খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img
Homeস্পোটস ওয়ার্ল্ডফিফা বিশ্বকাপ স্পেশালহ্যারি কেইনের জোড়া গোলে ইংল্যান্ডের জয়: পাব-বারে উল্লাসে ফেটে পড়লেন সমর্থকরা

হ্যারি কেইনের জোড়া গোলে ইংল্যান্ডের জয়: পাব-বারে উল্লাসে ফেটে পড়লেন সমর্থকরা

কিন্তু এখানেই শেষ নয়। কিছুক্ষণ পর আবারও গোল করেন কেইন। তার দ্বিতীয় গোলের পর যেন পুরো দেশ উৎসবে মেতে ওঠে। চারদিকে শুধু গান, স্লোগান আর আনন্দের বিস্ফোরণ।

ইংল্যান্ডের এই ম্যাচটা যেন একেবারে সিনেমার গল্প। শুরুতে হতাশা, মাঝখানে টানটান উত্তেজনা, আর শেষে উল্লাসে ভাসা—সবকিছুই ছিল এক ম্যাচে। ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে ২-১ গোলের এই জয় শুধু তিন পয়েন্ট নয়, বরং লাখো সমর্থকের আবেগের বিস্ফোরণ।

ম্যাচের শুরুটা ইংল্যান্ডের জন্য মোটেও ভালো ছিল না। খেলা শুরু হওয়ার মাত্র সাত মিনিটের মাথায় ব্রায়ান সিপেঙ্গা গোল করে বসেন। হঠাৎ করেই যেন পুরো স্টেডিয়াম নিস্তব্ধ হয়ে যায়। ইংল্যান্ডের সমর্থকরা তখন পাব, বার আর ফ্যান জোনে বসে মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়েন।

এই গোলটা যেন সবাইকে মনে করিয়ে দিল—এই ম্যাচ সহজ হবে না। কঙ্গোও যে লড়াই করতে এসেছে, সেটা তারা প্রথম থেকেই বুঝিয়ে দেয়।

প্রথমার্ধে ইংল্যান্ডের খেলাটা ছিল বেশ নিরুত্তাপ। আক্রমণে ধার ছিল না, মাঝমাঠে ছন্দ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। সমর্থকদের চোখেমুখে তখন শুধু হতাশা। অনেকেই নিজের মুখ ঢেকে রাখছিলেন ইংল্যান্ডের পতাকা দিয়ে—যেন এই দৃশ্যটা দেখতে না হয়!

তার ওপর আবার কঙ্গো দ্বিতীয় গোলের খুব কাছাকাছি চলে গিয়েছিল। ইয়োয়ানে উইসা এক দারুণ সুযোগ পেয়েছিলেন, কিন্তু তার শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। সেই মুহূর্তে ইংল্যান্ডের ভাগ্য যেন তাদের পাশে দাঁড়ায়।

প্রথমার্ধের শেষ দিকে কিছুটা আশা জাগে। হ্যারি কেইন বক্সের ভেতরে পড়ে গেলে সবাই পেনাল্টির আশা করেছিল। কিন্তু VAR চেকের পর রেফারি কোনো ফাউল দেখেননি। সমর্থকদের মধ্যে তখন হতাশা আর ক্ষোভ—দুটোই ছিল স্পষ্ট।

দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নামে এক অন্যরকম ইংল্যান্ড। কোচের কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন খেলার গতিই বদলে দেয়। খেলোয়াড়দের মধ্যে নতুন উদ্যম দেখা যায়, আক্রমণ আরও ধারালো হয়ে ওঠে।

আর ঠিক তখনই শুরু হয় হ্যারি কেইনের ম্যাজিক।

দ্বিতীয়ার্ধের মাঝামাঝি সময়ে এক দারুণ হেডারে সমতা ফেরান হ্যারি কেইন। সেই গোলটা যেন পুরো ইংল্যান্ডকে নতুন করে বাঁচিয়ে তোলে। পাব আর বারে তখন উল্লাস শুরু হয়ে যায়—বিয়ার উড়ে যায়, সবাই চিৎকার করে ওঠে।

কিন্তু এখানেই শেষ নয়। কিছুক্ষণ পর আবারও গোল করেন কেইন। তার দ্বিতীয় গোলের পর যেন পুরো দেশ উৎসবে মেতে ওঠে। চারদিকে শুধু গান, স্লোগান আর আনন্দের বিস্ফোরণ।

