খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের নতুন মোড়:সৌদি হামলার জবাবে হুঁশিয়ারি হুথিদের ?

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা আরও তীব্র আকার ধারণ করছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বিরোধের প্রভাব এখন সরাসরি ইয়েমেনের সংঘাতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। হুথি বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রিত...
Homeবিশ্ব সংবাদমধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের নতুন মোড়:সৌদি হামলার জবাবে হুঁশিয়ারি হুথিদের ?

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের নতুন মোড়:সৌদি হামলার জবাবে হুঁশিয়ারি হুথিদের ?

এই হামলা কেবল একটি সামরিক অভিযান নয়, বরং এটি নতুন করে সংঘাতকে আরও উসকে দেওয়ার পদক্ষেপ। তাদের ভাষায়, “উত্তেজনার জবাবে উত্তেজনা বৃদ্ধি” এখন নতুন বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা আরও তীব্র আকার ধারণ করছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বিরোধের প্রভাব এখন সরাসরি ইয়েমেনের সংঘাতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। হুথি বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রিত গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী হোদাইদাহকে কেন্দ্র করে সৌদি আরব ও হুথি গোষ্ঠীর মধ্যে উত্তেজনা দ্রুত বাড়ছে। সর্বশেষ হামলার পর উভয় পক্ষের কড়া বক্তব্যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে যে, পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

হুথি-নিয়ন্ত্রিত সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দাবি, শুক্রবার গভীর রাতে ইয়েমেনের পশ্চিমাঞ্চলীয় হোদাইদাহ বন্দরনগরীতে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন বাহিনী ব্যাপক হামলা চালিয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই হামলার ঘটনায় হুথিরা সৌদি আরবকে সরাসরি দায়ী করেছে এবং কঠোর প্রতিশোধ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, এই হামলা কেবল একটি সামরিক অভিযান নয়, বরং এটি নতুন করে সংঘাতকে আরও উসকে দেওয়ার পদক্ষেপ। তাদের ভাষায়, “উত্তেজনার জবাবে উত্তেজনা বৃদ্ধি” এখন নতুন বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে।

হুথি-সমর্থিত সংবাদমাধ্যম আল মাসিরাহ টিভি জানিয়েছে, হামলার প্রধান লক্ষ্য ছিল ইয়েমেনের টেলিযোগাযোগ কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন স্থাপনা। এছাড়া লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ কামারান দ্বীপেও বিমান হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ওই হামলায় অন্তত একজন নারী আহত হয়েছেন। যদিও হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা বা ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ এখনও প্রকাশ করা হয়নি।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা হোদাইদাহ বন্দরের আশপাশে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন। তবে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের পক্ষ থেকে বন্দরে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।

জোটের দাবি, তারা আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনে সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে অভিযান পরিচালনা করে এবং বেসামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু বানায় না।

হোদাইদাহ বন্দর ইয়েমেনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রবন্দরগুলোর একটি। বিশেষ করে হুথি-নিয়ন্ত্রিত উত্তর ইয়েমেনে খাদ্য, জ্বালানি, ওষুধ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহের প্রধান প্রবেশদ্বার এটি।

একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মানবিক সংস্থার ত্রাণ সহায়তার বড় অংশও এই বন্দর দিয়ে দেশটিতে প্রবেশ করে। ফলে এই বন্দরকে ঘিরে যেকোনো সামরিক অভিযান ইয়েমেনের মানবিক সংকটকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি পাল্টা বিবৃতিতে হুথি বিদ্রোহীদেরই বর্তমান উত্তেজনার জন্য দায়ী করেছেন।

তার অভিযোগ, হুথিরা লোহিত সাগরে আন্তর্জাতিক নৌপথ ব্যবহারকারী জাহাজে ধারাবাহিকভাবে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে আঞ্চলিক নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলেছে।

তিনি এসব হামলাকে “বেপরোয়া” ও “কাপুরুষোচিত” কর্মকাণ্ড হিসেবে উল্লেখ করেন।

সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, হুথিদের হামলা বন্ধ না হলে প্রয়োজনীয় সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে।

আল-মালিকি বলেন, যদি হুথি গোষ্ঠী তাদের শত্রুতামূলক কার্যক্রম চালিয়ে যায়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জোট সব ধরনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলেও তিনি জানান।

গত সপ্তাহে হুথি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগরে কয়েকটি সৌদি তেলবাহী ট্যাংকার লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এতে অন্তত একটি ট্যাংকার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায়।

হুথিদের দাবি, ওই জাহাজগুলো তাদের ঘোষিত নৌ অবরোধ অমান্য করেছিল। এই ঘটনার পর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দ্রুত বাড়তে শুরু করে।

হুথি গোষ্ঠী গত ২০ জুলাই থেকে লোহিত সাগরের নির্দিষ্ট নৌপথে অবরোধ কার্যকর করার ঘোষণা দেয়।

তাদের দাবি, এর এক সপ্তাহ আগে রাজধানী সানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চালানো হামলার প্রতিবাদ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। হুথিরা সেই হামলার জন্য সৌদি আরবকে দায়ী করে আসছে।

অন্যদিকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকার বিমানবন্দরে হামলার দায় স্বীকার করেছে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, অনুমতি ছাড়া একটি ইরানি বিমান অবতরণের চেষ্টা করায় ওই অভিযান চালানো হয়েছিল।

হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি বলেন, ২০২২ সালে কার্যকর হওয়া অনানুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতির পর উভয় পক্ষের মধ্যে যে সীমিত শান্তিপূর্ণ পরিস্থিতি বজায় ছিল, সাম্প্রতিক হামলার মাধ্যমে তার কার্যত অবসান ঘটেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, চলমান পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না এলে ইয়েমেনের সংঘাত আবারও পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে রূপ নিতে পারে। একই সঙ্গে লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক নৌপথ এবং পুরো মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা নতুন করে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে স্পষ্ট হয়েছে যে, ইয়েমেনের সংঘাত আর কেবল দেশটির অভ্যন্তরীণ সংকটে সীমাবদ্ধ নেই। বরং এটি সৌদি আরব, ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ আঞ্চলিক শক্তিগুলোর কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বিতার অংশ হয়ে উঠেছে। হোদাইদাহ বন্দরে হামলা, লোহিত সাগরে নৌ নিরাপত্তা সংকট এবং পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার না হলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
সূত্র: আল জাজিরা