খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img

রোনালদোর ক্ষোভে মাঠ ছাড়া! ইংল্যান্ডের গোলবন্যা, ঘানার নাটকীয় জয়

বিশ্বকাপের শুরুতেই ফুটবলপ্রেমীদের জন্য এসেছে রোমাঞ্চ, নাটকীয়তা আর চমক। একদিকে ইংল্যান্ড তাদের প্রথম ম্যাচেই শক্তিশালী ক্রোয়েশিয়াকে ৪-২ গোলে হারিয়ে দারুণ বার্তা দিয়েছে। অন্যদিকে ঘানা...
Homeজাতীয়রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও বাণিজ্য থামানো নয়, বার্তা ভারতীয় হাইকমিশনারের

রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও বাণিজ্য থামানো নয়, বার্তা ভারতীয় হাইকমিশনারের

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। দুই দেশের ভৌগোলিক অবস্থান, পারস্পরিক বাজার এবং যোগাযোগব্যবস্থার কারণে অর্থনৈতিক সহযোগিতার আরও বড় সুযোগ রয়েছে বলে মনে করেন ভারতীয় হাইকমিশনার।

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে রাজনৈতিক নানা ইস্যু ও মতপার্থক্য থাকলেও দুই দেশের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক যেন কোনোভাবেই বাধাগ্রস্ত না হয়—এমন বার্তা দিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। তিনি মনে করেন, দুই দেশের সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য পারস্পরিক বাণিজ্যিক সহযোগিতা আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

সোমবার (২৪ আগস্ট) সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন দীনেশ ত্রিবেদী। সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিভিন্ন দিক নিয়ে কথা বলেন।

দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের দুটি গুরুত্বপূর্ণ দিক রয়েছে—রাজনৈতিক সম্পর্ক এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক মতপার্থক্য বা বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আলোচনা থাকতেই পারে। তবে এসব কারণে যেন ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা থেমে না যায়, সেদিকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

তার মতে, সাধারণ মানুষের কাছে রাজনৈতিক আলোচনা যতটা গুরুত্বপূর্ণ, তার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ তাদের দৈনন্দিন জীবন ও ভবিষ্যৎ। মানুষ ভালো চাকরি, উন্নত শিক্ষা, মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা, ভালো যোগাযোগব্যবস্থা এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ চায়। এসব প্রয়োজন পূরণে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ানোর পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগও সম্প্রসারণ করতে হবে।

দীনেশ ত্রিবেদীর বক্তব্যের মূল বার্তা হলো—রাজনীতি তার নিজস্ব গতিতে চলতে পারে, কিন্তু দুই দেশের মানুষের অর্থনৈতিক স্বার্থে বাণিজ্যিক সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়া উচিত।

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। দুই দেশের ভৌগোলিক অবস্থান, পারস্পরিক বাজার এবং যোগাযোগব্যবস্থার কারণে অর্থনৈতিক সহযোগিতার আরও বড় সুযোগ রয়েছে বলে মনে করেন ভারতীয় হাইকমিশনার।

তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে ব্যবসায়িক সম্পর্ক যত বাড়বে, তত বেশি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে উৎপাদন বাড়ানো, নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং দুই দেশের বাজারে পণ্য প্রবেশের সুযোগও বাড়তে পারে।

দীনেশ ত্রিবেদীর মতে, সাধারণ মানুষের উন্নয়নের সঙ্গে সরাসরি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সম্পর্ক রয়েছে। তাই রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও মানুষের জীবনযাত্রার উন্নতির জন্য অর্থনৈতিক সহযোগিতার জায়গাগুলো খোলা রাখা জরুরি।

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে দীর্ঘমেয়াদে আরও কার্যকর ও স্থিতিশীল করতে ‘পারস্পরিক নির্ভরতা’ বা ইন্টারডিপেন্ডেন্সের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন দীনেশ ত্রিবেদী।

তিনি মনে করেন, উন্নয়নের প্রয়োজনেই এক দেশ অন্য দেশের ওপর নির্ভর করবে। শুধু বাংলাদেশ ভারতের ওপর নির্ভরশীল থাকবে এমন নয়, ভারতও বাংলাদেশের সঙ্গে বিভিন্ন ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতার প্রয়োজন অনুভব করবে।

এই পারস্পরিক নির্ভরতা দুই দেশের অর্থনীতিকে আরও কাছাকাছি নিয়ে আসতে পারে। পাশাপাশি দুই দেশের জনগণের মধ্যেও সম্পর্ক আরও গভীর হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। দীর্ঘমেয়াদে এমন সহযোগিতা দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে পারে।

