খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img
Homeস্পোটস ওয়ার্ল্ডফিফা বিশ্বকাপ স্পেশালবিশ্বকাপের স্পিড মনস্টাররা! টপ ১০ দ্রুততম খেলোয়াড়ের তালিকায় বড় চমক

বিশ্বকাপের স্পিড মনস্টাররা! টপ ১০ দ্রুততম খেলোয়াড়ের তালিকায় বড় চমক

অস্ট্রেলিয়ার লেফট-ব্যাক জর্ডান বস প্রথম রাউন্ডে ঘণ্টায় ৩৬.৭ কিলোমিটার গতিতে দৌড়ে সবার উপরে উঠে এসেছেন। সাধারণত রক্ষণভাগের খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে এত বেশি গতি খুব কমই দেখা যায়। কিন্তু মাঠে তার দ্রুত ছুটে চলা ফুটবলপ্রেমীদের নজর কেড়েছে।

ফুটবল বিশ্বকাপ মানেই গোল, উত্তেজনা এবং অবিশ্বাস্য সব মুহূর্ত। তবে শুধু গোল করাই নয়, আধুনিক ফুটবলে গতি এখন সবচেয়ে বড় অস্ত্রগুলোর একটি। মাঠে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে খেলার মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে একজন দ্রুতগতির খেলোয়াড়। বিশ্বকাপের প্রথম রাউন্ডের ম্যাচগুলো শেষ হওয়ার পর এবার প্রকাশিত হয়েছে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে দ্রুতগতির ফুটবলারদের তালিকা, আর সেখানে দেখা গেছে বেশ কয়েকটি বড় চমক।

সবচেয়ে বড় বিস্ময় তৈরি করেছেন অস্ট্রেলিয়ার ফুটবলার জর্ডান বস। অনেকের ধারণা ছিল কিলিয়ান এমবাপ্পে কিংবা আর্লিং হালান্ড তালিকার শীর্ষে থাকবেন, কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে সবার আগে উঠে এসেছেন এই অস্ট্রেলিয়ান তারকা।

অস্ট্রেলিয়ার লেফট-ব্যাক জর্ডান বস প্রথম রাউন্ডে ঘণ্টায় ৩৬.৭ কিলোমিটার গতিতে দৌড়ে সবার উপরে উঠে এসেছেন। সাধারণত রক্ষণভাগের খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে এত বেশি গতি খুব কমই দেখা যায়। কিন্তু মাঠে তার দ্রুত ছুটে চলা ফুটবলপ্রেমীদের নজর কেড়েছে।

এটি আরও অবাক করার মতো কারণ তিনি বিশ্বের অন্যতম দ্রুতগতির দুই তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে এবং আর্লিং হালান্ডকে পিছনে ফেলেছেন।

নরওয়ের স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ড দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন। তিনি ঘণ্টায় ৩৬.৫ কিলোমিটার গতি তুলেছেন। ইরাকের বিপক্ষে ৪–১ ব্যবধানে জয়ের ম্যাচে হালান্ড অসাধারণ পারফরম্যান্স করেন এবং দুটি গোলও করেন।

ম্যাচজুড়ে তার দ্রুতগতির দৌড় এবং আক্রমণাত্মক উপস্থিতি আবারও প্রমাণ করেছে কেন তিনি বর্তমান ফুটবল বিশ্বের অন্যতম ভয়ংকর স্ট্রাইকার।

তার সঙ্গে একই গতিতে ছিলেন তার ক্লাব সতীর্থ আবদুকোদির খুসানভ। ফলে দুজনই যৌথভাবে দ্বিতীয় অবস্থান দখল করেন।

এই তালিকায় আরেকজন অস্ট্রেলিয়ান খেলোয়াড়ও জায়গা করে নিয়েছেন। নরউইচের ফুটবলার মোহাম্মদ তুরে ঘণ্টায় ৩৫.৮ কিলোমিটার গতিতে চতুর্থ স্থানে উঠে এসেছেন।

