খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img
Homeস্পোটস ওয়ার্ল্ডআইপিএল স্পেশালজাতীয় দলের ক্ষতি করছে আইপিএল? ক্রিকেটারদের চোট নিয়ে বিসিসিআইয়ে বিতর্ক

জাতীয় দলের ক্ষতি করছে আইপিএল? ক্রিকেটারদের চোট নিয়ে বিসিসিআইয়ে বিতর্ক

তবে এটাও মনে রাখা জরুরি, আইপিএলই ভারতীয় ক্রিকেটারদের সাম্প্রতিক সব চোটের একমাত্র কারণ—এমন কোনো চূড়ান্ত প্রমাণ এখনও সামনে আসেনি। বরং খেলোয়াড়দের workload management, পুনর্বাসন, ফিটনেস পরীক্ষা, জাতীয় ও ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের সমন্বয় এবং চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা—সবকিছু নিয়েই নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

ভারতীয় ক্রিকেটে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটারের চোট এখন বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জশপ্রীত বুমরাহ, হর্ষিত রানা, নীতীশ কুমার রেড্ডি, ওয়াশিংটন সুন্দরসহ একাধিক ক্রিকেটার চোটের কারণে জাতীয় দলের বাইরে বা পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছেন। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের বেঙ্গালুরুর সেন্টার অব এক্সেলেন্স বা CoE-এর কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

এই পরিস্থিতিতে বিতর্কের কেন্দ্রে চলে এসেছে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ বা আইপিএল। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, দীর্ঘ ও ব্যস্ত ক্রিকেট সূচির মধ্যে আইপিএলে ক্রিকেটারদের ওপর যে শারীরিক চাপ পড়ে, তার প্রভাব জাতীয় দলের সময় দেখা যেতে পারে। এমনকি চোট নিয়েও ক্রিকেটাররা আইপিএলে খেলার জন্য চাপ অনুভব করেন কি না, সেই প্রশ্নও উঠছে।

তবে এটাও মনে রাখা জরুরি, আইপিএলই ভারতীয় ক্রিকেটারদের সাম্প্রতিক সব চোটের একমাত্র কারণ—এমন কোনো চূড়ান্ত প্রমাণ এখনও সামনে আসেনি। বরং খেলোয়াড়দের workload management, পুনর্বাসন, ফিটনেস পরীক্ষা, জাতীয় ও ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের সমন্বয় এবং চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা—সবকিছু নিয়েই নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

ভারতীয় দলের সাম্প্রতিক চোটের তালিকায় সবচেয়ে বড় নামগুলোর একটি জশপ্রীত বুমরাহ। দলের অন্যতম প্রধান পেসারকে নিয়ে বারবার ফিটনেস নিয়ে আলোচনা হয়েছে। শ্রীলঙ্কা সফরের আগে তাঁর ফিটনেস নিয়ে আশাবাদ তৈরি হলেও পরে তাঁকে সিরিজের বাইরে রাখা হয়।

বুমরাহর পাশাপাশি হর্ষিত রানাও চোটের সমস্যায় পড়েছেন। নীতীশ কুমার রেড্ডির ক্ষেত্রেও চোটের কারণে জাতীয় দলের পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনতে হয়েছে। ওয়াশিংটন সুন্দরও চোটের কারণে দলের বাইরে রয়েছেন।

ভারতীয় ক্রিকেটে চোট নতুন কোনো বিষয় নয়। দীর্ঘ সময় ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট, ঘরোয়া ক্রিকেট, ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট এবং অনুশীলনের চাপ সামলাতে হয় পেশাদার ক্রিকেটারদের। কিন্তু একই সময়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় চোটে পড়ায় এবার প্রশ্নটা আরও জোরালো হয়েছে—খেলোয়াড়দের workload কি যথাযথভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে?

ভারতীয় ক্রিকেটের সবচেয়ে জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট আইপিএল। বিশ্বের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ টি-টোয়েন্টি লিগ হওয়ায় এখানে ক্রিকেটারদের ওপর পারফরম্যান্সের চাপও থাকে অনেক বেশি।

একটি আইপিএল মৌসুমে ম্যাচের পাশাপাশি দীর্ঘ ভ্রমণ, অনুশীলন, জিম সেশন এবং দলের সঙ্গে নিয়মিত প্রস্তুতি চালিয়ে যেতে হয়। বিশেষ করে পেসারদের ক্ষেত্রে শরীরের ওপর চাপ আরও বেশি হতে পারে।

