খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img
Homeবিশ্ব সংবাদইন্ডিয়া নিউজউত্তরাখণ্ডের সুড়ঙ্গে ভয়াবহ দুর্ঘটনা: পানিরস্রোতে ভেসে মৃত ৭, উদ্ধারের অপেক্ষায় ৩

উত্তরাখণ্ডের সুড়ঙ্গে ভয়াবহ দুর্ঘটনা: পানিরস্রোতে ভেসে মৃত ৭, উদ্ধারের অপেক্ষায় ৩

ধসের কিছুক্ষণের মধ্যেই সুড়ঙ্গের ভিতরে প্রবল জলস্রোত ঢুকে পড়ে। বিপুল গতিতে জল ঢুকে পড়ায় শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে নিরাপদ জায়গায় সরে যাওয়ার চেষ্টা করলেও তীব্র জলপ্রবাহের কারণে তা সম্ভব হয়নি।

উত্তরাখণ্ডের চামোলি জেলায় নির্মীয়মাণ একটি সুড়ঙ্গে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল অন্তত সাত শ্রমিকের। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আচমকাই সুড়ঙ্গের ভিতরে প্রবল জলস্রোত ঢুকে পড়ে। একই সময় ধস নামায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। আচমকা জল ও ধ্বংসস্তূপের চাপে সুড়ঙ্গের ভিতরে কর্মরত শ্রমিকদের একটি অংশ ভেসে যায় এবং অনেকে আটকে পড়েন।

দুর্ঘটনার পর রাতভর যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ চালানো হয়। উত্তরাখণ্ডের বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তর জানিয়েছে, এখনও পর্যন্ত ১৮ জন শ্রমিককে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে আরও তিন শ্রমিক সুড়ঙ্গের ভিতরে আটকে রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। তাঁদের উদ্ধারে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ), রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এসডিআরএফ), পুলিশ এবং স্থানীয় প্রশাসনের কর্মীরা যৌথভাবে অভিযান চালাচ্ছেন।

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, চামোলি জেলার ওই সুড়ঙ্গটি একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মাণকাজের অংশ। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা নাগাদ সেখানে শ্রমিকেরা কাজ করছিলেন। সেই সময় হঠাৎ সুড়ঙ্গের ভিতরে বড় ধরনের ধস নামে।

ধসের কিছুক্ষণের মধ্যেই সুড়ঙ্গের ভিতরে প্রবল জলস্রোত ঢুকে পড়ে। বিপুল গতিতে জল ঢুকে পড়ায় শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে নিরাপদ জায়গায় সরে যাওয়ার চেষ্টা করলেও তীব্র জলপ্রবাহের কারণে তা সম্ভব হয়নি।

চামোলির পুলিশকর্তা সুরজিৎ সিং পাওয়ার জানিয়েছেন, জলস্রোতের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে ভিতরে থাকা শ্রমিকদের অনেকে নিজেদের সামলে রাখতে পারেননি। তাঁদের বেশ কিছুটা দূর পর্যন্ত জল ভাসিয়ে নিয়ে যায়।

একই সঙ্গে সুড়ঙ্গের ভিতরে ধস নামায় উদ্ধারকাজও কঠিন হয়ে পড়ে। ধ্বংসস্তূপ, কাদা এবং জল মিলিয়ে সুড়ঙ্গের একাধিক অংশে বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হয়।

দুর্ঘটনার সময় ওই শিফটে মোট ২৮ জন শ্রমিক সুড়ঙ্গের ভিতরে কাজ করছিলেন বলে প্রশাসন জানিয়েছে। আচমকা ধস ও জলস্রোত ঢুকে পড়ায় তাঁরা বিপদের মধ্যে পড়েন।

প্রথম দিকে কতজন শ্রমিক নিখোঁজ বা আটকে রয়েছেন, তা নিয়ে পরিস্থিতি পরিষ্কার ছিল না। উদ্ধারকারী দল ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে এবং সুড়ঙ্গের বিভিন্ন অংশে তল্লাশি চালিয়ে একে একে শ্রমিকদের খুঁজে বের করার চেষ্টা শুরু করে।

