বিশ্বখ্যাত টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব ও ব্যবসায়ী কিম কার্দাশিয়ান এবার আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন মনাকো গ্র্যান্ড প্রিক্সে উপস্থিত হয়ে। ফেরারি তারকা লুইস হ্যামিল্টনের সঙ্গে সম্পর্ক প্রকাশ্যে আনার পর প্রথমবারের মতো রেস ট্র্যাকে এসে প্রেমিককে সমর্থন জানাতে দেখা গেছে তাকে। এই উপস্থিতি শুধু মোটরস্পোর্টস ভক্তদেরই নয়, বিনোদন জগতের অনুসারীদেরও দৃষ্টি কেড়েছে।
শনিবার সকালে মনাকোর বিখ্যাত স্ট্রিট সার্কিটে পৌঁছান কিম কার্দাশিয়ান। তার সঙ্গে ছিলেন ছোট বোন খলোয়ে কার্দাশিয়ান এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মীরা। আগের রাতেই মনাকোর উপকূলে একটি বিলাসবহুল ইয়টে তাকে দেখা গিয়েছিল।
কালো টপ, জিন্স এবং সানগ্লাসে স্বাভাবিক কিন্তু স্টাইলিশ লুকে কিমকে দেখা যায় হারবার এলাকার পাশ দিয়ে হাঁটতে। যোগ্যতা নির্ধারণী পর্ব শুরুর আগে তিনি প্যাডকে উপস্থিত হন, যা ছিল সম্পর্ক প্রকাশের পর হ্যামিল্টনের রেসে তার প্রথম আনুষ্ঠানিক উপস্থিতি।
কিম কার্দাশিয়ান এবং লুইস হ্যামিল্টন দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বন্ধু ছিলেন। তবে গত বছরের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাসপেনে নববর্ষ উদযাপনের সময় তাদের একসঙ্গে দেখা যাওয়ার পর সম্পর্কের গুঞ্জন শুরু হয়।
পরবর্তীতে ফেব্রুয়ারিতে সুপার বোল অনুষ্ঠানে তারা প্রকাশ্যে একসঙ্গে উপস্থিত হয়ে সম্পর্কের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাদের সম্পর্কের ইঙ্গিত দেখা যায়। গত কয়েক মাসে তাদের সম্পর্ক আরও গভীর হয়েছে বলে ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলোর দাবি।
সম্প্রতি প্রথমবারের মতো কিম কার্দাশিয়ানের চার সন্তানের সঙ্গে লুইস হ্যামিল্টনকে দেখা যায়। কিমের সাবেক স্বামী কানিয়ে ওয়েস্টের সঙ্গে তার সন্তানদের জন্ম।
ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানায়, কিম ও হ্যামিল্টনের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর এবং আন্তরিক। শুধু তাই নয়, কার্দাশিয়ান পরিবারের সদস্যরাও হ্যামিল্টনকে বেশ পছন্দ করেন এবং তাকে পরিবারের অংশ হিসেবেই দেখছেন।
এই বিষয়টি তাদের সম্পর্ককে আরও দৃঢ় ও স্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন অনেকেই।
কিম কার্দাশিয়ান সাধারণত ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে খুব বেশি প্রকাশ্যে কথা বলেন না। তবে সম্প্রতি তিনি ভক্তদের জন্য একটি বিশেষ মুহূর্ত শেয়ার করেন।
সোমবার একটি সাইকেল ভ্রমণের সময় লুইস হ্যামিল্টনের তোলা একটি সেলফি নিজের ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করেন কিম। ছবিটি দ্রুতই সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায় এবং তাদের সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।
মনাকো গ্র্যান্ড প্রিক্সের অনুশীলন সেশনে ফেরারি বেশ শক্তিশালী পারফরম্যান্স দেখিয়েছে। শুক্রবারের অনুশীলনে লুইস হ্যামিল্টন ছিলেন সবচেয়ে দ্রুতগতির চালক। তার ঠিক পেছনেই ছিলেন সতীর্থ চার্লস লেক্লার।