সাম্প্রতিক আলোচনায় সেন্টার অব এক্সেলেন্সের এক সূত্রের বক্তব্য সামনে এসেছে। ওই সূত্রের দাবি, অতিরিক্ত ক্রিকেটের কারণে খেলোয়াড়দের শরীরের ওপর চাপ তৈরি হচ্ছে এবং অনেক সময় চোট থাকা সত্ত্বেও তাঁরা খেলতে নামেন। পরে টুর্নামেন্ট শেষ হলে সেই ক্রিকেটারদের পুনর্বাসনের দায়িত্ব এসে পড়ে CoE-এর ওপর।

এই বক্তব্যই আইপিএলকে ঘিরে বিতর্ককে আরও বাড়িয়েছে।

আরও পড়ুন :  ৩ ঘণ্টার মধ্যে ভুয়ো এআই কনটেন্ট সরানোর নির্দেশ, না মানলেই বিপদ সোশ্যাল মিডিয়ার

তবে এটিকে বোর্ডের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত বা আইপিএলের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত অভিযোগ হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। কারণ CoE-এর প্রধান ভিভিএস লক্ষ্মণও সাম্প্রতিক সময়ে পরিষ্কার করেছেন যে কেন্দ্রটিকে শুধু পুনর্বাসন কেন্দ্র হিসেবে দেখা উচিত নয়। তাঁর মতে, পেশাদার ক্রিকেটে চোট একটি স্বাভাবিক বাস্তবতা এবং মূল বিষয় হওয়া উচিত খেলোয়াড়দের যথাযথভাবে পর্যবেক্ষণ ও সহায়তা করা।

সাম্প্রতিক চোটের পরিস্থিতিতে শুধু আইপিএল নয়, সেন্টার অব এক্সেলেন্সের কার্যকারিতাও আলোচনায় এসেছে।

বেঙ্গালুরুর এই প্রতিষ্ঠানটি ভারতীয় ক্রিকেটারদের ফিটনেস, পুনর্বাসন, চিকিৎসা এবং খেলায় ফেরার প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলে কোনো ক্রিকেটারকে ফিট ঘোষণা করার পর আবার চোটে পড়লে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে—ফিটনেস মূল্যায়ন কতটা কার্যকর ছিল?

এই বিতর্কের মধ্যে CoE-এর স্পোর্টস সায়েন্স বিভাগেও পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে। সাবেক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নীতিন প্যাটেল সরে যাওয়ার পর তাঁর স্থায়ী বিকল্প নিয়েও আলোচনা চলছে বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

অর্থাৎ সমস্যা যদি থেকেও থাকে, সেটিকে শুধু আইপিএল দিয়ে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে না। বোর্ডের চিকিৎসা কাঠামো, ফিটনেস মূল্যায়ন এবং খেলোয়াড়দের পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থাও প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

ভারতীয় ক্রিকেটে সাম্প্রতিক আলোচনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হলো ‘রিটার্ন টু প্লে’ বা চোটের পর খেলোয়াড়কে মাঠে ফেরানোর প্রক্রিয়া।

কোনো ক্রিকেটার চোট থেকে সুস্থ হয়ে উঠলে শুধু ব্যথা কমেছে কি না, সেটাই দেখার বিষয় নয়। তাঁকে ম্যাচের চাপ নেওয়ার মতো অবস্থায় পৌঁছেছেন কি না, সেটিও যাচাই করতে হয়।

অনুশীলনে একজন খেলোয়াড় যে পরিমাণ চাপ নিতে পারেন, আন্তর্জাতিক ম্যাচে সেই চাপ অনেক বেশি হতে পারে। তাই চিকিৎসা থেকে মাঠে ফেরার পুরো প্রক্রিয়ায় ধাপে ধাপে workload বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ।

এই জায়গাতেই সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। বুমরাহর ক্ষেত্রে ফিটনেস নিয়ে ইতিবাচক খবরের পর তাঁকে আবার সিরিজের বাইরে রাখা হয়। হর্ষিত রানার ক্ষেত্রেও ফিটনেস নিয়ে আলোচনা চলার পর ফের চোটের খবর সামনে আসে।

এসব ঘটনা থেকে সরাসরি কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ব্যর্থতা প্রমাণ হয় না। তবে খেলোয়াড়দের মাঠে ফেরানোর পদ্ধতি আরও কঠোরভাবে পর্যালোচনা করার প্রয়োজনীয়তা অবশ্যই সামনে আসে।

চোটের ধারাবাহিকতার মধ্যে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড ফিটনেস ব্যবস্থাতেও পরিবর্তনের পথে হাঁটছে বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানা গেছে।

