খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img
Homeঅর্থ-বানিজ্যবেনাপোল দিয়ে ২৩৩ টন কাচাঁ মরিচ আমদানি, বিক্রী কেজি ১০০ টাকা

বেনাপোল দিয়ে ২৩৩ টন কাচাঁ মরিচ আমদানি, বিক্রী কেজি ১০০ টাকা

৩ আগস্ট থেকে ১৬ আগস্ট পর্যন্ত ১০ কার্যদিবসে প্রায় ২৩৩ টন কাঁচা মরিচ বেনাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি হয়েছে। আমদানি শুরু হওয়ায় শার্শা উপজেলার সব বাজারে মরিচের দাম ৩০০ টাকা থেকে কমে বর্তমানে বাজারে ১০০-১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ভারত থেকে বেনাপোল দিয়ে কাচাঁ মরিচ আমদানি স্বাভাবিক থাকায় বাজারে সরবরাহ বেড়েছে। সে কারণে স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে কাঁচা মরিচের দামে। মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে শার্শা উপজেলার বেনাপোল সহ বিভিন্ন খুচরা বাজারে কাঁচা মরিচের দাম কেজিতে ২০০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। হঠাৎ এই দরপতনে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। এখন ৩০০ টাকার মরিচ ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ভারত থেকে বেনাপোল দিয়ে ১০ দিনে ২৩৩ টন কাঁচা মরিচ আমদানি হয়েছে।

গত ৩ আগস্ট প্রথম চালানে একটি ভারতীয় ট্রাকে ৯,২০০ কেজি (৯.২ টন),৪ আগস্ট দ্বিতীয় চালানে তিনটি ট্রাকে ৪২,২২০ কেজি(৪২.২২ টন),৬ আগস্ট একটি ট্রাকে ১৪,০০০ কেজি(১৪ টন) ৮ আগষ্ট একটি ট্রাকে ১৫,০০০ কেজি (১৫ টন), ৯ আগস্ট একটি ট্রাকে ১৪,০০০ কেজি (১৪ টন) এবং ১০ আগষ্ট সন্ধ্যায় ১৪,০০০ কেজি (১৪ টন), ১১ আগষ্ট ৪ টি ট্রাকে ৫৬,০০০ কেজি (৫৬ টন), ১২ আগস্ট ২ টি ট্রাকে ২৮,০০০ কেজি (২৮ টন), ১৩ আগস্ট বৃহস্পতিবার ২ টি ট্রাকে ২৮,০০০ কেজি (২৮ টন) এবং সবশেষ গতকাল রবিবার (১৬ আগস্ট) ১৩,৫০০ কেজি (১৩.৫ টন) কাচাঁ মরিচ বেনাপোল বন্দরে প্রবেশ করে। এ নিয়ে ৩ আগস্ট থেকে ১৬ আগস্ট পর্যন্ত ১০ কার্যদিবসে প্রায় ২৩৩ টন কাঁচা মরিচ বেনাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি হয়েছে। আমদানি শুরু হওয়ায় শার্শা উপজেলার সব বাজারে মরিচের দাম ৩০০ টাকা থেকে কমে বর্তমানে বাজারে ১০০-১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

আরও পড়ুন :  বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী: মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও সরবরাহ সংকটের প্রভাব বিশ্লেষণ

আজ সোমবার শার্শার বেনাপোল, নাভারন ও বাগআঁচড়া বাজার ঘুরে দেখা গেছে এমন বাজার দর।

সরেজমিনে এসব খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে প্রতিকেজি কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকায়। অথচ মাত্র দুই সপ্তাহ আগে সরবরাহের ওপর নির্ভর করে প্রতিকেজি কাঁচা মরিচ বিক্রি হয়েছিল ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা পর্যন্ত।

তবে ভারত থেকে কাঁচা মরিচ আমদানি হওয়ার কারণে দামে অনেকটাই স্বস্তি ফিরেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। শুধু তাই নয়, দেশের প্রধান মরিচ উৎপাদনকারী অঞ্চলগুলো থেকেও মরিচের জোগান বাজারে হঠাৎ অনেকাংশ বেড়েছে বলেও মনে করেন তারা।

বেনাপোল বাজারে কাঁচা মরিচ বিক্রেতা রাশেদ আলী বলেন, পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে নিয়মিত কাঁচা মরিচ আমদানি অব্যাহত থাকায় বাজারে সরবরাহের কোনো ঘাটতি হয়নি। একইসঙ্গে বন্যার কারণে কৃষকের উৎপাদন ব্যাহত হলেও এখন বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পাইকারি বাজারে মরিচ আসছে, এতে দাম কমে এসেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আরও পড়ুন :  বেনাপোল বন্দরে ক্রেন-ফর্কলিফট সংকট: ব্যাহত হচ্ছে বানিজ্য

বাজার করতে আসা মেহের আলী সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, রান্নাবান্নার অন্যতম প্রয়োজনীয় পণ্য কাঁচা মরিচ। কয়েক দিন আগেও দাম অতিরিক্ত থাকায় ৫০ গ্রামের বেশি কিনতে হিমশিম খেতে হতো। ২০০ টাকা পর্যন্ত দাম কমে যাওয়া সত্যি স্বস্তিদায়ক বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আমদানিকারক শামীম হোসেন বলেন, কাচাঁ মরিচ আমদানির প্রভাবে বাজারে তিন ভাগের দুইভাগ দাম কমে গেছে। প্রতিদিন বেনাপোল বন্দর দিয়ে কাচাঁ মরিচ আমদানি হচ্ছে। এ ধারাবাহিকতা অব্যহত থাকলে কাচাঁ মরিচের দাম কমে ৫০ টাকায় নেমে আসবে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, পচনশীল কৃষিপণ্যের বাজার হঠাৎ ওঠানামা ঠেকাতে স্থায়ী সংরক্ষণাগার গড়ে তোলা জরুরি। এ ছাড়া স্থানীয় সরবরাহ ভালো থাকলে আমদানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে বাজারকে একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব বলে মনে করছেন তারা।

আরও পড়ুন :  যশোর জংশনে রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পেলেও বাড়েনি যাত্রী সেবার মান

বেনাপোল চেকপোস্ট উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের উপ-সহকারী কর্মকর্তা শ্যামল কুমার নাথ জানান, ভারত থেকে প্রতিদিনই কাচাঁ মরিচ বাংলাদেশে আমদানি হচ্ছে। সে কারনে বাজারে দাম ৩০০ থেকে নেমে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চলতি মাসের ৩ থেকে ১৬ তারিখের মধ্যে ১০ কার্যদিবসে প্রায় ২৩৩ টন কাচাঁ মরিচ বেনাপোল বন্দরে আমদানি হয়েছে। আরও বেশ কিছু কাচাঁ মরিচ বোঝাই ট্রাক পেট্রাপোল বন্দর থেকে বেনাপোল বন্দরে ঢোকার অপেক্ষায় রয়েছে। এ চালানগুলো ঢুকলে দাম আরও কমে যাবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

আর্কাইভ