খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img
Homeলাইফস্টাইলসুগার কেন কমছে না? ডায়াবেটিসে কোন তেল ভালো? সুগার নিয়ন্ত্রণে চিকিৎসকের পরামর্শ

সুগার কেন কমছে না? ডায়াবেটিসে কোন তেল ভালো? সুগার নিয়ন্ত্রণে চিকিৎসকের পরামর্শ

তার মতে, নিয়মিত রিফাইন্ড তেল বা বনস্পতি ঘি ব্যবহার করলে শুধু ডায়াবেটিস নয়, হৃদ্‌রোগ, ফ্যাটি লিভার, কিডনির সমস্যা এবং কিছু ধরনের ক্যানসারের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে শুধু চিনি কম খেলেই হয় না, প্রতিদিনের রান্নায় কোন তেল ব্যবহার করা হচ্ছে, সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। অনেকেই নিয়ম মেনে খাবার খেলেও রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেন না। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পেছনে ব্যবহৃত রান্নার তেলেরও ভূমিকা থাকতে পারে।

ডায়াবেটিস এখন ঘরে ঘরে পরিচিত একটি রোগ। চিকিৎসকেরা সবসময় বাড়িতে রান্না করা খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেন। তবে সেই খাবার যদি অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত বা রিফাইন্ড তেলে রান্না করা হয়, তাহলে শরীরে প্রদাহ (ইনফ্ল্যামেশন) বাড়তে পারে। দীর্ঘমেয়াদে এই প্রদাহ ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিভিন্ন ধরনের তেলে ওমেগা-৩ এবং ওমেগা-৬ ফ্যাটি অ্যাসিডের পরিমাণ ভিন্ন হয়। ওমেগা-৩ প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে, অন্যদিকে অতিরিক্ত ওমেগা-৬ শরীরে প্রদাহ বাড়িয়ে ডায়াবেটিসসহ নানা দীর্ঘমেয়াদি রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

আরও পড়ুন :  ৩৯ বছরেও বিশ্বকাপে হ্যাটট্রিক: লিওনেল মেসির ফিটনেস, ডায়েট ও সাফল্যের গোপন রহস্য

চিকিৎসক আশিস মিত্রের মতে, সূর্যমুখী তেল, রাইস ব্র্যান অয়েলসহ অনেক রিফাইন্ড তেল উচ্চ তাপমাত্রায় প্রক্রিয়াজাত করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় তেলের গুণগত মান কমে যেতে পারে এবং ক্ষতিকর কিছু যৌগ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

তার মতে, নিয়মিত রিফাইন্ড তেল বা বনস্পতি ঘি ব্যবহার করলে শুধু ডায়াবেটিস নয়, হৃদ্‌রোগ, ফ্যাটি লিভার, কিডনির সমস্যা এবং কিছু ধরনের ক্যানসারের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী, দৈনন্দিন রান্নার জন্য কোল্ড-প্রেসড সর্ষের তেল ভালো একটি বিকল্প হতে পারে। এছাড়া পরিমিত পরিমাণে দেশি ঘিও ব্যবহার করা যেতে পারে।

তবে মনে রাখতে হবে, কোনো তেলই অতিরিক্ত খাওয়া উচিত নয়। সুষম খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী জীবনযাপনই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের মূল চাবিকাঠি।

আরও পড়ুন :  কোলেস্টেরল কমাতে নতুন ওষুধ! কীভাবে কাজ করে, কারা খেতে পারবেন?

১. বেশি স্মোক পয়েন্টযুক্ত তেল বেছে নিন
যে তেলের স্মোক পয়েন্ট বেশি, সেটি রান্নার সময় সহজে ধোঁয়া তৈরি করে না। এতে তেলের গুণাগুণ তুলনামূলক ভালো থাকে।

২. রিফাইন্ড তেল যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলুন
অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত তেলে অনেক প্রাকৃতিক উপাদান নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই কম প্রক্রিয়াজাত তেল বেছে নেওয়াই ভালো।

৩. কোল্ড-প্রেসড তেলকে অগ্রাধিকার দিন
তাপ প্রয়োগ ছাড়াই নিষ্কাশিত কোল্ড-প্রেসড তেলে পুষ্টিগুণ তুলনামূলক বেশি থাকে।

৪. প্রক্রিয়াজাত ও প্যাকেটজাত খাবার কম খান
এ ধরনের খাবারে কী ধরনের তেল ব্যবহার করা হয়েছে, তা অনেক সময় স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকে না। তাই এগুলো সীমিত রাখা উচিত।

৫. পরিমিত পরিমাণে তেল ব্যবহার করুন
সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর তেলও অতিরিক্ত খেলে উপকারের বদলে ক্ষতি হতে পারে। বিশেষ করে ডুবো তেলে ভাজা খাবার যতটা সম্ভব কম খাওয়াই ভালো।

আরও পড়ুন :  শাকিরার মতো ফিট ও আকর্ষণীয় শরীর পেতে শিখে নিন এই ৩ ব্যায়াম

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে শুধু রান্নার তেল বদলালেই হবে না। নিয়মিত রক্তে শর্করা পরীক্ষা, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত শারীরিক পরিশ্রম, ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ওষুধ সেবন—সবকিছু মিলিয়েই ভালো ফল পাওয়া সম্ভব। তাই তেল নির্বাচন অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, তবে সেটি ডায়াবেটিস ব্যবস্থাপনার একটি অংশ মাত্র।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

আর্কাইভ