খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img
Homeবিশ্ব সংবাদওয়েস্ট বেঙ্গলজেন-জি নয়, অসুরক্ষিত যৌনতা ও সিরিঞ্জ ব্যবহারে পশ্চিমবঙ্গে এইচআইভি ঝুঁকি: কী বলছে...

জেন-জি নয়, অসুরক্ষিত যৌনতা ও সিরিঞ্জ ব্যবহারে পশ্চিমবঙ্গে এইচআইভি ঝুঁকি: কী বলছে তথ্য?

এইচআইভি একটি নির্দিষ্ট ভাইরাসজনিত সংক্রমণ। অনিরাপদ যৌনসম্পর্ক, সংক্রমিত রক্ত বা একই সিরিঞ্জ ব্যবহারের মতো নির্দিষ্ট উপায়ে এটি ছড়াতে পারে। তাই সংক্রমণ ঠেকানোর মূল উপায় হলো নিরাপদ যৌন আচরণ, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা, কন্ডোমের ব্যবহার এবং সংক্রমিত ব্যক্তিদের নিয়মিত চিকিৎসার আওতায় রাখা।

পশ্চিমবঙ্গে এইচআইভি সংক্রমণ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তরুণদের মধ্যে সংক্রমণের কারণ, উত্তরবঙ্গের কয়েকটি এলাকায় ঝুঁকি এবং ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে মাদক গ্রহণের প্রবণতা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য সামনে এসেছে। তবে বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে পুরো একটি প্রজন্মের যৌন আচরণকে দায়ী করা কতটা যুক্তিসঙ্গত, তা নিয়েও সতর্ক থাকা জরুরি।

এইচআইভি একটি নির্দিষ্ট ভাইরাসজনিত সংক্রমণ। অনিরাপদ যৌনসম্পর্ক, সংক্রমিত রক্ত বা একই সিরিঞ্জ ব্যবহারের মতো নির্দিষ্ট উপায়ে এটি ছড়াতে পারে। তাই সংক্রমণ ঠেকানোর মূল উপায় হলো নিরাপদ যৌন আচরণ, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা, কন্ডোমের ব্যবহার এবং সংক্রমিত ব্যক্তিদের নিয়মিত চিকিৎসার আওতায় রাখা।

সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গে এইচআইভি প্রতিরোধ নিয়ে আয়োজিত এক আলোচনায় তরুণদের মধ্যে সংক্রমণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন বিশেষজ্ঞরা। সেখানে উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং ও জলপাইগুড়ির মতো এলাকায় সংক্রমণের ঝুঁকি এবং ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে মাদক গ্রহণের বিষয়টিও উঠে আসে।

বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন এইচআইভি সংক্রমণের ক্ষেত্রে তরুণদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ রয়েছে। এর পেছনে একাধিক সামাজিক ও আচরণগত কারণ থাকতে পারে।

তবে এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার করা জরুরি। এইচআইভি সংক্রমণের জন্য ‘জেন-জি’ বা কোনো নির্দিষ্ট প্রজন্মকে দায়ী করা বৈজ্ঞানিকভাবে যথাযথ নয়।

এইচআইভি ছড়ানোর ক্ষেত্রে মূল ঝুঁকি তৈরি করে অসুরক্ষিত যৌনসম্পর্ক, সংক্রমিত রক্তের সংস্পর্শ এবং একই সুচ বা সিরিঞ্জ একাধিক ব্যক্তির ব্যবহারের মতো বিষয়।

পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে প্রকাশিত গবেষণাতেও দেখা গেছে, রাজ্যটি সামগ্রিকভাবে তুলনামূলক কম এইচআইভি-প্রবণ হলেও সংক্রমণের ক্ষেত্রে কিছু নির্দিষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী ও অঞ্চলের ওপর নজর দেওয়া প্রয়োজন।

উত্তরবঙ্গের কয়েকটি এলাকায় ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে মাদক গ্রহণের প্রবণতা নিয়ে বিশেষজ্ঞরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