তবে এই পারস্পরিক নির্ভরতার ক্ষেত্রে সমতার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।

দীনেশ ত্রিবেদী স্পষ্টভাবে বলেন, বাংলাদেশ ও ভারত দুটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র। কোনো দেশই অন্য দেশের তুলনায় বড় বা ছোট নয়। দুই দেশের সম্পর্কের ভিত্তি হতে হবে সমতা, পারস্পরিক সম্মান ও সহযোগিতা।

তার বক্তব্য অনুযায়ী, একটি দেশের সঙ্গে অন্য দেশের সম্পর্ক তখনই টেকসই হয়, যখন সেখানে উভয় পক্ষের স্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। তাই বাংলাদেশ ও ভারতের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক এগিয়ে নিতে দুই দেশের সমান অংশগ্রহণ এবং পারস্পরিক লাভের বিষয়টি বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।

বাংলাদেশ ও ভারতের তরুণ জনগোষ্ঠীর সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেছেন ভারতীয় হাইকমিশনার। তার মতে, দুই দেশের তরুণদের মধ্যে মেধা, দক্ষতা ও উচ্চাকাঙ্ক্ষার অভাব নেই। তাদের জন্য সঠিক সুযোগ তৈরি করা গেলে তারা দুই দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তরুণদের জন্য উন্নত শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরি করা এখন অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। একই সঙ্গে তাদের উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ এবং নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সহায়তা প্রয়োজন।

দীনেশ ত্রিবেদীর মতে, নীতিনির্ধারণের সময় তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া দরকার। কারণ আজকের তরুণরাই আগামী দিনের বাংলাদেশ ও ভারতের অর্থনীতি পরিচালনা করবে।

অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির সঙ্গে শান্তি ও স্থিতিশীলতার সম্পর্কও তুলে ধরেছেন দীনেশ ত্রিবেদী। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ মূলত শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ জীবন চায়। শান্তিপূর্ণ পরিবেশ থাকলে ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়ে, বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হয় এবং কর্মসংস্থানও বৃদ্ধি পায়।

বাংলাদেশ ও ভারত—দুই দেশেই তরুণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। তাদের জন্য একটি স্থিতিশীল অর্থনৈতিক পরিবেশ তৈরি করা গেলে ভবিষ্যতে দুই দেশের উন্নয়নের গতি আরও বাড়ানো সম্ভব।

এ কারণে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক মতপার্থক্যের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক চাহিদাকেও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্যিক সহযোগিতার সম্ভাব্য ক্ষেত্র হিসেবে পোশাক খাতের কথাও উল্লেখ করেছেন ভারতীয় হাইকমিশনার। এই খাতে দুই দেশের নিজস্ব সক্ষমতা ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে যৌথভাবে উৎপাদন বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত আন্তর্জাতিক বাজারে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেছে। অন্যদিকে ভারতের রয়েছে বড় অভ্যন্তরীণ বাজার, কাঁচামাল, প্রযুক্তি ও বিভিন্ন শিল্পভিত্তিক সক্ষমতা। দুই দেশের শক্তিকে একসঙ্গে কাজে লাগাতে পারলে পোশাকসহ সংশ্লিষ্ট শিল্পে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

এ ধরনের যৌথ উদ্যোগ শুধু বাণিজ্য বাড়াবে না, বরং নতুন কর্মসংস্থান এবং বিনিয়োগের সুযোগও তৈরি করতে পারে।

দীনেশ ত্রিবেদীর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, বাংলাদেশ ও ভারতের রাজনৈতিক সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা চললেও অর্থনৈতিক সহযোগিতা থামিয়ে রাখা উচিত নয়। তার মতে, দুই দেশের সাধারণ মানুষের উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ সমৃদ্ধির জন্য ব্যবসা-বাণিজ্যের পথ আরও প্রশস্ত করা দরকার।

রাজনৈতিক ইস্যু নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা বা মতপার্থক্য থাকতেই পারে। কিন্তু অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ ও বাণিজ্যের মতো ক্ষেত্রগুলোতে সহযোগিতা অব্যাহত রাখলে উভয় দেশই লাভবান হতে পারে।

সব মিলিয়ে, ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর বক্তব্যে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, পারস্পরিক নির্ভরতা, সমতা এবং তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে। রাজনৈতিক সম্পর্ক তার নিজস্ব পথে এগোলেও দুই দেশের মানুষের অর্থনৈতিক স্বার্থে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার ওপরই জোর দিয়েছেন তিনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

আর্কাইভ