খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img
Homeট্রেন্ডিং নিউজহোয়াটসঅ্যাপের নতুন ইউজারনেম ফিচার: গোপনীয়তা বাড়বে নাকি সাইবার জালিয়াতির ঝুঁকি?

হোয়াটসঅ্যাপের নতুন ইউজারনেম ফিচার: গোপনীয়তা বাড়বে নাকি সাইবার জালিয়াতির ঝুঁকি?

ভাবুন, কেউ যদি ভুয়া পরিচয়ে আপনার সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং প্রতারণা করার চেষ্টা করে—তাহলে তাকে শনাক্ত করা অনেক কঠিন হয়ে যাবে। ঠিক এই জায়গাটিই সবচেয়ে বেশি চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বর্তমান সময়ে আমাদের দৈনন্দিন জীবনের বড় একটি অংশ জুড়ে আছে হোয়াটসঅ্যাপ। ব্যক্তিগত আলাপ থেকে শুরু করে অফিসের গুরুত্বপূর্ণ কাজ—সবকিছুই এখন এই অ্যাপের মাধ্যমেই সহজে সম্পন্ন হয়। ঠিক এই জায়গাতেই বড় পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে মেটা। নতুন একটি ফিচারের মাধ্যমে এবার ব্যবহারকারীরা নিজেদের ফোন নম্বর গোপন রেখেই চ্যাট করতে পারবেন। শুনতে বেশ সুবিধাজনক মনে হলেও, এই পরিবর্তনকে ঘিরেই তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন এবং উদ্বেগ।

নতুন এই ফিচারের মূল বিষয়টি খুবই সহজ। এখন পর্যন্ত হোয়াটসঅ্যাপে কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে গেলে অবশ্যই তার ফোন নম্বর প্রয়োজন হতো। কিন্তু ইউজারনেম চালু হলে ব্যবহারকারীরা নিজেদের একটি আলাদা নাম বা আইডি তৈরি করতে পারবেন। সেই নাম দিয়েই অন্যরা তাদের খুঁজে পাবে এবং যোগাযোগ করতে পারবে।

ধরুন, আপনি কোনো অনলাইন ব্যবসা চালান বা নতুন কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে চান, কিন্তু নিজের ফোন নম্বর শেয়ার করতে স্বচ্ছন্দ নন। এই পরিস্থিতিতে ইউজারনেম ফিচার আপনাকে বাড়তি নিরাপত্তা ও সুবিধা দেবে। ফলে ব্যক্তিগত নম্বর গোপন রেখেও আপনি সহজেই যোগাযোগ চালিয়ে যেতে পারবেন।

এই সুবিধার পাশাপাশি বড় একটি আশঙ্কাও সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ফোন নম্বর গোপন রাখার সুযোগ পেলে সাইবার অপরাধীরা আরও সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে। কারণ এখন অনেক ক্ষেত্রেই প্রতারণা শনাক্ত করা সম্ভব হয় ফোন নম্বরের মাধ্যমে। কিন্তু নম্বর গোপন থাকলে সেই প্রক্রিয়া কঠিন হয়ে যেতে পারে।

আরও পড়ুন :  মশা দিয়েই মশার বিরুদ্ধে যুদ্ধ: রোগবাহী মশা কমাতে নতুন প্রযুক্তির চমক

এই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছে কেন্দ্র। ইতিমধ্যেই মেটাকে নোটিস পাঠানো হয়েছে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই এই ফিচার সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। মূলত দুটি বিষয় নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে—

প্রথমত, ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য কতটা নিরাপদ থাকবে
দ্বিতীয়ত, এই ফিচারকে ব্যবহার করে প্রতারণার ঘটনা বাড়বে কিনা

এই প্রশ্নটা এখন সবচেয়ে বড়। একদিকে ব্যবহারকারীরা চাইছেন তাদের ব্যক্তিগত তথ্য, বিশেষ করে ফোন নম্বর, সুরক্ষিত থাকুক। অন্যদিকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলো চাইছে যেন অপরাধ দমনে কোনো সমস্যা না হয়।

ভাবুন, কেউ যদি ভুয়া পরিচয়ে আপনার সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং প্রতারণা করার চেষ্টা করে—তাহলে তাকে শনাক্ত করা অনেক কঠিন হয়ে যাবে। ঠিক এই জায়গাটিই সবচেয়ে বেশি চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মেটার দাবি, এই নতুন ফিচারের মূল লক্ষ্য ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তা আরও শক্তিশালী করা। গত কয়েক বছরে কোম্পানিটি ধারাবাহিকভাবে এমন অনেক ফিচার এনেছে, যেগুলো ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য রক্ষা করতে সাহায্য করে।