একই সিরিঞ্জ বা সুচ একাধিক ব্যক্তি ব্যবহার করলে একজনের শরীরে থাকা এইচআইভি অন্য ব্যক্তির শরীরে প্রবেশ করতে পারে। এ কারণে ইনজেকশন ড্রাগ ব্যবহারকারীদের মধ্যে নিরাপদ সুচ ও সিরিঞ্জ ব্যবহারের ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এই ঝুঁকি শুধু পশ্চিমবঙ্গের বিষয় নয়। ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে ইনজেকশন ড্রাগ ব্যবহারের সঙ্গে এইচআইভি সংক্রমণের সম্পর্ক নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে জনস্বাস্থ্য কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে।

ফলে উত্তরবঙ্গের মতো এলাকায় শুধু সচেতনতা প্রচার নয়, নিয়মিত পরীক্ষা, চিকিৎসা এবং ক্ষতি কমানোর স্বাস্থ্যসেবা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

এইচআইভি নিয়ে সমাজে এখনও অনেক ভুল ধারণা রয়েছে।

এই ভাইরাস সাধারণত সংক্রমিত ব্যক্তির নির্দিষ্ট শারীরিক তরল শরীরে প্রবেশের মাধ্যমে ছড়ায়। অসুরক্ষিত যৌনসম্পর্ক এবং সংক্রমিত রক্তের সংস্পর্শ তার গুরুত্বপূর্ণ পথ।

একইভাবে সংক্রমিত ব্যক্তির ব্যবহৃত সুচ বা সিরিঞ্জ অন্য কেউ ব্যবহার করলে সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হয়।

গর্ভাবস্থা, প্রসব বা স্তন্যপানের সময়ও আক্রান্ত মায়ের কাছ থেকে সন্তানের শরীরে ভাইরাস যেতে পারে। তবে উপযুক্ত চিকিৎসা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিলে মা থেকে শিশুর সংক্রমণের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।

অন্যদিকে হাত মেলানো, পাশাপাশি বসা, একই খাবার খাওয়া বা সাধারণ সামাজিক মেলামেশার মাধ্যমে এইচআইভি ছড়ায় না।

এই তথ্যগুলো জানা অত্যন্ত জরুরি। কারণ ভুল ধারণার কারণে এইচআইভি আক্রান্ত মানুষ সামাজিক বৈষম্য ও অপমানের শিকার হতে পারেন।

এইচআইভি ধরা পড়লে চিকিৎসার মাধ্যমে ভাইরাসের পরিমাণ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। এ জন্য অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল থেরাপি বা ART ব্যবহার করা হয়।

নিয়মিত চিকিৎসা নিলে শরীরে ভাইরাসের পরিমাণ বা ভাইরাল লোড অনেক কমে যেতে পারে। এতে আক্রান্ত ব্যক্তি দীর্ঘ ও স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন।

তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, চিকিৎসা এইচআইভিকে শরীর থেকে পুরোপুরি নির্মূল করে না। তাই চিকিৎসা নিয়মিত চালিয়ে যাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আধুনিক চিকিৎসাব্যবস্থায় এইচআইভি আর আগের মতো অবধারিতভাবে প্রাণঘাতী রোগ নয়। সঠিক সময়ে শনাক্তকরণ এবং নিয়মিত চিকিৎসার মাধ্যমে আক্রান্ত ব্যক্তির জীবন অনেকটাই স্বাভাবিক রাখা সম্ভব।

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি ভুল ধারণা সংশোধন করা দরকার।

ভারতের HIV and AIDS (Prevention and Control) Act, 2017-এ এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বৈষম্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আইনে HIV status-এর গোপনীয়তা এবং তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট সুরক্ষা রয়েছে।

অর্থাৎ, শুধু এইচআইভি পজিটিভ হওয়ার কারণে কাউকে বিয়ে করা থেকে আইনগতভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে—এমন সরল দাবি করা ঠিক নয়।

