খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img
Homeস্পোটস ওয়ার্ল্ডফিফা বিশ্বকাপ স্পেশালবিশ্বরেকর্ড ভেঙেও নির্লিপ্ত মেসি! আর্জেন্টিনার নকআউট নিশ্চিত করেই সবচেয়ে খুশি লিও

বিশ্বরেকর্ড ভেঙেও নির্লিপ্ত মেসি! আর্জেন্টিনার নকআউট নিশ্চিত করেই সবচেয়ে খুশি লিও

মেসির নেতৃত্বে আর্জেন্টিনা ধীরে ধীরে নিজেদের ছন্দ খুঁজে পেয়েছে। দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে বোঝাপড়া, আক্রমণভাগের কার্যকারিতা এবং রক্ষণভাগের দৃঢ়তা তাদের অন্যতম শক্তি হয়ে উঠেছে। ফলে সমর্থকরাও আশাবাদী যে দল আরও দূর পর্যন্ত এগিয়ে যেতে পারবে।

ফুটবল বিশ্বের অন্যতম সেরা তারকা লিয়োনেল মেসি আবারও প্রমাণ করলেন, ব্যক্তিগত রেকর্ডের চেয়ে দলের সাফল্যই তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বকাপ মঞ্চে জোড়া গোল করে আর্জেন্টিনাকে গুরুত্বপূর্ণ জয় এনে দেওয়ার পাশাপাশি তিনি গড়েছেন নতুন ইতিহাস। কিংবদন্তি জার্মান স্ট্রাইকার মিরোস্লাভ ক্লোজেকে পেছনে ফেলে বিশ্বকাপের অন্যতম শীর্ষ গোলদাতার কাতারে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করেছেন। তবে এই অর্জন নিয়ে উচ্ছ্বাস দেখানোর পরিবর্তে মেসি সবচেয়ে বেশি খুশি হয়েছেন আর্জেন্টিনার নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত হওয়ায়।

অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ শেষে সংবাদমাধ্যমের সামনে মেসি স্পষ্টভাবে জানান, ব্যক্তিগত রেকর্ড নয়, দলের জয়ই তাঁকে সবচেয়ে বেশি আনন্দ দিয়েছে। তাঁর মতে, এই জয় আর্জেন্টিনার জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ছিল এবং খেলোয়াড়দের কঠোর পরিশ্রমের ফল হিসেবেই এসেছে।

মেসি বলেন, দলের নকআউট পর্বে ওঠা তাদের মানসিকভাবে অনেক স্বস্তি দিয়েছে। টুর্নামেন্টের বাকি অংশে এই আত্মবিশ্বাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তিনি মনে করেন, বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচই কঠিন এবং প্রতিটি জয় অর্জন করতে হলে শতভাগ মনোযোগ ও পরিশ্রম দিতে হবে।

আধুনিক ফুটবলে কোনো প্রতিপক্ষকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই বলে মনে করেন মেসি। অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচটি তারই প্রমাণ। যদিও স্কোরলাইনে আর্জেন্টিনা এগিয়ে ছিল, মাঠের লড়াই ছিল বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ।

মেসির ভাষায়, বর্তমান ফুটবলে ছোট-বড় কোনো দল নেই। প্রতিটি দলই নিজেদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করে। তাই ম্যাচ জিততে হলে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সর্বোচ্চ মনোযোগ ধরে রাখতে হয়। তিনি বলেন, জয় সহজে আসবে না—এটা তারা আগেই জানতেন। তাই পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলেই কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জন করতে হয়েছে।

বিশ্বকাপের মঞ্চে নতুন রেকর্ড গড়া যে কোনো ফুটবলারের জন্যই গর্বের বিষয়। কিন্তু মেসির মানসিকতা বরাবরই কিছুটা আলাদা। তিনি বিশ্বাস করেন, ব্যক্তিগত সাফল্য তখনই মূল্যবান হয়ে ওঠে যখন তা দলের উপকারে আসে।

অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে তাঁর দুটি গোল শুধু রেকর্ডই গড়েনি, একই সঙ্গে আর্জেন্টিনার নকআউট নিশ্চিত করতেও বড় ভূমিকা রেখেছে। তাই রেকর্ডের চেয়ে দলের অগ্রগতিকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। এই দৃষ্টিভঙ্গিই তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে এবং ফুটবলপ্রেমীদের কাছে আরও সম্মানিত করেছে।