এই দুই গোলেই ম্যাচ ঘুরে যায় পুরোপুরি। কেইন আবারও প্রমাণ করেন—বড় ম্যাচে তিনিই ইংল্যান্ডের ভরসা।

লন্ডন, লিডস, নিউক্যাসল, ব্ল্যাকপুল—সব জায়গার পাব আর ফ্যান জোনে ছিল একই চিত্র। সবাই কাজ ফেলে, অফিস থেকে আগে বেরিয়ে বা শিফট শেষে দৌড়ে এসেছে খেলা দেখতে।

২৬ ডিগ্রি গরমেও হাজার হাজার মানুষ জড়ো হয়েছিল শুধু এই ম্যাচের জন্য। কেউ দেরিতে এসে কাছের স্ক্রিনে দাঁড়িয়ে চিৎকার করছে, কেউ আবার বন্ধুবান্ধব নিয়ে উল্লাসে মেতেছে।

এই জয় যেন শুধু মাঠেই হয়নি—জিতেছে পুরো ইংল্যান্ড।

ইংল্যান্ড এই ম্যাচে নামার আগে দুর্দান্ত ফর্মে ছিল। তারা গ্রুপে অপরাজিত থেকে শেষ ১৬-তে ওঠে। ক্রোয়েশিয়া আর পানামার বিরুদ্ধে জয়, আর ঘানার সঙ্গে ড্র—সব মিলিয়ে আত্মবিশ্বাস ছিল তুঙ্গে।

তবে ডিআর কঙ্গোও ছিল চমক। বিশ্ব র‌্যাঙ্কিংয়ে পিছিয়ে থাকলেও তারা গ্রুপ পর্বে দারুণ লড়াই করেছে। পর্তুগালের সঙ্গে ড্র, উজবেকিস্তানের বিপক্ষে জয়—সব মিলিয়ে তারা নিজেদের শক্তির প্রমাণ দিয়েছে।

এই ম্যাচে হেরে গেলেও কঙ্গোর পারফরম্যান্স ছিল প্রশংসনীয়। তাদের রক্ষণ, আক্রমণ—সবকিছুতেই ছিল সংগঠিত প্রচেষ্টা। বিশেষ করে প্রথমার্ধে তারা ইংল্যান্ডকে বেশ চাপে রেখেছিল।

দলের অধিনায়ক চান্সেল এমবেম্বা দারুণ নেতৃত্ব দিয়েছেন। আর ইয়োয়ানে উইসা, অ্যারন ওয়ান-বিসাকা—এদের মতো খেলোয়াড়রা ম্যাচটাকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করে তুলেছিল।

ইংল্যান্ডের কোচ এই ম্যাচে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনেন। ইনজুরির কারণে দলে কিছু বদল ছিল। বুকায়ো সাকাকে বাইরে রাখা হয়, আর ননি মাদুয়েকে সুযোগ দেওয়া হয়।

ডিফেন্সে জেড স্পেন্সকে নামানো হয়, যা পরে বেশ কার্যকর প্রমাণিত হয়। এই পরিবর্তনগুলোই দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচ ঘুরিয়ে দিতে সাহায্য করে।

এই জয়ের ফলে ইংল্যান্ড এখন আরও আত্মবিশ্বাসী। তবে সামনে তাদের জন্য অপেক্ষা করছে আরও কঠিন পরীক্ষা। পরের ম্যাচে শক্তিশালী মেক্সিকোর মুখোমুখি হতে পারে তারা।

মেক্সিকো ইতোমধ্যেই দুর্দান্ত ফর্মে আছে। তাই ইংল্যান্ডকে এই ম্যাচের ভুলগুলো ঠিক করে আরও শক্তভাবে ফিরতে হবে।

এই ম্যাচটা আবারও দেখিয়ে দিল—হ্যারি কেইন শুধু একজন খেলোয়াড় নন, তিনি ইংল্যান্ডের আশা। যখন দল বিপদে পড়ে, তখনই তিনি সামনে এসে দাঁড়ান।

সমর্থকদের জন্য এই জয় শুধু একটি ম্যাচ জেতা নয়—এটা ছিল এক আবেগের যাত্রা। হতাশা থেকে উল্লাসে পৌঁছানোর গল্প।

আর এমন গল্পই তো ফুটবলকে এতটা ভালোবাসার মতো করে তোলে।