খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img

বিদ্যুত চুক্তি বাতিল হচ্ছেনা,দাম কমাতে চলছে আলোচনা: জ্বালানিমন্ত্রী

বিগত সরকারের সময় বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি এখনই বাতিল করার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছে সরকার। কারণ এসব চুক্তির সঙ্গে যুক্ত রয়েছে...
Homeদেশজুড়েনওগাঁয় বাবা-মায়ের রহস্যজনক মৃত্যু: অভিযোগ ছেলের বিরুদ্ধে

নওগাঁয় বাবা-মায়ের রহস্যজনক মৃত্যু: অভিযোগ ছেলের বিরুদ্ধে

আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের জন্য নওগাঁ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পর পুরো এলাকায় উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়ে।

নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলায় এক হৃদয়বিদারক ঘটনার পর এলাকায় শোক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার সফাপুর ইউনিয়নের পাহাড়পুর গ্রামে নিজ বাড়ি থেকে এক দম্পতির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বিষাক্ত কোনো পদার্থ সেবনের কারণে তাদের মৃত্যু হয়েছে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্তের পাশাপাশি ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের অপেক্ষায় রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

সোমবার (১৩ জুলাই) সকালে মহাদেবপুর উপজেলার সফাপুর ইউনিয়নের পাহাড়পুর গ্রামে নিজ বাড়ি থেকে লোকমান মন্ডল (৫৫) ও তার স্ত্রী দেলোয়ারা বেগমের (৪৫) মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানায়, খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের জন্য নওগাঁ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পর পুরো এলাকায় উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, রোববার রাতে পরিবারের অন্য দিনের মতোই রাতের খাবার খেয়ে ঘুমাতে যান লোকমান মন্ডল ও দেলোয়ারা বেগম। সবকিছুই স্বাভাবিক ছিল।

ভোর প্রায় ৪টার দিকে তাদের ছেলে মুক্তার হোসেন প্রতিবেশীদের ডাকাডাকি করেন। পরে প্রতিবেশীরা ঘরে গিয়ে খাটের ওপর স্বামী-স্ত্রীর নিথর দেহ দেখতে পান। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসে পুলিশ।

ঘটনার আকস্মিকতায় হতবাক হয়ে পড়েন এলাকাবাসী। অনেকেই এমন মর্মান্তিক ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।

এলাকাবাসীর দাবি, নিহত দম্পতির ছেলে মুক্তার হোসেন দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত এবং মোবাইলে অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত বলে পরিচিত। তাদের অভিযোগ, প্রায়ই নেশা ও জুয়ার জন্য বাবা-মায়ের কাছে টাকা চাইতেন তিনি।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, সম্প্রতি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানানোকে কেন্দ্র করে পরিবারে বিরোধের সৃষ্টি হয়। সেই বিরোধ থেকেই ক্ষোভের বশে বিষাক্ত কোনো পদার্থ খাইয়ে বাবা-মাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে তারা সন্দেহ প্রকাশ করছেন।

তবে এসব অভিযোগ এখনো তদন্তাধীন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছে। অভিযোগের সত্যতা তদন্ত শেষ হওয়ার আগে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।

মহাদেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর ফারুক জানান, সংবাদ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বিষাক্ত কোনো খাবার বা পদার্থ গ্রহণের ফলে তাদের মৃত্যু হতে পারে। তবে এটি কেবল প্রাথমিক পর্যায়ের ধারণা। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

ওসি আরও জানান, ঘটনার সব দিক গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য, স্থানীয়দের তথ্য এবং ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া আলামত বিশ্লেষণ করে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ধরনের ঘটনায় ময়নাতদন্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের প্রতিবেদনের মাধ্যমে মৃত্যুর কারণ, বিষক্রিয়ার ধরন কিংবা অন্য কোনো আলামত সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব।

পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের ফলাফল পাওয়ার পর তদন্ত আরও এগিয়ে নেওয়া হবে। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং অন্যান্য বৈজ্ঞানিক পরীক্ষাও করা হবে।

লোকমান মন্ডল ও দেলোয়ারা বেগম স্থানীয়ভাবে পরিচিত ছিলেন। তাদের আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন এবং প্রতিবেশীদের মধ্যে গভীর শোক নেমে এসেছে।

গ্রামবাসীরা বলছেন, এমন নির্মম ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে প্রকৃত অপরাধীকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মাদকাসক্তি ও অনলাইন জুয়ার বিস্তার অনেক পরিবারে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে। অর্থের চাহিদা, পারিবারিক বিরোধ এবং মানসিক অস্থিরতা থেকে অনেক সময় ভয়াবহ অপরাধ সংঘটিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।

তবে কোনো নির্দিষ্ট ঘটনার ক্ষেত্রে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কাউকে দায়ী করা উচিত নয়। আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তথ্য-প্রমাণ যাচাই করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো প্রয়োজন।

নওগাঁর মহাদেবপুরের এই মর্মান্তিক ঘটনাকে ঘিরে নানা আলোচনা ও অভিযোগ সামনে এলেও এখনো মৃত্যুর প্রকৃত কারণ আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি। পুলিশ প্রাথমিকভাবে বিষক্রিয়ার সম্ভাবনার কথা জানালেও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনই এ ঘটনার মূল রহস্য উন্মোচতি হবে।

আর্কাইভ