খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img
Homeস্পোটস ওয়ার্ল্ডফিফা বিশ্বকাপ স্পেশালঘানার ওঝার বিস্ফোরক ভবিষ্যদ্বাণী! রোনাল্ডোর হাতেই উঠবে বিশ্বকাপ ট্রফি?

ঘানার ওঝার বিস্ফোরক ভবিষ্যদ্বাণী! রোনাল্ডোর হাতেই উঠবে বিশ্বকাপ ট্রফি?

কোয়াকু বনসামের সবচেয়ে আলোচিত দাবি আসে ২০১৪ সালের বিশ্বকাপকে ঘিরে। তাঁর কথায়, সেই আসরে পর্তুগালের তারকা ফুটবলার ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর হাঁটুর চোটের পেছনে নাকি তাঁরই ঝাড়ফুঁকের ভূমিকা ছিল।

বিশ্বকাপ ফুটবল মানেই উত্তেজনা, আবেগ আর অগণিত গল্প। মাঠের খেলার বাইরে এমন কিছু ঘটনা বা দাবি সামনে আসে, যেগুলো শুনলে অবাক হতে হয়। ঠিক তেমনই এক চরিত্র হলেন কোয়াকু বনসাম। তাঁর নাম শুনলেই কৌতূহল তৈরি হয়, কারণ তিনি নিজেকে দাবি করেন এক অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী হিসেবে। আর সেই শক্তি দিয়েই নাকি তিনি প্রভাব ফেলতে পারেন বিশ্বমানের ফুটবল ম্যাচে!

কোয়াকু বনসাম নামের অর্থই বেশ রহস্যময়—‘বুধবারের শয়তান’। ঘানার একটি প্রত্যন্ত গ্রামের বাসিন্দা তিনি। তাঁর মতে, ‘কোফি অ্যান্ড কোফি’ নামের একটি আশ্রম থেকে তিনি এমন এক শক্তি পেয়েছেন, যা সাধারণ মানুষের বাইরে। এই শক্তির সাহায্যে তিনি নাকি ঝাড়ফুঁক করে প্রতিপক্ষ দলের খেলোয়াড়দের ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারেন।

শুনতে অনেকটা সিনেমার গল্পের মতো লাগলেও, বনসাম নিজে এটাকে একেবারে বাস্তব বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, তাঁর আধ্যাত্মিক শক্তি এতটাই প্রবল যে তা আন্তর্জাতিক ম্যাচের ফলাফলেও প্রভাব ফেলতে পারে।

কোয়াকু বনসামের সবচেয়ে আলোচিত দাবি আসে ২০১৪ সালের বিশ্বকাপকে ঘিরে। তাঁর কথায়, সেই আসরে পর্তুগালের তারকা ফুটবলার ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর হাঁটুর চোটের পেছনে নাকি তাঁরই ঝাড়ফুঁকের ভূমিকা ছিল।

আরও পড়ুন :  নতুন পে স্কেলে বাজারে কী প্রভাব পড়বে, বাড়বে কি মূল্যস্ফীতি?

এই দাবি প্রকাশ্যে আসার পর অনেকেই হাস্যকর বলে উড়িয়ে দেন, আবার কেউ কেউ বিষয়টাকে রহস্য হিসেবে দেখেন। বাস্তবে খেলোয়াড়দের চোট পাওয়া খুবই সাধারণ বিষয়। কিন্তু বনসামের মতো কেউ যখন এটাকে নিজের অলৌকিক শক্তির ফল বলে দাবি করেন, তখন বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হওয়াই স্বাভাবিক।

বছরের পর বছর পার হয়ে গেলেও কোয়াকু বনসাম তাঁর দাবি থেকে একচুলও সরে আসেননি। বরং এবার তিনি আবারও খবরের শিরোনামে। চলতি বিশ্বকাপে ঘানার প্রতিপক্ষ হিসেবে যখন ইংল্যান্ড মাঠে নামে, তখন বনসাম দাবি করেন তিনি নাকি ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি কেনকে ‘মন্ত্রবলে বেঁধে’ রেখেছিলেন।

এই কথাগুলো শুনে অনেকে মজা পেয়েছেন, আবার কেউ কেউ এটাকে নিছক মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরির কৌশল বলেও মনে করেন। কারণ বড় ম্যাচে খেলোয়াড়দের মানসিক শক্তি অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