আর্জেন্টিনা দলের বর্তমান সাফল্যের পেছনে খেলোয়াড়দের পারস্পরিক সম্পর্কও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন মেসি। তিনি জানান, দলের সবাই একসঙ্গে সময় কাটাতে ভালোবাসেন এবং অনুশীলনের সময়ও আনন্দমুখর পরিবেশ বজায় থাকে।

এই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক মাঠের পারফরম্যান্সেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। খেলোয়াড়দের মধ্যে বোঝাপড়া বাড়ে, আত্মবিশ্বাস তৈরি হয় এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও দল একসঙ্গে লড়াই করতে পারে। মেসির মতে, দলগত ঐক্যই বড় টুর্নামেন্টে সফল হওয়ার অন্যতম প্রধান শর্ত।

মেসি সবসময়ই সমর্থকদের ভালোবাসাকে বিশেষ গুরুত্ব দেন। তিনি মনে করেন, ফুটবল শুধুমাত্র একটি খেলা নয়; এটি কোটি মানুষের আবেগের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। তাই মাঠে ভালো খেলে সমর্থকদের মুখে হাসি ফোটানোই তাঁর অন্যতম লক্ষ্য।

তিনি বলেন, আর্জেন্টিনা ইতোমধ্যেই অসংখ্য সমর্থককে আনন্দ দিয়েছে। তবে এখানেই থেমে থাকতে চায় না দল। টুর্নামেন্টের পরবর্তী ধাপগুলোতেও একই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আরও সাফল্য অর্জনের লক্ষ্য তাদের।

ম্যাচে একটি পেনাল্টি মিস করার ঘটনা নিয়েও কথা বলেছেন মেসি। তিনি স্বীকার করেন, সেই মুহূর্তে নিজের ওপর বেশ রাগ হয়েছিল। একজন পেশাদার ফুটবলারের কাছে এমন সুযোগ হাতছাড়া হওয়া হতাশাজনক।

তবে তিনি এটাও মনে করেন যে, একটি ভুল নিয়ে পড়ে থাকলে সামনে এগোনো সম্ভব নয়। ম্যাচ শেষে দলের জয় এবং নকআউট নিশ্চিত হওয়ার আনন্দ সেই হতাশাকে অনেকটাই মুছে দিয়েছে। একজন অভিজ্ঞ অধিনায়কের মতোই তিনি ব্যক্তিগত ব্যর্থতার চেয়ে সামগ্রিক সাফল্যকে বড় করে দেখেছেন।

এই জয় আর্জেন্টিনার জন্য শুধু তিন পয়েন্ট নয়, বরং বাড়তি আত্মবিশ্বাসও এনে দিয়েছে। নকআউট পর্বে প্রতিটি ম্যাচ হবে আরও কঠিন, তবে দল এখন অনেক বেশি প্রস্তুত এবং আত্মবিশ্বাসী।

মেসির নেতৃত্বে আর্জেন্টিনা ধীরে ধীরে নিজেদের ছন্দ খুঁজে পেয়েছে। দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে বোঝাপড়া, আক্রমণভাগের কার্যকারিতা এবং রক্ষণভাগের দৃঢ়তা তাদের অন্যতম শক্তি হয়ে উঠেছে। ফলে সমর্থকরাও আশাবাদী যে দল আরও দূর পর্যন্ত এগিয়ে যেতে পারবে।

লিয়োনেল মেসির ক্যারিয়ারে ব্যক্তিগত রেকর্ডের অভাব নেই। তবুও তিনি বারবার দেখিয়েছেন, তাঁর কাছে দলের সাফল্যই সবার আগে। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল করে নতুন ইতিহাস গড়লেও তিনি সবচেয়ে বেশি আনন্দ পেয়েছেন আর্জেন্টিনার নকআউট নিশ্চিত হওয়ায়। এই মানসিকতাই তাঁকে শুধু একজন মহান ফুটবলার নয়, একজন আদর্শ দলনেতা হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত করেছে। বিশ্বকাপের পরবর্তী অধ্যায়ে আর্জেন্টিনার সামনে আরও বড় চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে, আর সেই পথচলায় মেসির নেতৃত্বই দলের সবচেয়ে বড় ভরসা।