আরও পড়ুন :  জিম লিপ্‌স ট্রেন্ডে মাত নেটদুনিয়া! মাত্র ২ মিনিটে পাবেন আকর্ষণীয় ঠোঁটের লুক

যেমন—এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন, ভিউ-ওয়ান্স মেসেজ, চ্যাট লক ইত্যাদি। ইউজারনেম ফিচারও সেই ধারাবাহিকতারই অংশ। সংস্থার মতে, ব্যবহারকারীরা নিজেরাই ঠিক করবেন তারা এই ফিচার ব্যবহার করবেন কিনা। অর্থাৎ এটি সম্পূর্ণ ঐচ্ছিক।

এই নতুন ফিচার একসঙ্গে সবার জন্য চালু করা হবে না। আগামী কয়েক মাসে ধাপে ধাপে এটি চালু করা হবে। এতে করে সংস্থা ব্যবহারকারীদের প্রতিক্রিয়া বুঝতে পারবে এবং প্রয়োজনে পরিবর্তন আনতে পারবে।

এই পদ্ধতিটি সাধারণত বড় প্রযুক্তি সংস্থাগুলো ব্যবহার করে থাকে, যাতে কোনো সমস্যা হলে দ্রুত সমাধান করা যায়।

এই ফিচার চালু হলে কিছু বড় সুবিধা পাওয়া যাবে—

ব্যক্তিগত নম্বর গোপন রাখা যাবে
অপরিচিতদের সঙ্গে যোগাযোগ আরও নিরাপদ হবে
অনলাইন ব্যবসা বা সার্ভিস দেওয়া সহজ হবে
অপ্রয়োজনীয় কল বা মেসেজ কমে যাবে

বিশেষ করে যারা ফ্রিল্যান্সিং বা অনলাইন সেবা দেন, তাদের জন্য এটি বেশ উপকারী হতে পারে।

সুবিধার পাশাপাশি ঝুঁকিও রয়েছে, তাই ব্যবহারকারীদের সচেতন থাকা জরুরি। কিছু বিষয় মাথায় রাখলে অনেকটাই নিরাপদ থাকা সম্ভব—

আরও পড়ুন :  বাইক বা স্কুটি চালান? সঠিক হেলমেট বেছে জীবন বাঁচান, কোন ধরনের হেলমেট সবচেয়ে নিরাপদ জানুন

অপরিচিত ইউজারনেম থেকে আসা মেসেজে দ্রুত বিশ্বাস করবেন না
কোনো ব্যক্তিগত তথ্য বা OTP শেয়ার করবেন না
সন্দেহজনক লিংকে ক্লিক করা এড়িয়ে চলুন
প্রয়োজনে ব্লক ও রিপোর্ট অপশন ব্যবহার করুন

একটু সচেতন থাকলেই অনেক বড় সমস্যা এড়ানো সম্ভব।

এই পরিবর্তন থেকে একটা বিষয় পরিষ্কার—হোয়াটসঅ্যাপ ধীরে ধীরে একটি সোশ্যাল আইডেন্টিটি প্ল্যাটফর্মে পরিণত হচ্ছে। যেখানে শুধু ফোন নম্বর নয়, বরং একটি আলাদা ডিজিটাল পরিচয় তৈরি করা সম্ভব হবে।

এটি একদিকে যেমন ব্যবহারকারীদের স্বাধীনতা বাড়াবে, অন্যদিকে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন চ্যালেঞ্জও তৈরি করবে।

হোয়াটসঅ্যাপের ইউজারনেম ফিচার নিঃসন্দেহে একটি বড় পরিবর্তন। এটি ব্যবহারকারীদের জন্য নতুন সুবিধা নিয়ে আসছে, তবে সেই সঙ্গে বাড়াচ্ছে কিছু বাস্তব ঝুঁকিও। এখন দেখার বিষয়, মেটা কীভাবে এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখে।

এক কথায় বলা যায়, প্রযুক্তি যত এগোচ্ছে, আমাদেরও ততটাই সচেতন হতে হবে। কারণ শেষ পর্যন্ত নিজের নিরাপত্তা অনেকটাই নিজের হাতেই।


Discover more from News Bangla24x7

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Table of contents [hide]

আর্কাইভ