খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img
Homeবিশ্ব সংবাদনেপালের হড়পা বানে ভারতসহ ৪ দেশের উদ্ধার সহায়তা, সিদ্ধান্ত বদল সরকারের

নেপালের হড়পা বানে ভারতসহ ৪ দেশের উদ্ধার সহায়তা, সিদ্ধান্ত বদল সরকারের

দেশটি আন্তর্জাতিক সহায়তা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয় বিপর্যয়ের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে । তবে নির্দিষ্ট কিছু বিশেষায়িত কাজে সীমিত পরিসরে বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সহায়তা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। পুরো উদ্ধার অভিযান বিদেশি দলের হাতে তুলে না দেয়ার সিদ্ধান্ত নেপাল সরকারের।

আন্তর্জাতিক ডেক্স: হিমালয়ঘেরা নেপালে হড়পা বান ও বন্যার পর পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠতে শুরু হরেছে। এ হড়পা বানে বহু মানুষের প্রাণহানি এবং নিখোঁজের ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন বেশ কয়েকজন বিদেশি নাগরিক। এ পরিস্থিতিতে শুরুতে অন্যকোন দেশের উদ্ধারকারী দলের সহায়তা না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় নেপাল সরকার।তবে শেষ পর্যন্ত অবস্থান বদল করেছে সে’দেশের সরকার।

দেশটি আন্তর্জাতিক সহায়তা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয় বিপর্যয়ের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে । তবে নির্দিষ্ট কিছু বিশেষায়িত কাজে সীমিত পরিসরে বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সহায়তা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। পুরো উদ্ধার অভিযান বিদেশি দলের হাতে তুলে না দেয়ার সিদ্ধান্ত নেপাল সরকারের।

হড়পা বানের পর বুধবার নেপাল সরকার জানিয়েছিল, দেশটির নিজস্ব উদ্ধারকারী দল তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান পরিচালনার জন্য যথেষ্ট সক্ষম। ফলে আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দলকে নেপালে প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার প্রয়োজন নেই বলে জানানো হয়েছিল।

কিন্তু পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হয়। বিদেশি নাগরিকদের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি সামনে আসার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায় থেকেও সহায়তা গ্রহণের জন্য চাপ তৈরি হয়। এরপরই আগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে কাঠমান্ডু।

নেপালের এক জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যম দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট-কে জানান, বিদেশি নাগরিকদের নিখোঁজ হওয়ার কারণে আন্তর্জাতিক মহল থেকে উদ্ধার তৎপরতায় সহায়তা নেওয়ার বিষয়ে চাপ তৈরি হয়েছিল। সেই প্রেক্ষাপটে নির্দিষ্ট কয়েকটি ক্ষেত্রে সীমিতসংখ্যক বিদেশি বিশেষজ্ঞকে কাজ করার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন :  সুপার এল নিনোর ভয়ঙ্কর প্রভাব! বাংলাদেশে বাড়ছে তাপপ্রবাহ, সামনে কি মহাবিপদ?

নেপাল সরকার জানিয়েছে, সাধারণ তল্লাশি ও উদ্ধার কার্যক্রমে দেশটির নিজস্ব বাহিনীই কাজ করবে। তবে যেসব কাজে বিশেষ প্রযুক্তি ও দক্ষতার প্রয়োজন, সেসব ক্ষেত্রে বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সহায়তা নেওয়া হবে।

বিশেষ করে সুড়ঙ্গ থেকে মানুষ উদ্ধারের মতো জটিল অভিযান, ডিএনএ পরীক্ষা এবং ফরেন্সিক বিশ্লেষণে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানালও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি রয়টার্সকে জানান, চীন সীমান্তবর্তী হিমালয় অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যার পর প্রযুক্তিগত ও বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে নেপালের বিদেশি সহায়তা প্রয়োজন। তবে সাধারণ তল্লাশি ও উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বিদেশি দলের প্রয়োজন নেই বলে তিনি মনে করেন।

নেপালের ন্যাশনাল ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট সেন্টারের একটি কমিটি চারটি দেশ থেকে বিশেষজ্ঞ সহায়তা নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। দেশগুলো হলো ভারত, চীন, অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়া।

এই চার দেশের বিশেষজ্ঞ ও প্রযুক্তিবিদরা মূলত বিশেষায়িত উদ্ধার কার্যক্রমে নেপালকে সহযোগিতা করবেন। সুড়ঙ্গ থেকে উদ্ধার, ডিএনএ শনাক্তকরণ এবং ফরেন্সিক পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে তাদের দক্ষতা কাজে লাগানো হবে।