এতে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে যে অস্ট্রেলিয়া শুধু দলীয় পারফরম্যান্সেই নয়, ব্যক্তিগত গতির দিক থেকেও বেশ শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।

নেদারল্যান্ডসের মিডফিল্ডার রায়ান গ্রাভেনবার্খ ঘণ্টায় ৩৫.৬ কিলোমিটার গতিতে পঞ্চম স্থানে আছেন। তার ঠিক কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছেন ইকুয়েডরের অ্যালান মিন্ডা।

মিডফিল্ডে খেলার পাশাপাশি এত দ্রুত গতি ধরে রাখা সত্যিই প্রশংসার বিষয়। কারণ মিডফিল্ডারদের একসঙ্গে আক্রমণ এবং রক্ষণ—দুই দিকেই কাজ করতে হয়।

Images 10000 02

সাম্প্রতিক সময়ে ইংল্যান্ডের সবচেয়ে দ্রুতগতির খেলোয়াড় কে—এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছিল। সেই বিতর্কে এবার উত্তর মিলেছে।

ইংল্যান্ডের জেড স্পেন্স ঘণ্টায় ৩৫.২ কিলোমিটার গতিতে দলের দ্রুততম খেলোয়াড় হিসেবে উঠে এসেছেন। ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ৪–২ ব্যবধানে জয়ের ম্যাচের শেষ দিকে তার শক্তিশালী এবং দ্রুতগতির দৌড় বিশেষভাবে চোখে পড়ে।

তার সঙ্গে একই গতিতে ছিলেন দক্ষিণ কোরিয়ার সন হিউং-মিন।

ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পেকে বিশ্বের দ্রুততম ফুটবলারদের একজন হিসেবে ধরা হয়। কিন্তু এবার তিনি তালিকায় নবম স্থানে রয়েছেন। তার সর্বোচ্চ গতি ছিল ঘণ্টায় ৩৫.১ কিলোমিটার।

যদিও এটি খুবই দ্রুত গতি, তবে প্রত্যাশার তুলনায় কিছুটা কম। অনেকেই ধারণা করেছিলেন তিনি হয়তো শীর্ষ তিনের মধ্যে থাকবেন।

তার পরেই রয়েছেন চেলসির পেদ্রো নেতো, যার গতি ছিল ঘণ্টায় ৩৪.৮ কিলোমিটার। একই গতিতে ছিলেন বসনিয়ার এসমির বাজরাকতারেভিচ।

বিশ্বকাপের এখনও আরও দুই রাউন্ডের ম্যাচ বাকি রয়েছে। ফলে খেলোয়াড়দের সামনে নিজেদের গতি এবং দক্ষতা দেখানোর আরও সুযোগ রয়েছে।

ইতোমধ্যে দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচগুলোও শুরু হয়ে গেছে। কানাডা শক্তিশালী পারফরম্যান্স দেখিয়ে কাতারকে ৬–০ ব্যবধানে হারিয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রও দুর্দান্ত শুরু ধরে রেখে অস্ট্রেলিয়াকে ২–০ গোলে পরাজিত করেছে।

স্কটল্যান্ডের জন্য অবশ্য পরিস্থিতি কিছুটা কঠিন হয়ে উঠেছে। মরক্কোর কাছে ১–০ ব্যবধানে হার তাদের পরবর্তী পথকে আরও চ্যালেঞ্জিং করে তুলেছে।

ফুটবলে গতি এখন আর শুধু বাড়তি সুবিধা নয়, বরং ম্যাচ জয়ের অন্যতম প্রধান উপাদান। বিশ্বকাপের প্রথম পর্বেই দেখা গেছে, পরিচিত তারকাদের পাশাপাশি নতুন মুখেরাও আলো ছড়াতে পারেন। জর্ডান বসের মতো চমকপ্রদ পারফরম্যান্সই ফুটবলকে আরও রোমাঞ্চকর করে তোলে।

এখন দেখার বিষয়, পরবর্তী ম্যাচগুলোতে কে নিজের গতির মাধ্যমে নতুন ইতিহাস তৈরি করতে পারেন।