অন্যদিকে রেড বুলের ম্যাক্স ভার্স্টাপেন তৃতীয় দ্রুততম সময় করেন। মার্সিডিজ চালকরাও প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে রয়েছেন।
এই পারফরম্যান্সের কারণে ফেরারি শিবিরে আত্মবিশ্বাস বেড়েছে। অনেকেই মনে করছেন, মনাকোর মতো ঐতিহাসিক ট্র্যাকে হ্যামিল্টন জয়ের জন্য শক্তিশালী দাবিদার হতে পারেন।
যদিও ট্র্যাকে ফেরারির পারফরম্যান্স ইতিবাচক, তবুও দলটি একটি অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে। টিম প্রধান ফ্রেডেরিক ভাস্যুর স্বাস্থ্যগত কারণে শনিবার সার্কিটে উপস্থিত থাকতে পারেননি।
ফেরারির এক বিবৃতিতে জানানো হয়, কিছু মেডিক্যাল পরীক্ষার পর তাকে স্থানীয় একটি চিকিৎসা কেন্দ্রে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তার স্বাস্থ্য সম্পর্কে অতিরিক্ত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
দলটি আশা করছে তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে আবার ট্র্যাকে ফিরবেন।
ফেরারিতে যোগ দেওয়ার পর প্রথম মৌসুমে লুইস হ্যামিল্টন নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হন। প্রত্যাশা অনুযায়ী ফল না পাওয়ায় সমালোচনারও শিকার হতে হয় তাকে।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করেছে। কানাডিয়ান গ্র্যান্ড প্রিক্সে দ্বিতীয় স্থান অর্জন তার আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। মনাকো সার্কিট অতীতেও হ্যামিল্টনের জন্য সফলতার মঞ্চ ছিল। তাই এবারও তিনি শক্তিশালী ফলের আশায় রয়েছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মনাকোতে ওভারটেকিংয়ের সুযোগ সীমিত হওয়ায় যোগ্যতা নির্ধারণী পর্বের ফলাফলই মূল রেসের ভাগ্য অনেকাংশে নির্ধারণ করে।
রেসিংয়ের বাইরে সম্প্রতি ফুটবল নিয়েও আলোচনায় এসেছেন হ্যামিল্টন। বিশ্বকাপে সমর্থনের প্রশ্নে তিনি জানান, ইংল্যান্ড তার নিজ দেশ হলেও ব্রাজিলের প্রতি তার আলাদা ভালোবাসা রয়েছে।
হ্যামিল্টনের ভাষ্য অনুযায়ী, ছোটবেলা থেকেই তিনি ব্রাজিল দলের খেলা দেখতে পছন্দ করতেন। ব্রাজিলের রঙ, সংস্কৃতি এবং খেলোয়াড়দের দক্ষতা তাকে সবসময় আকৃষ্ট করেছে।
তিনি আরও বলেন, ব্রাজিলের অনেক খেলোয়াড় কঠিন পরিবেশ থেকে উঠে এসে বিশ্বজয় করেছেন, যা তাকে অনুপ্রাণিত করে। ব্রাজিলিয়ান সংস্কৃতির এই সংগ্রামী চেতনার প্রতি তার গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে।
মনাকো গ্র্যান্ড প্রিক্স বরাবরই শুধু একটি মোটর রেস নয়, বরং বিশ্বের অন্যতম গ্ল্যামারাস ক্রীড়া আয়োজন। সেখানে কিম কার্দাশিয়ানের উপস্থিতি এবারের আসরকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
একদিকে লুইস হ্যামিল্টনের জয়ের লড়াই, অন্যদিকে কিম কার্দাশিয়ানের সমর্থন—এই দুইয়ের সমন্বয়ে মনাকোর রেস উইকেন্ড এখন ভক্তদের কাছে বিশেষ আগ্রহের বিষয় হয়ে উঠেছে। এখন দেখার বিষয়, ট্র্যাকে হ্যামিল্টন কি তার দুর্দান্ত ফর্ম ধরে রেখে ফেরারিকে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য এনে দিতে পারেন কিনা।

