খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img
Homeইতিহাস-ঐতিহ্য২১০০ বছরেও নষ্ট হয়নি জাহাজ, সমুদ্রের তলায় মিলল ৫০০ রোমান যুগের ঘড়া

২১০০ বছরেও নষ্ট হয়নি জাহাজ, সমুদ্রের তলায় মিলল ৫০০ রোমান যুগের ঘড়া

প্রাচীনকালে সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে এই ধরনের পাত্র অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। বিশেষ ধরনের আকৃতির এই ঘড়াগুলির গলার অংশ লম্বা ও সরু। অন্যদিকে মাঝের অংশ তুলনামূলকভাবে চওড়া।

সমুদ্রের গভীরে হাজার বছরের পুরনো কোনও জাহাজের সন্ধান পাওয়া গেলে তা নিঃসন্দেহে প্রত্নতাত্ত্বিকদের কাছে বড় ঘটনা। কিন্তু সেই জাহাজ যদি প্রায় ২১০০ বছর ধরে সমুদ্রের তলায় থাকার পরও আশ্চর্যজনকভাবে অক্ষত থাকে, তাহলে আবিষ্কারের গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়।

ইতালির সিসিলি উপকূলের কাছে সমুদ্রের তলায় এমনই একটি প্রাচীন জাহাজের সন্ধান মিলেছে। শুধু জাহাজটিই নয়, তার ভিতরে পাওয়া গেছে প্রায় ৫০০টি প্রাচীন সিরামিকের ঘড়া। গবেষকদের ধারণা, এই পাত্রগুলিতে একসময় অলিভ তেল, মদ এবং শস্যের মতো বিভিন্ন পণ্য বহন করা হত।

প্রত্নতাত্ত্বিকদের কাছে এই আবিষ্কার তাই প্রাচীন রোমান যুগের বাণিজ্য, সমুদ্রযাত্রা ও দৈনন্দিন জীবন সম্পর্কে নতুন তথ্য জানার গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করেছে।

ঘটনার সূত্রপাত স্থানীয় মৎস্যজীবীদের সন্দেহ থেকে। সমুদ্রের কাছাকাছি মাছ ধরার সময় জলের নিচে অস্বাভাবিক কিছু থাকার বিষয়টি তাঁদের নজরে আসে।

বিষয়টি তাঁরা প্রশাসনকে জানান। এরপর ঘটনাস্থলে অনুসন্ধানের জন্য দক্ষ ডুবুরিদের পাঠানো হয়।

সমুদ্রের তলদেশে পৌঁছে ডুবুরিরা দেখতে পান, সেখানে একটি বিশাল প্রাচীন জাহাজ পড়ে রয়েছে। সেটি পরীক্ষা করার পর বিশেষজ্ঞরা প্রাথমিকভাবে অনুমান করেন, জাহাজটির বয়স প্রায় ২১০০ বছর।

সবচেয়ে বিস্ময়ের বিষয় ছিল, এত দীর্ঘ সময় সমুদ্রের তলায় থাকার পরও জাহাজটির কাঠামো অনেকটাই অক্ষত অবস্থায় রয়েছে।

জাহাজটির অবস্থানও গবেষকদের আগ্রহ বাড়িয়েছে। সমুদ্রের খুব গভীরে নয়, প্রায় ১৫০ ফুট জলের নিচে এর সন্ধান পাওয়া গেছে।

এত কম গভীরতায় একটি প্রাচীন জাহাজ দীর্ঘ সময় ধরে কীভাবে সংরক্ষিত অবস্থায় রয়ে গেল, তা নিয়ে গবেষণার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

সমুদ্রের তলদেশে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন সংরক্ষিত থাকার ক্ষেত্রে পরিবেশের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। পলির স্তর, জলের তাপমাত্রা, অক্সিজেনের মাত্রা এবং সামুদ্রিক পরিবেশ—সবকিছুই কোনও প্রাচীন জাহাজ বা পাত্রের সংরক্ষণে প্রভাব ফেলতে পারে।

জাহাজটির সবচেয়ে বড় চমক অবশ্যই তার ভিতরে থাকা প্রায় ৫০০টি সিরামিকের ঘড়া।

প্রাচীনকালে সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে এই ধরনের পাত্র অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। বিশেষ ধরনের আকৃতির এই ঘড়াগুলির গলার অংশ লম্বা ও সরু। অন্যদিকে মাঝের অংশ তুলনামূলকভাবে চওড়া।

