Become a member

Get the best offers and updates relating to Newsbangla24x7.com

― Advertisement ―

spot_img
Homeবাংলা নিউজ স্পেশালজাতীয়সীমান্ত বৈঠকে বিজিবির কঠোর অবস্থান, বিএসএফকে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা

সীমান্ত বৈঠকে বিজিবির কঠোর অবস্থান, বিএসএফকে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা

বিজিবির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের কিছু গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মে বাংলাদেশের সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে নেতিবাচক, বিভ্রান্তিকর এবং উসকানিমূলক তথ্য প্রচার করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে সাম্প্রতিক উত্তেজনা, অবৈধ পুশইনের অভিযোগ এবং আকাশসীমা লঙ্ঘনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে নয়াদিল্লিতে শুরু হচ্ছে বিজিবি ও বিএসএফের মহাপরিচালক (ডিজি) পর্যায়ের ৫৭তম সীমান্ত সম্মেলন। সোমবার থেকে শুরু হওয়া চার দিনব্যাপী এই বৈঠক চলবে আগামী ১১ জুন পর্যন্ত। সীমান্ত নিরাপত্তা, মানবাধিকার, পরিবেশ এবং দ্বিপক্ষীয় আস্থা বৃদ্ধিসহ মোট ১৬টি গুরুত্বপূর্ণ এজেন্ডা এবারের আলোচনায় তুলে ধরবে বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিজিবি)।

এবারের বৈঠকে বিজিবির প্রধান অগ্রাধিকার থাকবে সীমান্ত হত্যা এবং অবৈধ পুশইন বন্ধের বিষয়টি। বিজিবি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত দুই বছরে বিএসএফের মাধ্যমে ২ হাজার ২০০-এরও বেশি ব্যক্তিকে বাংলাদেশে পুশইন করা হয়েছে। এদের মধ্যে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সদস্য এবং ভারতীয় নাগরিকও ছিলেন।

বিশেষ করে গত মাস থেকে চলতি জুন মাস পর্যন্ত দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে দুই শতাধিক ব্যক্তিকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব ঘটনার ব্যাখ্যা বিএসএফের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে জানতে চাইবে বিজিবি।

সীমান্ত এলাকায় নজরদারির জন্য ভারতের ড্রোন ব্যবহারের বিষয়টি এবার প্রথম সারির আলোচ্যসূচিতে স্থান পেয়েছে। বিজিবির দাবি, বিএসএফ কিংবা ভারতীয় নাগরিকদের পরিচালিত ড্রোন প্রায়ই বাংলাদেশের আকাশসীমায় অনুপ্রবেশ করছে।

বিশেষ করে সীমান্তবর্তী নদী ও দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে নজরদারির জন্য এসব ড্রোন ব্যবহার করা হচ্ছে। পাশাপাশি পঞ্চগড়, লালমনিরহাট এবং খাগড়াছড়ি অঞ্চলে ভারতীয় হেলিকপ্টার বাংলাদেশের আকাশসীমায় প্রবেশের ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ ধরনের অনুপ্রবেশ বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানাবে বিজিবি।

বাংলাদেশ নেটওয়ার্ক প্রকল্পের আওতায় পাটগ্রাম-দহগ্রাম-আঙ্গরপোতা এলাকায় অপটিক্যাল ফাইবার সংযোগ স্থাপনের বিষয়টিও এবারের বৈঠকে গুরুত্ব পাবে।

দহগ্রাম-আঙ্গরপোতা ছিটমহলে আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে তিনবিঘা করিডোর ব্যবহারের অনুমতি প্রয়োজন। এই করিডোর ছাড়া বিকল্প কোনো সংযোগ পথ না থাকায় বিষয়টি নিয়ে ভারতীয় পক্ষের সহযোগিতা কামনা করবে বিজিবি।

সীমান্তবর্তী পরিবেশগত সমস্যাও এবার বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে উঠে আসছে। অভিযোগ রয়েছে, ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলা এলাকা থেকে চারটি খালের মাধ্যমে শিল্পবর্জ্য বাংলাদেশের আখাউড়া অঞ্চলে প্রবেশ করছে।

এর ফলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কয়েকটি উপজেলার নদী-নালা ও খালের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি কৃষিজমির উর্বরতা হ্রাস পাচ্ছে এবং পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় আখাউড়া সীমান্তের চারটি খালের মুখে বর্জ্য শোধনাগার বা ইটিপি (Effluent Treatment Plant) স্থাপনের প্রস্তাব দেবে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে এই প্রকল্পের ব্যয়ভার ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে বহনের আহ্বান জানানো হবে।

এবারের সীমান্ত বৈঠকে প্রথমবারের মতো গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট একটি প্রস্তাব উত্থাপন করতে যাচ্ছে বিজিবি।

বিজিবির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের কিছু গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মে বাংলাদেশের সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে নেতিবাচক, বিভ্রান্তিকর এবং উসকানিমূলক তথ্য প্রচার করা হচ্ছে।

এসব ভুয়া তথ্য ও ভিডিও সীমান্তবর্তী জনগণের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে বলে মনে করছে বাংলাদেশ। তাই এ ধরনের বিভ্রান্তিকর প্রচারণা বন্ধে ভারতের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের কাছে বিএসএফের মাধ্যমে অনুরোধ জানানো হবে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের বিভিন্ন প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, বিএসএফও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আলোচনায় আনতে যাচ্ছে।

তাদের আলোচ্য বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে সীমান্তে বিএসএফ সদস্য ও ভারতীয় নাগরিকদের ওপর কথিত হামলার ঘটনা, সীমান্ত বেড়া ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ এবং আন্তঃসীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধের বিষয়।

এ ছাড়া অপরাধীদের সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে প্রবেশ রোধ, সীমান্ত অবকাঠামো উন্নয়ন, দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধি এবং নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদারের বিষয়গুলোও বিএসএফের এজেন্ডায় থাকতে পারে।

ভারতীয় পক্ষ বাংলাদেশে অবস্থানরত ভারতীয় বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টিও আলোচনায় আনতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

চার দিনব্যাপী এই গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত সম্মেলনে বাংলাদেশের ১৫ সদস্যের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী।

অন্যদিকে, ভারতীয় প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে থাকবেন বিএসএফ প্রধান প্রবীণ কুমার।

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে প্রায় ৪ হাজার কিলোমিটারেরও বেশি দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। সীমান্ত নিরাপত্তা, মানবিক বিষয়, অবৈধ অনুপ্রবেশ, পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ এবং পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে ডিজি পর্যায়ের এই বৈঠক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সীমান্তে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে নিয়মিত সংলাপ এবং পারস্পরিক সহযোগিতার বিকল্প নেই। তাই এবারের বৈঠকে উত্থাপিত বিষয়গুলো দুই দেশের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।