মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনায় একাধিক হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। সংস্থাটির দাবি অনুযায়ী, এসব হামলায় বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, রাডার স্থাপনা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। যদিও এসব দাবির স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি, তবুও ঘটনাটি অঞ্চলজুড়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির তথ্য অনুযায়ী, আইআরজিসি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে তারা বাহরাইনে অবস্থিত দুটি পৃথক মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে সফলভাবে হামলা চালিয়েছে। সংস্থাটির ভাষ্য অনুযায়ী, ওই হামলায় দুটি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং একটি রাডার স্থাপনা ধ্বংস করা হয়েছে।
একই সঙ্গে কুয়েতে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীর ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, রাডার এবং স্যাটেলাইট যোগাযোগ অবকাঠামোকেও লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে আইআরজিসি। তাদের মতে, এসব হামলা ছিল পরিকল্পিত এবং নির্দিষ্ট সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করেই পরিচালিত হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনায় প্রকাশিত বিবৃতিতে আইআরজিসি জানিয়েছে, রাডার ব্যবস্থা ধ্বংসের ফলে প্রতিপক্ষের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা দুর্বল হয়েছে। একইসঙ্গে তারা সতর্ক করে বলেছে, ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জন্য প্রতিপক্ষকে প্রস্তুত থাকতে হবে।
আইআরজিসির এই বক্তব্যকে বিশ্লেষকরা চলমান আঞ্চলিক সংঘাতের অংশ হিসেবে দেখছেন। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় এমন বার্তা পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলতে পারে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, আইআরজিসি পরবর্তীতে আরও একটি পৃথক বিবৃতি প্রকাশ করেছে। সেখানে কুয়েতে মার্কিন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে দ্বিতীয় দফায় হামলা চালানোর দাবি করা হয়েছে।
এই বিবৃতির মাধ্যমে আইআরজিসি জানায়, তাদের অভিযান শুধুমাত্র একটি হামলায় সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং ধারাবাহিকভাবে একাধিক সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করা হয়েছে।
ইরানের সংবাদ সংস্থা তাসনিমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আইআরজিসি দাবি করেছে যে কুয়েতের আহমেদ আল-জাবের বিমানঘাঁটিতে সফলভাবে আঘাত হানা হয়েছে।
সংস্থাটির দাবি অনুসারে, হামলায় যেসব সামরিক সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে,আগাম সতর্কতা সংকেত প্রদানকারী একটি আর্লি ওয়ার্নিং রাডার, একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা রাডার ব্যবস্থা,একটি এফপিএস-১১৭ (FPS-117) রাডার,একটি প্যাট্রিয়ট বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা,একটি বিমান প্রতিরক্ষা স্যাটেলাইট যোগাযোগ ব্যবস্থা।
আইআরজিসির ভাষ্য অনুযায়ী, এসব গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়েছে। তবে এই দাবির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র বা কুয়েতের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ প্রকাশ করা হয়নি।
এ ধরনের সংঘাতের সময় বিভিন্ন পক্ষ নিজেদের সামরিক সাফল্যের দাবি প্রকাশ করে থাকে। তবে যুদ্ধক্ষেত্রের পরিস্থিতিতে এসব তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রায়ই সম্ভব হয় না।
এখন পর্যন্ত মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর, কুয়েত কিংবা বাহরাইনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আইআরজিসির সর্বশেষ দাবির বিষয়ে বিস্তারিত কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য দেয়নি। ফলে হামলায় প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনও নিশ্চিত নয়।
বিশ্লেষকদের মতে, কুয়েত ও বাহরাইনে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে হামলার দাবি মধ্যপ্রাচ্যের বিদ্যমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, যা দীর্ঘদিন ধরে আঞ্চলিক নিরাপত্তা কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।
যদি এসব হামলার দাবি সত্য প্রমাণিত হয়, তাহলে তা শুধু যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্ক নয়, পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা ও সামরিক ভারসাম্যের ওপরও উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে।