অনেক পাত্রের দুই পাশে হাতলও ছিল। ফলে সেগুলি বহন করা কিংবা জাহাজে সাজিয়ে রাখা তুলনামূলক সহজ ছিল বলে ধারণা করা যায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব পাত্রে সেই সময়ের গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য ও বাণিজ্যিক পণ্য বহন করা হত।

প্রাচীন ভূমধ্যসাগরীয় বাণিজ্যে অলিভ তেল, মদ এবং শস্য ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পণ্য।

সেই সময় এক অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলে সমুদ্রপথে এসব পণ্য নিয়ে যাওয়া হত। ফলে জাহাজের ভিতরে পাওয়া পাত্রগুলির মাধ্যমে সেই সময়কার বাণিজ্যব্যবস্থা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যেতে পারে।

৫০০টি পাত্র একসঙ্গে পাওয়া যাওয়ায় গবেষকদের ধারণা, জাহাজটি সম্ভবত একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক পরিবহনের অংশ ছিল।

অর্থাৎ এটি শুধুমাত্র যাত্রী পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত জাহাজ ছিল না, বরং বিপুল পরিমাণ পণ্য এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নিয়ে যাওয়ার কাজেও ব্যবহৃত হত বলে মনে করা হচ্ছে।

ইতালির সিসিলি উপকূলের কাছে পাওয়া এই জাহাজকে প্রাচীন রোমান যুগের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তবে জাহাজটির সঠিক পরিচয়, কোথা থেকে যাত্রা শুরু করেছিল এবং কোথায় যাওয়ার পথে ডুবে গিয়েছিল—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনও গবেষণার বিষয়।

জাহাজে থাকা পাত্রগুলির ধরন, নির্মাণশৈলী এবং অবস্থান বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা জাহাজটির সম্ভাব্য যাত্রাপথ ও সময়কাল সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পেতে পারেন।

সমুদ্রের নিচে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন খুঁজে পাওয়া নতুন কিছু নয়। কিন্তু একটি জাহাজের কাঠামো এবং তার ভিতরের বিপুল সংখ্যক পাত্র একই সঙ্গে প্রায় অক্ষত অবস্থায় পাওয়া বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।

কারণ, স্থলভাগে পাওয়া অনেক প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন সময়ের সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অথচ সমুদ্রের তলদেশে কোনও কোনও জাহাজ পলি ও অন্যান্য প্রাকৃতিক স্তরের নিচে চাপা পড়ে অপেক্ষাকৃত ভালোভাবে সংরক্ষিত থাকতে পারে।

এই জাহাজটি গবেষকদের কাছে তাই কার্যত একটি সমুদ্রের নিচের টাইম ক্যাপসুল। এর ভিতরের সামগ্রী পরীক্ষা করে ২১০০ বছর আগের মানুষের বাণিজ্য, পণ্য পরিবহন এবং জীবনযাত্রা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া সম্ভব হতে পারে।

ইতালির সংস্কৃতি মন্ত্রকও এই আবিষ্কারকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে বলে জানা গেছে।

প্রত্নতাত্ত্বিকেরা মনে করছেন, জাহাজ এবং তার ভিতরে থাকা পাত্রগুলি নিয়ে বিস্তারিত গবেষণা হলে প্রাচীন ভূমধ্যসাগরীয় বাণিজ্যের আরও অনেক অজানা তথ্য সামনে আসতে পারে।

একটি জাহাজের মধ্যে কী ধরনের পণ্য ছিল, কত পরিমাণে ছিল এবং কোন ধরনের পাত্রে তা বহন করা হত—এসব তথ্য থেকে সেই সময়ের অর্থনীতি ও বাণিজ্যিক যোগাযোগের ছবিও স্পষ্ট হতে পারে।

সব মিলিয়ে সিসিলির উপকূলে সমুদ্রের তলায় পাওয়া এই ২১০০ বছরের পুরনো জাহাজ এবং ৫০০টি প্রাচীন ঘড়া ইতিহাসবিদ ও প্রত্নতাত্ত্বিকদের সামনে এক বিরল গবেষণার দরজা খুলে দিয়েছে। হাজার বছরের পুরনো এই নিদর্শন ভবিষ্যতে প্রাচীন রোমান বিশ্বের সমুদ্রবাণিজ্য সম্পর্কে আরও অনেক অজানা তথ্য প্রকাশ করতে পারে।

আর্কাইভ