারের রাজস্ব আদায়ও কম হচ্ছে।

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের বন্দরবিষয়ক সম্পাদক মো. মেহেরুল্লাহ বলেন, ‘ক্রেন অচল থাকায় পণ্য সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে। চাহিদার তুলনায় অর্ধেক যন্ত্রপাতি দিয়ে কোনোভাবেই স্বাভাবিক কার্যক্রম চালানো সম্ভব নয়। এতে আমদানি কার্যক্রমে ধীরগতি দেখা দিয়েছে।’গত এক যুগ ধরে বন্দরে এই সমস্যা বিদ্যমান থাকলেও সমাধানে কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেই বলে অভিযোগ ব্যবসায়ীদের। বাণিজ্যিক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে একাধিকবার লিখিত অভিযোগ দেয়া হলেও বন্দর কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। ফলে লোকসান এড়াতে অনেক আমদানিকারক বেনাপোল ছেড়ে অন্য বন্দরের দিকে ঝুঁকছেন। এতে বেনাপোল বন্দরের রাজস্ব আয়ে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

আরও পড়ুন :  বিদেশে থাকা বাংলাদেশিদের জন্য নতুন বিনিয়োগ সুযোগ

ভারত-বাংলা ল্যান্ডপোর্ট চেম্বার অব কমার্সের সাব কমিটির পরিচালক মতিয়ার রহমানও একই হতাশার কথা জানান। তিনি বলেন, ‘বন্দরের বর্তমান পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ীরা চরম ক্ষতির মুখে পড়ছেন। অব্যবস্থাপনার কারনে বেনাপোল বন্দর দিয়ে আমদানী রফতানি বানিজ্য অনেকাংশে কমে গেছে। এ বন্দরে মুল সমস্য এখন পর্যাপ্ত ক্রেন-ফর্কলিফট না থাকা এবং নানামুখি হয়রানী। সময়মত পন্য ডেলিভারী করতে না পারায় আমদানীকারকরা এ বন্দর থেকে আর্থিভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন। যার প্রভার পড়ছে সরকারের রাজস্ব আদায়ে। এজন্য বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তপক্ষের উচিত বেনাপোল বন্দরে পর্যাপ্ত ক্রেন-ফর্কলিফটের ব্যবস্থা সহ নানামুখি হয়রানী বন্ধ করা।

এ বিষয়ে বেনাপোল স্থলবন্দরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক রুহুল আমিন বলেন, ‘সমস্যা সমাধানে নতুন ঠিকাদার নিয়োগের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। দ্রুতই নতুন ঠিকাদার নিয়োগের মাধ্যমে এই সংকট নিরসন করা হবে। বেনাপোল বন্দরে পর্যাপ্ত ক্রেন-ফর্কলিফটের ব্যবস্থা হলে ভারী পন্য লোড আনলোডে গতিশীলতা ফিরে আসবে বলে জানান এ কর্মকর্তা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

আর্কাইভ