উদ্ধার অভিযান যত এগোয়, ততই হতাহতের সংখ্যা সম্পর্কে স্পষ্ট ছবি পাওয়া যায়। শেষ পর্যন্ত সাত শ্রমিকের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়। তাঁদের দেহ উদ্ধার করেছে উদ্ধারকারী দল।

অন্যদিকে ১৮ জন শ্রমিককে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তাঁদের প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলেও প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।

আরও পড়ুন :  আমের আঁটি ফেলে নয়, ত্বকের যত্নে ব্যবহার করুন! ঘরেই বানান প্রাকৃতিক ফেস প্যাক

তবে আরও তিনজন শ্রমিক এখনও সুড়ঙ্গের ভিতরে আটকে রয়েছেন। ফলে উদ্ধারকারী দলের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল তাঁদের দ্রুত জীবিত অবস্থায় বাইরে নিয়ে আসা।

চামোলির পুলিশ প্রশাসনের বক্তব্য অনুযায়ী, এই দুর্ঘটনায় সবচেয়ে বড় সমস্যা তৈরি করেছে সুড়ঙ্গের ভিতরে ঢুকে পড়া জল। পাহাড়ি এলাকায় নির্মাণাধীন সুড়ঙ্গে হঠাৎ বিপুল পরিমাণ জল ঢুকে পড়লে কয়েক মিনিটের মধ্যেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।

এই ঘটনায়ও সেটিই হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে।

জল ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে ধস নামায় শ্রমিকদের বেরিয়ে আসার পথও বাধাগ্রস্ত হয়। যাঁরা জলস্রোতে ভেসে যান, তাঁদের অবস্থান খুঁজে বের করতেও উদ্ধারকারী দলকে সমস্যায় পড়তে হয়।

উদ্ধারকাজে যুক্ত কর্মীদের জন্যও পরিস্থিতি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ সুড়ঙ্গের ভিতরে ধ্বংসস্তূপ পুরোপুরি স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত উদ্ধারকারীদের প্রতিটি পদক্ষেপ অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে নিতে হচ্ছে।

দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর স্থানীয় প্রশাসন দ্রুত উদ্ধারকারী দলকে ঘটনাস্থলে পাঠায়। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উদ্ধার অভিযানের পরিধিও বাড়ানো হয়।

জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী এবং রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করেন। পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের কর্মীরাও তাঁদের সঙ্গে যুক্ত হন।

প্রথম লক্ষ্য ছিল জীবিত শ্রমিকদের খুঁজে বের করা। ধ্বংসস্তূপ সরানোর পাশাপাশি সুড়ঙ্গের ভিতরে জল ও কাদার পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা চলে।

উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা একদিকে আটকে থাকা শ্রমিকদের অবস্থান শনাক্ত করার চেষ্টা করছেন, অন্যদিকে সুড়ঙ্গের ভিতরে আরও ধস নামার আশঙ্কাও মাথায় রাখতে হচ্ছে।

দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরই উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি উদ্ধারকাজ দ্রুত করার নির্দেশ দেন। প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে পরিস্থিতির নিয়মিত খোঁজখবর নিচ্ছেন বলে তিনি জানিয়েছেন।

মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ ছিল, আটকে থাকা শ্রমিকদের উদ্ধারে সমস্ত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা দ্রুত গ্রহণ করতে হবে। কোনও ধরনের দেরি যাতে না হয়, সেদিকেও নজর দেওয়া হচ্ছে।

প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায় থেকে নির্দেশ পাওয়ার পর উদ্ধারকারী সংস্থাগুলিও অভিযান আরও জোরদার করে।