আইনের ৯ নম্বর ধারায় নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যকর্মী আক্রান্ত ব্যক্তির সঙ্গীকে HIV-positive status জানানোর সুযোগ পেতে পারেন। তবে তার জন্য আইনে একাধিক শর্ত রাখা হয়েছে।

তাই ‘এইচআইভি পজিটিভ হলে লুকিয়ে বিয়ে করলেই গ্রেপ্তার’—এমন সাধারণীকরণ করার আগে নির্দিষ্ট আইনি পরিস্থিতি ও প্রযোজ্য ধারাগুলো দেখা প্রয়োজন।

এইচআইভি প্রতিরোধে নিরাপদ যৌন আচরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

কন্ডোম সঠিকভাবে এবং নিয়মিত ব্যবহার করলে যৌন সংক্রমণের ঝুঁকি কমানো যায়। এ কারণেই যৌনকর্মীদের মধ্যে কন্ডোম ব্যবহার বাড়ানোকে দীর্ঘদিন ধরে HIV prevention-এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে দেখা হয়।

পশ্চিমবঙ্গে যৌনকর্মীদের নিয়ে পরিচালিত গবেষণাতেও HIV সম্পর্কে জ্ঞান এবং কন্ডোম ব্যবহারের মতো বিষয়গুলোকে প্রতিরোধ কর্মসূচির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

তাই সংক্রমণ কমাতে শুধু তরুণদের আচরণ নিয়ে আলোচনা না করে পরীক্ষার সুযোগ, কন্ডোমের সহজলভ্যতা, নিরাপদ সুচ, চিকিৎসা এবং সচেতনতা—সবকিছুকে একসঙ্গে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

পশ্চিমবঙ্গকে ঐতিহাসিকভাবে ভারতের সবচেয়ে বেশি HIV prevalence থাকা রাজ্যগুলোর মধ্যে ধরা হয় না। আগের গবেষণায় রাজ্যটিকে ‘low-prevalent but high-vulnerability’ অঞ্চল হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। অর্থাৎ সামগ্রিক জনসংখ্যায় সংক্রমণের হার তুলনামূলক কম হলেও নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠী ও এলাকায় ঝুঁকি বেশি হতে পারে।

এই পার্থক্যটি বোঝা খুব গুরুত্বপূর্ণ।

একটি রাজ্যের সামগ্রিক HIV prevalence কম হলেও কিছু নির্দিষ্ট এলাকায় সংক্রমণ বেশি হতে পারে। আবার নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর মধ্যে ঝুঁকি সাধারণ জনসংখ্যার তুলনায় অনেক বেশি হতে পারে।

তাই শুধু মোট আক্রান্তের সংখ্যা দিয়ে পরিস্থিতি বিচার না করে কোথায় সংক্রমণ বেশি, কোন জনগোষ্ঠী বেশি ঝুঁকিতে এবং কীভাবে সংক্রমণ হচ্ছে—এসব বিষয় বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।

এইচআইভি সংক্রমণের আলোচনায় পরিযায়ী শ্রমিকদের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি ভারতের অন্যান্য রাজ্যেও দীর্ঘদিন ধরে পরিযায়ী শ্রমিকদের HIV prevention কর্মসূচির আওতায় রাখা হয়েছে।

এর কারণ, দীর্ঘ সময় বাড়ির বাইরে থাকা, স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে অনিয়মিত যোগাযোগ এবং বিভিন্ন সামাজিক ও অর্থনৈতিক ঝুঁকি সংক্রমণ প্রতিরোধকে কঠিন করে তুলতে পারে।

তবে কোনো নির্দিষ্ট পেশা বা জনগোষ্ঠীকে HIV-এর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করে দেখা ঠিক নয়। বরং ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ এবং স্বাস্থ্যসেবায় প্রবেশাধিকারের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত।