BCCI-এর CoE-তে খেলোয়াড়দের জন্য আরও মানসম্মত বেস ফিটনেস পরীক্ষা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে Bronco test এবং 2K run-এর মতো পরীক্ষাকে নির্দিষ্ট মানদণ্ড হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনার কথা উঠে এসেছে।

এখানে মূল সমস্যা হিসেবে উঠে এসেছে বিভিন্ন ক্রিকেটারের জন্য আলাদা আলাদা ফিটনেস পরীক্ষার কারণে একক মানদণ্ডের অভাব। একটি নির্দিষ্ট ও অভিন্ন বেসলাইন থাকলে খেলোয়াড়ের ফিটনেস অবস্থার তুলনা এবং পর্যবেক্ষণ আরও সহজ হতে পারে।

আরও পড়ুন :  রেডিও থেকে টিভি: ১৯৫৪ বিশ্বকাপ থেকে নব্বইয়ের পাড়া-সংস্কৃতি: নস্টালজিয়ার ঝাঁপি

ফলে বোঝা যাচ্ছে, সাম্প্রতিক চোটের ঘটনা বোর্ডকেও নিজেদের ব্যবস্থাপনা পর্যালোচনা করতে বাধ্য করছে।

ভারতীয় ক্রিকেটে এখন একটি বাস্তব সমস্যা হলো—জাতীয় দল এবং ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের সূচির মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করা।

আইপিএল শুধু ভারতের ক্রিকেটারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নয়, এটি বিশ্বের অন্যতম বড় ক্রিকেট প্রতিযোগিতা। ক্রিকেটারদের জন্য এটি আর্থিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ এবং তাঁদের পেশাগত ক্যারিয়ারের বড় অংশ।

অন্যদিকে জাতীয় দলের হয়ে খেলা দেশের ক্রিকেটারদের সবচেয়ে বড় দায়িত্বগুলোর একটি। ফলে একজন ক্রিকেটার কখন আইপিএলে খেলবেন, কখন বিশ্রাম নেবেন এবং কখন জাতীয় দলের জন্য প্রস্তুত থাকবেন—এই সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

BCCI ইতিমধ্যেই খেলোয়াড়দের workload পর্যবেক্ষণের জন্য বিভিন্ন ব্যবস্থা ব্যবহার করে। দীর্ঘদিন ধরে চুক্তিবদ্ধ ক্রিকেটারদের শারীরিক কার্যকলাপ ও পুনরুদ্ধারের তথ্যও পর্যবেক্ষণ করা হয়। কিন্তু বাস্তবে এই তথ্য কীভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে, সেটাই বড় প্রশ্ন।

এখানেই বিতর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা।

একজন ক্রিকেটারের চোটের পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। অতিরিক্ত ম্যাচ, ভ্রমণ, অনুশীলন, ঘুমের ঘাটতি, পুরনো চোট, ব্যক্তিগত ফিটনেস, শরীরের গঠন এবং ম্যাচের পরিস্থিতি—সবকিছুই ভূমিকা রাখতে পারে।

পেসারদের ক্ষেত্রে দ্রুতগতিতে বারবার বোলিং করা শরীরের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করে। আবার কোনো ক্রিকেটার যদি আগে থেকেই ছোটখাটো চোট নিয়ে খেলেন, পরবর্তী সময়ে সেটি বড় সমস্যায় পরিণত হতে পারে।

তাই আইপিএলকে সরাসরি সব চোটের জন্য দায়ী করা বৈজ্ঞানিকভাবে যথেষ্ট নয়।

তবে আইপিএলের মতো দীর্ঘ ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টে ক্রিকেটারদের workload কতটা হওয়া উচিত, সেই প্রশ্ন অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষ করে জাতীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ সিরিজের আগে তারকা ক্রিকেটারদের কতটা বিশ্রাম দেওয়া হবে, সেটি নিয়ে আরও সুস্পষ্ট নীতি প্রয়োজন হতে পারে।

জশপ্রীত বুমরাহ ভারতীয় দলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পেসারদের একজন। তাঁর চোট তাই সাধারণ কোনো খেলোয়াড়ের চোটের মতো নয়।

একজন দ্রুতগতির পেসারকে দীর্ঘ সময় ধরে খেলাতে হলে তাঁর শরীরের ওপর workload নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বুমরাহর ক্ষেত্রে ভারতীয় দল অতীতেও workload management নিয়ে সতর্ক থেকেছে।

কিন্তু তাঁর ক্ষেত্রে বারবার ফিটনেস নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় প্রশ্ন উঠছে—চোট থেকে ফেরার পর তাঁকে কত দ্রুত প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে ফেরানো হচ্ছে?

এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে শুধু আইপিএল নয়, তাঁর সামগ্রিক ক্রিকেট সূচি এবং পুনর্বাসন প্রক্রিয়াও বিশ্লেষণ করতে হবে।

ভারতের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় হর্ষিত রানা এবং নীতীশ কুমার রেড্ডির মতো তরুণ ক্রিকেটাররা গুরুত্বপূর্ণ। তাঁদের চোট তাই দীর্ঘমেয়াদে দলের পরিকল্পনাতেও প্রভাব ফেলতে পারে।

আরও পড়ুন :  শান্তি বৈঠকের পরই হামলা! হরমুজে আগুন, ফের মুখোমুখি ইরান ও আমেরিকা

হর্ষিত ভারতের পেস বোলিংয়ের ভবিষ্যৎ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন। নীতীশ আবার ব্যাটিং ও বোলিং—দুই দিকেই দলের ভারসাম্য বাড়াতে পারেন।

ওয়াশিংটন সুন্দরও ভারতের গুরুত্বপূর্ণ অলরাউন্ডার। ফলে এই তিন ক্রিকেটারের চোট একই সময়ে জাতীয় দলের বিকল্প পরিকল্পনাকে কঠিন করে তুলছে।

সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো দেখে আইপিএল ও জাতীয় দলের ক্রিকেট নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু একটি বিষয় পরিষ্কার—আইপিএলকে এককভাবে দায়ী করে সমস্যার সমাধান হবে না।

বরং প্রয়োজন জাতীয় দল, ফ্র্যাঞ্চাইজি দল, CoE, চিকিৎসক, ফিজিও, strength and conditioning staff এবং ক্রিকেটারের মধ্যে আরও ভালো যোগাযোগ।

কোনো ক্রিকেটার চোটে থাকলে তাঁর ক্ষেত্রে কখন খেলবেন এবং কখন বিশ্রাম নেবেন—এই সিদ্ধান্ত শুধু ক্রিকেটারের ওপর ছেড়ে দেওয়া কতটা যুক্তিযুক্ত, সেটিও আলোচনার বিষয়।

একইভাবে ফ্র্যাঞ্চাইজি দলও যদি জাতীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়ের workload সম্পর্কে বোর্ডের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে, তাহলে ঝুঁকি কমানো সম্ভব হতে পারে।

সাম্প্রতিক চোটের ঘটনাগুলোর সবচেয়ে বড় শিক্ষা সম্ভবত এখানেই। আধুনিক ক্রিকেটে ম্যাচের সংখ্যা আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের পাশাপাশি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের সংখ্যা বাড়ছে। ফলে একজন ক্রিকেটারের শরীরের ওপর চাপও বাড়ছে।

এই বাস্তবতায় শুধু ভালো চিকিৎসা ব্যবস্থা থাকলেই হবে না। চোট হওয়ার আগেই ঝুঁকি শনাক্ত করা জরুরি।

কে কত ওভার বল করছেন, কত ম্যাচ খেলছেন, কত দিন বিশ্রাম নিচ্ছেন, ঘুম ও recovery কেমন হচ্ছে—এসব তথ্য নিয়মিত বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।

BCCI-এর ফিটনেস পরীক্ষার মানদণ্ড আরও একীভূত করার উদ্যোগ সেই দিকেই একটি পদক্ষেপ হতে পারে।

সবশেষে বলা যায়, ভারতীয় ক্রিকেটে এখন যে প্রশ্নটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তা হলো—আইপিএল কি সত্যিই জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের চোটের মূল কারণ, নাকি এটি আরও বড় একটি workload management সমস্যার অংশ?

এই মুহূর্তে দ্বিতীয় ব্যাখ্যাটি বেশি সতর্ক ও যুক্তিসঙ্গত। কারণ সাম্প্রতিক চোটের সঙ্গে আইপিএলের সরাসরি সম্পর্ক প্রমাণিত হয়নি। তবে দীর্ঘ ক্রিকেট সূচি, ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের চাপ এবং আন্তর্জাতিক ম্যাচের মধ্যে পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভাব যে খেলোয়াড়দের ওপর চাপ বাড়াতে পারে, তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই।

ভারতীয় ক্রিকেটের সামনে তাই চ্যালেঞ্জ শুধু চোট সারানো নয়। আসল কাজ হলো এমন একটি ব্যবস্থাপনা তৈরি করা, যাতে বুমরাহ, হর্ষিত, নীতীশ বা সুন্দরদের মতো ক্রিকেটাররা চোটে পড়ার পর বারবার পুনর্বাসন কেন্দ্রে ফিরে না যান এবং জাতীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে মাঠে প্রস্তুত থাকতে পারেন।

আর্কাইভ