১৮ জন শ্রমিককে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হওয়ায় কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে প্রশাসন ও শ্রমিকদের পরিবারে। কিন্তু তিনজন এখনও সুড়ঙ্গের ভিতরে আটকে থাকায় উদ্বেগ পুরোপুরি কাটেনি।

আরও পড়ুন :  মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানো ৪৯ রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল, প্রজ্ঞাপন জারি

আটকে থাকা শ্রমিকদের পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় অপেক্ষা করছেন। তাঁদের প্রিয়জনরা কখন নিরাপদে বেরিয়ে আসবেন, সেই অপেক্ষাতেই এখন প্রহর গুনছেন তাঁরা।

একজন শ্রমিকের উদ্ধার মানে শুধু একজন মানুষকে বাইরে নিয়ে আসা নয়। তাঁর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে একটি পরিবার, সন্তান, বাবা-মা এবং অসংখ্য মানুষের আশা। তাই উদ্ধারকারী দলের ওপরও দ্রুত ও নিরাপদে অভিযান শেষ করার বড় দায়িত্ব রয়েছে।

উত্তরাখণ্ড ভারতের অন্যতম পাহাড়ি রাজ্য। এখানে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প, সড়ক, সুড়ঙ্গ এবং অন্যান্য পরিকাঠামো নির্মাণের কাজ দীর্ঘদিন ধরে চলছে। কিন্তু পাহাড়ি ভূপ্রকৃতির কারণে এই ধরনের প্রকল্পে নানা ধরনের প্রাকৃতিক ঝুঁকি থাকে।

ভূমিধস, আকস্মিক জলপ্রবাহ, পাহাড়ি মাটি ও পাথরের সরে যাওয়া কিংবা ভূগর্ভস্থ জলস্তরের পরিবর্তন নির্মাণকাজকে জটিল করে তুলতে পারে।

বিশেষ করে সুড়ঙ্গ নির্মাণের সময় পাহাড়ের ভিতরের ভূতাত্ত্বিক পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাইরে থেকে কোনও অংশ স্থিতিশীল মনে হলেও ভিতরে মাটি বা পাথরের স্তরে দুর্বলতা থাকতে পারে।

এই দুর্ঘটনার ক্ষেত্রেও ঠিক কী কারণে ধস নেমেছিল এবং এত দ্রুত জলস্রোত কোথা থেকে ঢুকল, তা তদন্তের পর আরও স্পষ্ট হবে।

এই ধরনের দুর্ঘটনার পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে, সুড়ঙ্গে কাজ করা শ্রমিকদের জন্য কী ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল। জরুরি পরিস্থিতিতে বেরিয়ে আসার বিকল্প পথ ছিল কি না, জল ঢোকার আগাম সতর্কতা দেওয়ার ব্যবস্থা ছিল কি না, সুড়ঙ্গের ভিতরে পর্যাপ্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিল কি না—এমন একাধিক বিষয় খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

একটি নির্মাণ প্রকল্পে কর্মরত শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। বিশেষ করে পাহাড়ের ভিতরে দীর্ঘ সুড়ঙ্গে কাজ করার সময় ঝুঁকি মূল্যায়ন, নিয়মিত পরিদর্শন এবং জরুরি উদ্ধার পরিকল্পনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানা গেলে ভবিষ্যতে একই ধরনের ঘটনা এড়াতে কী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, সেই বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হবে।

উদ্ধার অভিযানে সবচেয়ে বড় বাধাগুলির মধ্যে রয়েছে ধ্বংসস্তূপ। সুড়ঙ্গের ভিতরে ধস নামার ফলে বড় বড় পাথর, মাটি ও কাদার স্তর তৈরি হয়েছে। তার সঙ্গে রয়েছে জলপ্রবাহ।

একটু ভুল পদক্ষেপেও নতুন করে ধস নামতে পারে। তাই উদ্ধারকারী দলকে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এগোতে হচ্ছে।

আরও পড়ুন :  রোনাল্ডো-নেইমার বিদায়ে টিকিটের ধস! মেসিই কি বিশ্বকাপের শেষ আশা?

