খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img

মাত্র ৪০°C-তেই ইউরোপে মৃত্যুমিছিল! ৫০°C সহ্য করেও ভারত কেন টিকে থাকে?

সাম্প্রতিক সময়ে ইউরোপজুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহ নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। ফ্রান্স, স্পেন, ইতালি, পর্তুগালসহ একাধিক দেশে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি পৌঁছাতেই সাধারণ মানুষের...
Homeস্পোটস ওয়ার্ল্ডফিফা বিশ্বকাপ স্পেশাল১৮ গোলে বিশ্বকাপের নতুন রাজা! মেসির রেকর্ড ভাঙা ম্যাচে কাঁপল ফুটবল বিশ্ব

১৮ গোলে বিশ্বকাপের নতুন রাজা! মেসির রেকর্ড ভাঙা ম্যাচে কাঁপল ফুটবল বিশ্ব

রিবাউন্ড বল ফিরে পেয়ে গোলরক্ষককে কাটিয়ে শট নেন মেসি। প্রথম শটটি ডিফেন্ডার ব্লক করলেও আবার বল ফিরে আসে তার কাছেই। এবার আর ভুল করেননি। ঠান্ডা মাথায় জালে বল জড়িয়ে আর্জেন্টিনার ২-০ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করেন।

বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে আরেকটি অবিস্মরণীয় অধ্যায় লিখলেন লিওনেল মেসি। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে দারুণ পারফরম্যান্স দেখিয়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড নিজের করে নিলেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক। ম্যাচে একটি পেনাল্টি মিস করলেও পরে দুর্দান্ত কার্লিং শটে গোল করে রেকর্ড গড়েন তিনি। এরপর যোগ করা সময়ে আরও একটি গোল করে দলকে ২-০ ব্যবধানে জয় এনে দেন।

ম্যাচের আগে বিশ্বকাপে ১৬ গোল নিয়ে জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসের সঙ্গে যৌথভাবে শীর্ষে ছিলেন মেসি। আলজেরিয়ার বিপক্ষে উদ্বোধনী ম্যাচে হ্যাটট্রিক করার পরই তিনি ক্লোসের রেকর্ড স্পর্শ করেছিলেন। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে সেই রেকর্ড ভেঙে এককভাবে ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়ে ওঠেন ৩৮ বছর বয়সী এই সুপারস্টার।

বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে ধারাবাহিকভাবে নিজের সেরাটা উপহার দিয়ে মেসি আবারও প্রমাণ করলেন কেন তাকে সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার বলা হয়।

ম্যাচের নবম মিনিটেই ইতিহাস গড়ার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিলেন মেসি। আর্জেন্টিনা একটি পেনাল্টি পেলে স্পটকিক নিতে এগিয়ে আসেন তিনি। তবে সবাইকে অবাক করে বলটি পোস্টের বাইরে পাঠিয়ে দেন।

এই ব্যর্থতা অবশ্য তার আত্মবিশ্বাসে কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি। বরং কিছুক্ষণ পরই দলীয় এক অসাধারণ আক্রমণ থেকে গোল করে ভুলের জবাব দেন মেসি।

আর্জেন্টিনার আক্রমণে ফাকুন্দো মেদিনার ক্রস বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে ছেড়ে দেন থিয়াগো আলমাদা। সেই বল পেনাল্টি বক্সের প্রান্তে পেয়ে বাঁ পায়ের নিখুঁত কার্লিং শটে জালে পাঠান মেসি।

এই গোলের মাধ্যমে তিনি বিশ্বকাপ ইতিহাসে এককভাবে সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে বসেন। গোলটি ছিল তার স্বাক্ষরধর্মী ফিনিশিংয়ের আরেকটি অনন্য উদাহরণ।

শুধু সর্বোচ্চ গোলদাতাই নন, মেসি আরও একটি অনন্য রেকর্ড গড়েছেন। তিনি এখন বিশ্বকাপে টানা ছয়টি ম্যাচে গোল করা মাত্র তৃতীয় ফুটবলার।

এর আগে এই কীর্তি গড়েছিলেন ফ্রান্সের জাস্ট ফন্টেইন এবং ব্রাজিলের জাইরজিনহো। যথাক্রমে ১৯৫৮ ও ১৯৭০ সালের বিশ্বকাপে তারা এই নজির স্থাপন করেছিলেন।

এত বছর পর সেই এলিট তালিকায় নিজের নাম যুক্ত করলেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।

