খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img

বেনাপোল কাস্টমস হাউসে ৪ হাজার ৭৩১ কোটি টাকা রাজস্ব ঘাটতি

দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর হিসেবে পরিচিত বেনাপোল বন্দর আবারও আলোচনায় এসেছে ব্যাপক রাজস্ব ঘাটতি ও একের পর এক অনিয়মের ঘটনায়। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বেনাপোল কাস্টমস হাউসে...
Homeস্পোটস ওয়ার্ল্ডফুটবলস্কটল্যান্ডকে ৩-০ উড়িয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল

স্কটল্যান্ডকে ৩-০ উড়িয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল

স্কটল্যান্ড কিছু আক্রমণ গড়লেও ব্রাজিলিয়ান গোলরক্ষক আলিসন দুর্দান্ত সেভ করে দলকে ক্লিন শিট উপহার দেন।

মাঠে নামার আগেই উত্তেজনা ছিল তুঙ্গে। আর ম্যাচ শুরুর পর সেই উত্তেজনাকে বাস্তবে রূপ দিল ব্রাজিল। যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে স্কটল্যান্ডকে ৩-০ গোলে বিধ্বস্ত করে গ্রুপ ‘সি’ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে বিশ্বকাপের শেষ ৩২ নিশ্চিত করেছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। পুরো ম্যাচে ব্রাজিলের আধিপত্য, আক্রমণাত্মক ফুটবল এবং ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স যেন নতুন করে সাম্বার ঝড় তুলেছে।

ম্যাচের শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছে রাখে ব্রাজিল। মাত্র ৭ মিনিটেই এগিয়ে যায় তারা। তবে গোলটির পেছনে বড় অবদান ছিল স্কটল্যান্ডের রক্ষণভাগের ভুলে।

নিজেদের অর্ধে বল নিয়ে অতিরিক্ত সময় নেন স্কটল্যান্ড ডিফেন্ডার স্কট ম্যাকেনা। সেই সুযোগে চাপ তৈরি করেন ব্রাজিলের তরুণ ফরোয়ার্ড রায়ান। বলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সেটি চলে যায় ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের সামনে। সুযোগ পেয়ে একদম ঠান্ডা মাথায় গোলরক্ষক অ্যাঙ্গাস গানকে কাটিয়ে বল জালে জড়ান এই ব্রাজিলিয়ান তারকা। এতে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় সেলেসাওরা।

প্রথম গোলের পর আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে ব্রাজিল। ২৪ মিনিটে আবারও বল জালে পাঠান ভিনিসিয়ুস। কিন্তু ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (VAR) পর্যালোচনায় দেখা যায়, গোলের আগের বিল্ডআপে স্কটল্যান্ডের এক খেলোয়াড়ের ওপর ফাউল হয়েছিল। ফলে গোলটি বাতিল হয়ে যায়।

আরও পড়ুন :  মেসিকে ‘ব্যথার নাটকবাজ’ বললেন গওহর খান! মিশরের অভিযোগে নতুন বিতর্ক

তবে তাতে ব্রাজিলের গতি কমেনি। একের পর এক আক্রমণে স্কটিশ রক্ষণকে চাপে রাখে তারা। ৪৫ মিনিটে ভিনিসিয়ুসের নিচু ক্রস থেকে গোলের সুযোগ পেয়েছিলেন মাথেউস কুনহা। কিন্তু স্কটল্যান্ডের ডিফেন্ডাররা সম্মিলিত চেষ্টায় বল ঠেকিয়ে দেন।

প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে আবারও রক্ষণের ভুলে শাস্তি পায় স্কটল্যান্ড। দলীয় আক্রমণ থেকে বল পেয়ে বক্সে দারুণ ক্রস দেন ব্রুনো গুইমারেস। সেখানে কোনো মার্কিং ছাড়াই দাঁড়িয়ে ছিলেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র।

সহজ হেডে নিজের দ্বিতীয় গোল তুলে নেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে চলতি বিশ্বকাপে তার গোলসংখ্যা দাঁড়ায় চারটিতে। প্রথমার্ধ শেষ হয় ব্রাজিলের ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে।

বিরতির পর কিছুটা আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে স্কটল্যান্ড। ৪৯ মিনিটে তারা প্রথমবারের মতো লক্ষ্যে শট নিতে সক্ষম হয়। কিয়েরান টিয়ার্নির দারুণ ক্রসে স্কট ম্যাকটমিনে হেড নিলেও সহজেই তা তালুবন্দি করেন ব্রাজিল গোলরক্ষক আলিসন।

আরও পড়ুন :  আর্জেন্টিনা-সুইজারল্যান্ড: অ্যালিস্টারের গোলে এগিয়ে মেসিরা, তবে স্বস্তিতে নয় বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা

এর দুই মিনিট পরই হ্যাটট্রিকের সুযোগ পেয়েছিলেন ভিনিসিয়ুস। কিন্তু স্কটল্যান্ড গোলকিপার অ্যাঙ্গাস গান অসাধারণ সেভ করে সেই সম্ভাবনা নষ্ট করে দেন।

৬০ মিনিটে আসে ব্রাজিলের তৃতীয় গোল। আর এই গোলটিই ছিল পুরো ম্যাচের অন্যতম সেরা মুহূর্ত। মাঝমাঠ থেকে নিখুঁত লম্বা পাস দেন কাসেমিরো। বল পেয়ে দ্রুত এগিয়ে যান ব্রুনো গুইমারেস।

এরপর ডান পাশে ফাঁকায় থাকা মাথেউস কুনহার দিকে বল বাড়িয়ে দেন তিনি। কুনহা কোনো ভুল না করে সহজেই বল জালে পাঠিয়ে স্কোরলাইন ৩-০ করেন।

এই গোলের পর ম্যাচ কার্যত ব্রাজিলের নিয়ন্ত্রণেই চলে যায়।

এই ম্যাচে শুরুর একাদশে ছিলেন না Neymar। ৭৬ মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নামেন তিনি। দীর্ঘদিন পর মাঠে ফেরায় দর্শকদের মধ্যে বাড়তি উচ্ছ্বাস ছিল। তবে মাঠে নেমে বড় কোনো প্রভাব ফেলতে পারেননি এই তারকা।

আরও পড়ুন :  বিশ্বকাপে ফ্রান্সের দাপট! এমবাপ্পের গোল, ডেম্বেলের দুর্দান্ত ফিনিশে মরক্কোকে হতবাক

শেষ দিকে স্কটল্যান্ড কিছু আক্রমণ গড়লেও ব্রাজিলিয়ান গোলরক্ষক আলিসন দুর্দান্ত সেভ করে দলকে ক্লিন শিট উপহার দেন।

এই জয়ের ফলে গ্রুপ ‘সি’ থেকে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে Brazil national football team এবং Morocco national football team। দুই দলেরই পয়েন্ট সমান ৭ হলেও গোল ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ব্রাজিল।

অন্যদিকে রানার্সআপ হিসেবে শেষ ৩২-এ জায়গা করে নিয়েছে মরক্কো।

এই ম্যাচে সবচেয়ে বড় আলোচনার নাম Vinícius Júnior। তার জোড়া গোল এবং পুরো ম্যাচজুড়ে গতিময় পারফরম্যান্স প্রমাণ করেছে, তিনি এখন ব্রাজিল আক্রমণের সবচেয়ে বড় ভরসা।

বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব সামনে রেখে এই জয় শুধু তিন পয়েন্ট নয়, ব্রাজিলের আত্মবিশ্বাসও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, সাম্বার এই ছন্দ তারা শেষ পর্যন্ত ধরে রাখতে পারে কি না।