তবে নেপাল এখনই সব আন্তর্জাতিক সহায়তার প্রস্তাব গ্রহণ করছে না। বিভিন্ন দেশ ত্রাণসামগ্রীর পাশাপাশি উদ্ধার ও চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ পাঠানোর প্রস্তাব দিলেও প্রয়োজন অনুযায়ী বাছাই করে সহযোগিতা গ্রহণ করছে দেশটির সরকার।

আরও পড়ুন :  ফকল্যান্ড যুদ্ধ থেকে বিশ্বকাপ! ইংল্যান্ড-আর্জেন্টিনা দ্বৈরথের নেপথ্যের অজানা ইতিহাস

বন্যা ও হড়পা বানের পর থেকেই নেপালের পাশে দাঁড়িয়েছে ভারত। নয়াদিল্লি বিভিন্ন ধরনের মানবিক সহায়তার পাশাপাশি উদ্ধারকাজে বিশেষজ্ঞ দল পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, নেপালকে সুড়ঙ্গ উদ্ধারকারী দল, মেডিক্যাল টিম এবং জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী বা এনডিআরএফের সদস্য পাঠানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানালের সঙ্গে কথা বলেন। ওই আলোচনায় তিনি নেপালের পরিস্থিতি নিয়ে ভারতের উদ্বেগের কথা জানান এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের সহায়তার প্রস্তাব দেন।

নেপালে জরুরি ত্রাণ সহায়তা অব্যাহত রেখেছে ভারত। ভারতের পক্ষ থেকে ১০ টন ত্রাণসামগ্রী নিয়ে তৃতীয় একটি বিমান কাঠমান্ডুর উদ্দেশে পাঠানো হয়েছে।

এই ত্রাণসামগ্রীর মধ্যে রয়েছে পোর্টেবল জেনারেটর, ডিগনিটি কিট, খাবারের প্যাকেট এবং পানি পরিশোধনের ট্যাবলেট। দুর্যোগের পর ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জরুরি প্রয়োজন মেটাতে এসব সামগ্রী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

এরপর ভারতের চতুর্থ দফার ত্রাণ সহায়তার সঙ্গেও নেপালে একটি বিশেষজ্ঞ দল পাঠানো হয়েছে। ১১ সদস্যের ওই দলে চিকিৎসক, প্যারামেডিক এবং সুড়ঙ্গ উদ্ধার বিশেষজ্ঞরা রয়েছেন।

ভয়াবহ হড়পা বান ও বন্যায় নেপালে হতাহতের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। নেপাল পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত অন্তত ৫৭৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া প্রায় ২ হাজার ৫০০ মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।

আরও পড়ুন :  বিশ্বকাপে বড় বিতর্ক! ফ্রান্স-মরক্কো ম্যাচে সব রেফারি আর্জেন্টিনার, কেন এমন সিদ্ধান্ত?

দুর্যোগের ভয়াবহতায় বিভিন্ন এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে। দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল হওয়ায় অনেক জায়গায় উদ্ধারকাজ পরিচালনাও কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান এবং পরিচয় শনাক্ত করতে বিশেষ প্রযুক্তি ও দক্ষতার প্রয়োজন হচ্ছে।

প্রথমে বিদেশি উদ্ধারকারী দলকে অনুমতি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত এবং মাত্র এক দিনের মধ্যে সীমিত আন্তর্জাতিক সহায়তা গ্রহণের ঘোষণা এই দুই ঘটনার মধ্যে সময়ের ব্যবধান খুবই কম। একই সময়ে বিদেশি নাগরিকদের নিখোঁজ থাকার বিষয়টি সামনে আসায় আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্বেগও তৈরি হয়েছে।

নেপালের সরকারি বক্তব্য অনুযায়ী, প্রযুক্তিগত ও বিশেষায়িত ক্ষেত্রে বিদেশি সহায়তার প্রয়োজনীয়তাই সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের প্রধান কারণ। তবে সরকারি কর্মকর্তার বক্তব্যে আন্তর্জাতিক মহলের চাপের বিষয়টিও উঠে এসেছে।

ফলে নেপালের বর্তমান অবস্থানকে পুরোপুরি বিদেশি সহায়তা প্রত্যাখ্যান কিংবা সম্পূর্ণভাবে গ্রহণ কোনোটিই বলা যাচ্ছে না। বরং দেশটি সাধারণ উদ্ধার অভিযান নিজেদের হাতে রেখে জটিল ও বিশেষায়িত কাজের জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নেওয়ার পথ বেছে নিয়েছে।

তথ্য সূত্র: আজ তাক বাংলা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

আর্কাইভ