খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img
Homeবিশ্ব সংবাদসৌদি আরবে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা: মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরমে

সৌদি আরবে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা: মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরমে

সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে এই হামলা পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।

ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহী গোষ্ঠী সৌদি আরবকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে। এই ঘটনার মধ্য দিয়ে প্রায় চার বছর ধরে কার্যকর থাকা অনানুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সাম্প্রতিক এই হামলা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার (১৩ জুলাই) হুতিরা অভিযোগ করে যে সৌদি আরব তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন একটি বিমানবন্দরে বিমান হামলা চালিয়েছে। এর জবাব হিসেবেই তারা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা পরিচালনা করেছে বলে দাবি করে।

ইয়েমেনে অভিযানে অংশ নেওয়া সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হুতিদের নিক্ষেপ করা ক্ষেপণাস্ত্রগুলো সৌদি আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সফলভাবে প্রতিহত করেছে। জোটের মুখপাত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা কার্যকর ছিল।

তবে হামলায় কোনো হতাহত বা অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।

আরও পড়ুন :  লেবাননে যুদ্ধবিরতি! ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ সংঘাত থামছে আজ থেকেই

হুতি গোষ্ঠীর সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি দাবি করেন, সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের আবহার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে লক্ষ্য করেই এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে।

আবহা শহরটি ইয়েমেন সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থিত এবং সৌদি আরবের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পার্বত্য পর্যটন অঞ্চল। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রীষ্মকালে প্রচণ্ড গরম এড়াতে বহু মানুষ এখানে ভ্রমণে আসেন। ফলে এই অঞ্চলে হামলার চেষ্টা নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে।

২০২২ সালের মার্চে সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামোতে হুতিদের বড় ধরনের হামলার পর উভয় পক্ষের মধ্যে একটি অনানুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। এরপর দীর্ঘ সময় সীমান্ত পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে শান্ত ছিল।

সাম্প্রতিক এই হামলার দায় স্বীকার করে হুতি গোষ্ঠী কার্যত সেই দীর্ঘ বিরতির অবসানের ইঙ্গিত দিয়েছে। ফলে ইয়েমেন সংঘাত আবারও নতুন মাত্রা পেতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

আরও পড়ুন :  বাংলাদেশের সুবোধ এখন ভারতে: সিকিমে নতুন গ্রাফিতির রহস্য কী?

ঘটনার পরপরই সৌদি সরকারের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে সামরিক জোটের পক্ষ থেকে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার দাবি সামনে আসায় পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি সরকার পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার আগে সামরিক ও কূটনৈতিক উভয় দিক বিবেচনা করতে পারে।

সোমবারের এই হামলার ঘটনায় সৌদি আরবের দক্ষিণ সীমান্তে নতুন করে সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে এই হামলা পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।

গত এপ্রিলে ইরান-সম্পর্কিত উত্তেজনার পর একটি সাময়িক শান্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। সেই সময় সৌদির পূর্বাঞ্চল এবং রাজধানী রিয়াদকে লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে। কিন্তু নতুন এই হামলার দাবি সেই স্থিতিশীলতায় আবারও প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

হুতিদের অভিযোগ, সৌদি আরব সম্প্রতি ইয়েমেনের রাজধানী সানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান হামলা চালিয়েছে। তারা দাবি করে, ওই হামলার প্রতিশোধ নিতেই সৌদি ভূখণ্ডকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন :  জর্ডানের সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি

যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য প্রকাশ করা হয়নি। ফলে উভয় পক্ষের দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

ইয়েমেন সংঘাত দীর্ঘদিন ধরেই মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম জটিল সংকট হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। হুতি গোষ্ঠী ও সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মধ্যে সংঘর্ষ শুধু দুই পক্ষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য, আন্তর্জাতিক কূটনীতি এবং বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তার বিষয়ও জড়িয়ে রয়েছে।

সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনায় যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। যদি উভয় পক্ষ সংযম না দেখায়, তবে সীমান্ত সংঘাত আরও বিস্তৃত আকার ধারণ করতে পারে। একই সঙ্গে কূটনৈতিক উদ্যোগ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

আর্কাইভ