ম্যাচের শেষদিকে আবারও আলো ছড়ান মেসি। প্রথমে জুলিয়ান আলভারেজকে দিয়ে গোল করানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু অস্ট্রিয়ার গোলরক্ষক সেই প্রচেষ্টা ঠেকিয়ে দেন।

রিবাউন্ড বল ফিরে পেয়ে গোলরক্ষককে কাটিয়ে শট নেন মেসি। প্রথম শটটি ডিফেন্ডার ব্লক করলেও আবার বল ফিরে আসে তার কাছেই। এবার আর ভুল করেননি। ঠান্ডা মাথায় জালে বল জড়িয়ে আর্জেন্টিনার ২-০ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করেন।

যোগ করা সময়ের শেষ মুহূর্তে ফ্রি-কিক থেকে হ্যাটট্রিক করার সুযোগ পেয়েছিলেন মেসি। তবে তার নেওয়া শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ায় টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ ম্যাচে হ্যাটট্রিক করা সম্ভব হয়নি।

তবুও জোড়া গোল করে ম্যাচসেরা পারফরম্যান্স উপহার দেন তিনি।

এই জোড়া গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপে মেসির গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ১৮। আর এই মাইলফলকে পৌঁছাতে তিনি খেলেছেন ২৮টি ম্যাচ।

দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের মাধ্যমে বিশ্বকাপ ইতিহাসে নিজের অবস্থান আরও শক্তিশালী করলেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।

বিশ্বকাপের প্রথম দুই ম্যাচেই পাঁচ গোল করেছেন মেসি। ফলে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে তিনিই এখন সবার আগে।

অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জয়ের ফলে নকআউট পর্বে আর্জেন্টিনার জায়গাও নিশ্চিত হয়েছে। ফলে সামনে আরও ম্যাচে নিজের গোলসংখ্যা বাড়ানোর সুযোগ থাকছে তার সামনে।

মেসির রেকর্ড গড়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই জবাব দেন ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে। ইরাকের বিপক্ষে ৩-০ জয়ে দুটি গোল করেন ফরাসি তারকা।

বর্তমানে বিশ্বকাপে এমবাপ্পের গোলসংখ্যা ১৬। অর্থাৎ মেসির থেকে মাত্র চার গোল পিছিয়ে রয়েছেন তিনি। তাই আসন্ন ম্যাচগুলোতে এই দুই তারকার মধ্যে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার লড়াই আরও জমে উঠতে পারে।

ম্যাচ শেষে সতীর্থরা উচ্ছ্বাসের সঙ্গে মেসিকে অভিনন্দন জানান। বিশ্ব ফুটবলের এই ঐতিহাসিক অর্জন উদযাপনে অংশ নেন ফুটবল অঙ্গনের পরিচিত অনেক ব্যক্তিত্বও।

সবার চোখে ছিল একটাই বিষয়—৩৮ বছর বয়সেও মেসির ক্ষুধা, নেতৃত্ব এবং ম্যাচ জেতানোর ক্ষমতা একটুও কমেনি।

ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, মেসির খেলার বুদ্ধিমত্তা এখনও অসাধারণ। মাঠে কোথায় অবস্থান নিতে হবে, কখন দৌড় দিতে হবে এবং কীভাবে প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভাঙতে হবে—এসব ক্ষেত্রে তিনি এখনও অনন্য।

আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়রাও তাকে ঘিরেই নিজেদের পরিকল্পনা সাজাচ্ছেন। দলের সবাই জানেন, মেসির উপস্থিতি যেকোনো মুহূর্তে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।

অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল করে লিওনেল মেসি শুধু একটি ম্যাচ জেতাননি, বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসেও নিজের নাম আরও উজ্জ্বলভাবে লিখেছেন। সর্বকালের সর্বোচ্চ বিশ্বকাপ গোলদাতা হওয়ার পাশাপাশি টানা ছয় বিশ্বকাপ ম্যাচে গোল করার বিরল কীর্তিও গড়েছেন তিনি।

বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার অভিযান যত এগোচ্ছে, ততই নতুন নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করছেন মেসি। এখন ফুটবলপ্রেমীদের অপেক্ষা—এই কিংবদন্তি কি আরও নতুন রেকর্ড যোগ করবেন, নাকি তার পেছনে ধাওয়া করা তরুণ তারকারা সেই ব্যবধান কমিয়ে আনবেন।