যে কোনও উদ্ধার অভিযানে সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সুড়ঙ্গের মতো বন্ধ জায়গায় সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অক্সিজেন, জল, তাপমাত্রা এবং ধ্বংসস্তূপের স্থিতিশীলতার মতো বিষয়গুলিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

ফলে উদ্ধারকারী দল দ্রুততার পাশাপাশি নিরাপত্তার দিকটিও সমান গুরুত্ব দিয়ে দেখছে।

দুর্ঘটনার পর সবচেয়ে কঠিন সময়ের মধ্যে রয়েছেন নিখোঁজ বা আটকে থাকা শ্রমিকদের পরিবারের সদস্যরা। ফোনে খবর পাওয়ার পর থেকেই তাঁদের উদ্বেগ বাড়তে থাকে। একদিকে সাতজনের মৃত্যুর খবর, অন্যদিকে ১৮ জনের জীবিত উদ্ধারের স্বস্তি—এই দুইয়ের মাঝেই আটকে থাকা তিন শ্রমিকের পরিবারের সদস্যরা অপেক্ষা করছেন আশার খবরের জন্য।

উদ্ধারকারী দলের প্রতিটি অগ্রগতি তাই তাঁদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

প্রশাসনের তরফে উদ্ধারকাজের অগ্রগতি সম্পর্কে নিয়মিত তথ্য দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। পাশাপাশি আহত বা উদ্ধার হওয়া শ্রমিকদের চিকিৎসা এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।

চামোলির সুড়ঙ্গ দুর্ঘটনা পাহাড়ি এলাকায় বড় পরিকাঠামো প্রকল্পে শ্রমিক নিরাপত্তার বিষয়টি নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে। উন্নয়নমূলক কাজের পাশাপাশি প্রকৃতির চরিত্র ও ভূপ্রকৃতির ঝুঁকিও সমান গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

একটি সুড়ঙ্গ নির্মাণের সময় সামান্য ত্রুটিও কখনও বড় বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে। তাই কাজ শুরুর আগে ভূতাত্ত্বিক সমীক্ষা, নিয়মিত নিরাপত্তা পরীক্ষা, জরুরি নির্গমন ব্যবস্থা এবং শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ অত্যন্ত জরুরি।

এই দুর্ঘটনার তদন্তে যদি কোনও গাফিলতি বা নিরাপত্তার ঘাটতি সামনে আসে, তাহলে ভবিষ্যতের প্রকল্পগুলিতে তা সংশোধন করা প্রয়োজন হবে।

চামোলির এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় সাতজন শ্রমিকের মৃত্যু ইতিমধ্যেই শোকের আবহ তৈরি করেছে। ১৮ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হওয়ায় কিছুটা স্বস্তি মিললেও তিনজন এখনও সুড়ঙ্গের ভিতরে আটকে থাকায় অভিযান শেষ হয়নি।

এখন উদ্ধারকারী দলের একমাত্র লক্ষ্য, কোনওভাবে সেই তিন শ্রমিকের কাছে পৌঁছনো এবং তাঁদের নিরাপদে বাইরে নিয়ে আসা। প্রশাসনও জানিয়েছে, উদ্ধার অভিযান সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে চালানো হচ্ছে।

একদিকে ধস ও জলস্রোতের ভয়াবহতা, অন্যদিকে অন্ধকার সুড়ঙ্গের ভিতরে আটকে থাকা মানুষের জীবন—সব মিলিয়ে উত্তরাখণ্ডের এই দুর্ঘটনা নিঃসন্দেহে একটি বড় মানবিক বিপর্যয়। উদ্ধার অভিযান যতক্ষণ না সম্পূর্ণ হচ্ছে, ততক্ষণ আটকে থাকা শ্রমিকদের পরিবার, প্রশাসন এবং গোটা দেশের নজর থাকবে চামোলির সেই নির্মীয়মাণ সুড়ঙ্গের দিকেই।

আর্কাইভ