পশ্চিমবঙ্গের যৌনকর্মীদের মধ্যে HIV প্রতিরোধে কন্ডোম ব্যবহারের প্রচার এবং সচেতনতা তৈরিতে বিভিন্ন সংগঠনের দীর্ঘদিনের ভূমিকা রয়েছে।

এর মধ্যে দুর্বার মহিলা সমন্বয় কমিটি উল্লেখযোগ্য। যৌনকর্মীদের স্বাস্থ্য অধিকার, HIV পরীক্ষা, চিকিৎসা এবং কন্ডোম ব্যবহারের মতো বিষয় নিয়ে সংগঠনটি দীর্ঘদিন কাজ করেছে।

এই ধরনের কমিউনিটি-ভিত্তিক উদ্যোগ HIV প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ স্বাস্থ্যকর্মীদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীর নিজেদের অংশগ্রহণ থাকলে সচেতনতা ও স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের সুযোগ বাড়ানো সম্ভব।

এইচআইভি সংক্রমণ একটি জটিল জনস্বাস্থ্য সমস্যা। এর সঙ্গে যৌন আচরণ যেমন যুক্ত, তেমনই যুক্ত মাদক গ্রহণ, স্বাস্থ্যসেবায় প্রবেশাধিকার, সামাজিক কুসংস্কার, দারিদ্র্য, অভিবাসন এবং নিয়মিত পরীক্ষা না করানোর মতো বিষয়।

তাই ‘জেন-জি হঠকারী যৌন জীবনযাপন করছে, তাই HIV বাড়ছে’ এমন একলাইন ব্যাখ্যা সমস্যাটিকে অতিরিক্ত সরল করে ফেলে।

বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ অবশ্যই গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া দরকার। কিন্তু তার পাশাপাশি তথ্যের ভিত্তিতে ঝুঁকির কারণগুলো আলাদা করে দেখা প্রয়োজন।

তরুণদের মধ্যে HIV প্রতিরোধে যৌনস্বাস্থ্য শিক্ষা, নিরাপদ যৌন আচরণ, কন্ডোমের ব্যবহার, HIV পরীক্ষা এবং চিকিৎসার সুযোগ বাড়ানো জরুরি। একই সঙ্গে ইনজেকশন ড্রাগ ব্যবহারকারীদের জন্য নিরাপদ সুচ-সিরিঞ্জ এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পুনর্বাসন পরিষেবাও গুরুত্বপূর্ণ।

এইচআইভি নিয়ে ভয় নয়, প্রয়োজন সঠিক তথ্য।

কেউ HIV-positive হলেই তাঁর জীবন থেমে যায় না। নিয়মিত চিকিৎসার মাধ্যমে ভাইরাল লোড নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব এবং আক্রান্ত ব্যক্তি দীর্ঘদিন সুস্থভাবে জীবনযাপন করতে পারেন।

একইভাবে HIV নিয়ে সামাজিক অপমান বা বৈষম্য সংক্রমণ কমানোর বদলে পরিস্থিতি আরও জটিল করতে পারে। মানুষ যদি সামাজিক ভয়ের কারণে পরীক্ষা করাতে না চান, তাহলে সংক্রমণ শনাক্ত করাও কঠিন হয়ে পড়ে।

তাই পশ্চিমবঙ্গে তরুণদের মধ্যে HIV প্রতিরোধের আলোচনা হলে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাওয়া উচিত সঠিক যৌনশিক্ষা, নিরাপদ যৌন আচরণ, নিয়মিত HIV পরীক্ষা, নিরাপদ ইনজেকশন ব্যবহার এবং চিকিৎসার সহজলভ্যতার ওপর।

সবশেষে মনে রাখা দরকার, HIV কোনো একটি প্রজন্মের ‘সমস্যা’ নয়। এটি একটি জনস্বাস্থ্য বিষয়। তথ্যভিত্তিক সচেতনতা, দ্রুত পরীক্ষা এবং কার্যকর চিকিৎসাই পারে সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে এবং আক্রান্ত মানুষকে স্বাভাবিক জীবনযাপনের সুযোগ দিতে।

আর্কাইভ