তবে এবার বনসামের কথায় এক নতুন মোড় এসেছে। আগের মতো নেতিবাচক কিছু না বলে তিনি এবার রোনাল্ডোকে নিয়ে বেশ ইতিবাচক ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন। তাঁর দাবি, “এই বিশ্বকাপ রোনাল্ডোর। আমি স্পষ্ট দেখেছি ট্রফিটা ওঁর হাতেই উঠছে।”

আরও পড়ুন :  গর্ডনের গোলে এগিয়ে ইংল্যান্ড: আর্জেন্টিনার রক্ষণ ভেঙে পড়ায় চাপে মেসির দল

শুধু তাই নয়, তিনি আরও বলেন যে আধ্যাত্মিক জগতে নাকি পর্তুগাল ইতিমধ্যেই বিশ্বকাপ জিতে গেছে। তাঁর ভাষায়, রোনাল্ডোর দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান এবার হতে চলেছে।

এই ধরনের কথা শুনলে রোনাল্ডোর ভক্তদের মন যে খুশিতে ভরে উঠবে, তা বলাই বাহুল্য। অনেকেই হয়তো মনে মনে বলবেন—এই ভবিষ্যদ্বাণী সত্যি হোক!

বাস্তব দিক থেকেও এবার পর্তুগালকে অনেকেই শক্তিশালী দল হিসেবে দেখছেন। দলে রয়েছে অভিজ্ঞতা আর তরুণ প্রতিভার মিশ্রণ। আর রোনাল্ডোর জন্য এটি সম্ভবত শেষ বিশ্বকাপ, তাই তাঁর জন্য এই আসরটা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।

ভাবুন তো, একজন খেলোয়াড় যিনি সব কিছু জিতেছেন—চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, লিগ টাইটেল, ব্যক্তিগত পুরস্কার—তাঁর ঝুলিতে শুধু বিশ্বকাপটাই নেই। ঠিক এই জায়গাটাই তাঁকে আরও বেশি অনুপ্রাণিত করে।

এখন প্রশ্ন হলো—কোয়াকু বনসামের মতো মানুষের দাবি কি সত্যিই বিশ্বাসযোগ্য? বাস্তব দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে, ফুটবল একটি সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক ও কৌশলনির্ভর খেলা। খেলোয়াড়দের ফিটনেস, ট্যাকটিক্স, দলগত সমন্বয়—এসবই ম্যাচের ফল নির্ধারণ করে।

তবে মানুষের মনে রহস্যের প্রতি এক ধরনের আকর্ষণ সবসময়ই থাকে। অনেকেই এমন গল্প শুনে মজা পান, কেউ কেউ আবার গভীরভাবে ভাবেন। ঠিক যেমন কেউ বিশ্বাস করে ভাগ্যে, আবার কেউ বিশ্বাস করে কঠোর পরিশ্রমে।

আরও পড়ুন :  ট্যারান্টুলা থেকে বিষাক্ত সাপ : বাংলাদেশে এই প্রাণীগুলো আসছে কীভাবে?

রোনাল্ডোর ভক্তরা সারা পৃথিবীজুড়ে ছড়িয়ে আছে। তাঁদের কাছে প্রতিটি ম্যাচ যেন একেকটা গল্প। যখন কেউ এসে বলে, “এইবারই রোনাল্ডোর সময়,” তখন সেই কথাটা যেন আশার আলো হয়ে ওঠে।

একটা ছোট উদাহরণ দিই—ধরো তুমি কোনো গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার আগে কেউ এসে বলল, “তুমি ভালোই করবে।” তখন তোমার আত্মবিশ্বাস একটু হলেও বেড়ে যায়, তাই না? ঠিক একইভাবে এই ধরনের ভবিষ্যদ্বাণী অনেক সময় ভক্তদের মনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

কোয়াকু বনসামের দাবি সত্যি কি না, তা প্রমাণ করা কঠিন। কিন্তু তাঁর কথাগুলো যে আলোচনার জন্ম দেয়, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। ফুটবল শুধু মাঠের খেলা নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে গল্প, আবেগ আর কখনো কখনো রহস্যও।

এখন দেখার বিষয়, বাস্তবে কী ঘটে। রোনাল্ডো কি সত্যিই তাঁর স্বপ্ন পূরণ করতে পারবেন? নাকি সবকিছুই থেকে যাবে এক অলৌকিক ভবিষ্যদ্বাণীর গল্প হিসেবে?

যাই হোক, বিশ্বকাপ মানেই চমক। আর এই চমকের মাঝেই হয়তো লুকিয়ে আছে আসল উত্তর।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

আর্কাইভ